কলকাতায় নির্মাণাধীন গুদামের ছাদ ভেঙে নিহত বেড়ে ১১

ফন্ট সাইজ:

দক্ষিণ কলকাতার তারাতলায় ট্রান্সপোর্ট ডিপো রোডে আচমকাই ভেঙে পড়ে নির্মাণাধীন একটি বিশাল গুদামের ছাদ। দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ১০ জন শ্রমিক। জানা গেছে, বুধবার ৫ জনকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছিল। বৃহস্পতিবার আরও ৬ জনকে মৃত অবস্থায় ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে বের করা হয়। আরও কয়েকজনের আটকে থাকার আশঙ্কা করছেন উদ্ধারকারীরা। ইতিমধ্যেই ঘটনাস্থল থেকে মোট ২৪ জন শ্রমিককে জখম অবস্থায় এসএসকেএম হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। সেখানে তাদের চিকিৎসা চলছে। আহতদের মধ্যে দু’জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

বুধবার দুপুরে দুর্ঘটনা ঘটলেও বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত উদ্ধার কাজ চলছে। জানা গেছে, দুর্ঘটনাস্থলে লোহার কাঠামো ও কংক্রিটের ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েছিলেন প্রায় ৪০ জন শ্রমিক। পুলিশ, দমকলের সঙ্গে রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর সদস্যেরা উদ্ধারকাজে হাত লাগিয়েছিলেন। পরে রাজ্য সরকারের অনুরোধে ভারতীয় সেনা এবং জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী তাতে যোগ দেয়। হাইড্রোলিক ক্রেন দিয়ে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধারকাজ শুরু হয়। ভারী ভারী লোহার বিম ওই ক্রেনের সাহায্যে তুলে নিচে আটকে থাকা ব্যক্তিদের বের করার চেষ্টা চলে। এছাড়া, বিভিন্ন দিক থেকে গ্যাস কাটার দিয়ে লোহা কেটে ফাঁকা অংশ তৈরি করে উদ্ধারের চেষ্টা করা হয়। কাউকে কাউকে সেখান দিয়ে বের করা সম্ভব হয়। লোহার বিমের গায়ে লেগে ছিল রক্ত ও মাংসপিণ্ড।

জানা গেছে, হাইড্রোলিক ক্রেন দিয়ে গুদামের ভেঙে পড়া কাঠামোকে টেনে ধরে রাখা হয়েছে। তারাতলার দুর্ঘটনাস্থলে গিয়ে রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল জানান, ঢালাই নিয়ম মেনে হয়নি। নির্মাণ কাজ এবং সামগ্রীও মান সম্মত ছিল না।

তারাতলাকাণ্ডের তদন্তে ইতিমধ্যেই বিশেষ তদন্তকারী দল বা সিট গঠন করেছে পুলিশ। তদন্তকারী দলের মধ্যে রয়েছেন কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার পদমর্যাদার এক আধিকারিক, হোমিসাইড শাখার ওসিসহ গোয়েন্দা বিভাগের চার জন ও তারাতলা পুলিশ স্টেশনের দু’জন সাব-ইন্সপেক্টর। তদন্ত প্রক্রিয়ার তত্বাবধায়কের দায়িত্বে থাকছেন গোয়েন্দা বিভাগের ডেপুটি কমিশনার।

দুর্ঘটনার দায়ে গুদামের মালিক শম্ভুনাথ বেহরাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশ সূত্রে খবর, কলকাতা পোর্টের জমি ৩০ বছরের লিজে নিয়ে বেহরা ব্রাদার্স নামে একটি চা সংস্থা এই গুদাম তৈরি করছিল দেড় বছর ধরে। স্বতঃপ্রণোদিতভাবে পুলিশ শম্ভুনাথের বিরুদ্ধে অনিচ্ছাকৃত খুনের মামলা রুজু করেছে। রাতেই গুদামের সুপারভাইজ়ারসহ প্রায় ন’জনকে আটক করে তারাতলা থানায় জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। তার পর শম্ভুসহ মোট পাঁচ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন-পেশায় স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ার কমল সামন্ত, সুপারভাইজ়ার সৈয়দ মহম্মদ গুলজ়ার, গুদামে কর্মী জোগান দেওয়া (লেবার সাপ্লায়ার) দিবাকর ভান্ডারী এবং পুরসভায় গুদামের কাঠামোর নকশা (বিল্ডিং প্ল্যান) পাশ করাতে সাহায্য করা (ব্রোকার) আবদুল হামিদ।

দুর্ঘটনার পর বুধবার ঘটনাস্থলে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী তৃণমূল সরকারের আমলে অনুমোদন দেয়া সব নির্মাণ কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। সেই সঙ্গে সব অনুমোদিত নকশার অডিটেরও নির্দেশও দিয়েছেন। এদিকে তারাতলা কাণ্ডে রাজ্য সরকার মৃতদের পরিবারকে দশ লাখ রুপি আর্থিক সাহা্য্য দেয়ার কথা ঘোষণা করেছেন। আহতদের দেওয়া হবে এক লাখ রুপি সহায়তা। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বৃহস্পতিবার শোক প্রকাশ কর নিহতদের পরিবারকে দুই লাখ রুপি সহায়তা প্রদানের কথা ঘোষণা করেছেন।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন