পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের দেড় মাসের মধ্যে তৃণমূল কংগ্রেস থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়লেন মমতা বন্দোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দোপাধ্যায়। দলের বিদ্রোহী গোষ্ঠী সোমবার নিউটাউনের এক হোটেলে সবর্ভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের ব্যানারে বিশেষ অধিবেশ ডেকেছিলেন। আর সেই অধিবেশনের মঞ্চের পিছনে ব্যানারে ছিল না মমতা বন্দোপাধ্যায় বা অভিষেক বন্দোপাধ্যায়ের ছবি। ছিল সংবিধান প্রণেতা বিআর আম্বেদকার, মহাত্মা গান্ধী ও রবীন্দ্রনাথের ছবি। সেই সঙ্গে জ্বলজ্বল করেছে তৃণমূল কংগ্রেসের জোড়া ফুলের লোগোটি।
পযর্বেক্ষক মহলের প্রশ্ন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে তৈরি তৃণমূল কংগ্রেসকে কি অবশেষে গ্রাস করছে ঋতব্রতপন্থী তৃণমূল কংগ্রেস? পরিষদীয় দলের কায়দায় এবার কাউন্সিলরদেরও কার্যত নিজেদের শিবিরে টেনে নিয়েছে বিদ্রোহীদের ‘আসল’ তৃণমূল।
সোমবার বিকেলে ঋতব্রতর নেতৃত্বে নিউটাউনের হোটেলে বিশেষ অধিবেশনে হাজির ছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের ৬০ জন বিধায়ক। এছাড়াও, কলকাতার প্রায় ৭০ জন সাবেক কাউন্সিলর উপস্থিত ছিলেন ওই বৈঠকে। বৈঠকে কালীঘাটপন্থী তৃণমূল কংগ্রেসের কোনও জায়গা ছিল না। বরং এদিনের বৈঠকে তৃণমূলের বিদ্রোহী শিবির দলের চেয়ারপারসনের পদ থেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরিয়ে দিয়েছে। তাৎপর্যপূর্ণভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, মমতার তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সাসপেন্ড করেছে ঋতব্রতপন্থী তৃণমূল কংগ্রেস। সেই সঙ্গে ঘোষণা করা হয়েছে আসল তৃণমূল কংগ্রেসের নতুন কমিটি।
নতুন কমিটিতে হাওড়া মধ্য কেন্দ্রের বিধায়ক অরূপ রায়কে ‘আসল’ তৃণমূলের চেয়ারপারসন হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। ভাইস চেয়ারম্যান হয়েছেন ফিরহাদ হাকিম, অরূপ বিশ্বাস ও রথীন ঘোষ। ৩০ জনকে নিয়ে নবগঠিত কমিটির সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন জাভেদ খান, সন্দীপন সাহা, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, সাবিনা ইয়াসমিন। কোষাধ্যক্ষ করা হয়েছে আখতারুজ্জামানকে।
এদিনের বৈঠকে তৃণমূল কংগ্রেসের সংবিধানের ২০ নম্বর ধারার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। সেই ধারা অনুযায়ী, প্রতি তিন বছর অন্তর দলের জাতীয় কর্মসমিতির বৈঠক ডাকার কথা। কিন্তু ২০২২ সালের পর আর তৃণমূল কংগ্রেসের জাতীয় কর্মসমিতির বৈঠক হয়নি। সেই কারণে প্রস্তাব এনে ভেঙে দেওয়া হল আগের জাতীয় কর্মসমিতি। নতুন জাতীয় কর্মসমিতি গঠন করল ঋতব্রতপন্থী ‘তৃণমূল’। সেই কর্ম সমিতির চেয়ারম্যান, সহ-সভাপতি, সম্পাদক, কোষাধ্যাক্ষ বাছাই করা হয়েছে।
