গবেষণা, নীতিনির্ধারণ এবং উন্নয়ন পরিকল্পনায় সরকারি পরিসংখ্যানের কার্যকর ব্যবহার বাড়াতে নিরাপদ মাইক্রোডেটা বিশ্লেষণাগার (মাইক্রোডেটা অ্যানালাইসিস ল্যাব) চালু করছে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)।
এই বিশ্লেষণাগারের মাধ্যমে অনুমোদিত গবেষক, শিক্ষার্থী, অর্থনীতিবিদ ও নীতিনির্ধারকেরা বিবিএসের গোপনীয়তা-সুরক্ষিত মাইক্রোডেটা ব্যবহার করে গভীরতর গবেষণার সুযোগ পাবেন। তবে কোনো অবস্থাতেই ব্যক্তি-পর্যায়ের তথ্য ল্যাবের বাইরে নেওয়া যাবে না। কঠোর নিরাপত্তা, গোপনীয়তা সুরক্ষা এবং অনুমোদন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই পরিচালিত হবে এই কার্যক্রম।
সোমবার রাজধানীর পরিকল্পনা কমিশনের একনেক সম্মেলন কক্ষে বিবিএসের নবপ্রতিষ্ঠিত মাইক্রোডেটা বিশ্লেষণাগার নিয়ে আয়োজিত অংশীজন সচেতনতামূলক এক কর্মশালায় এসব তথ্য তুলে ধরা হয়।
কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আবদুর রহিম সাকী বলেন, সরকারি বিভিন্ন অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিসংখ্যান নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে জনমনে যে প্রশ্ন ও সংশয় তৈরি হয়েছে, তা দূর করতে সরকার তথ্য সংগ্রহ ও প্রকাশ ব্যবস্থায় আরও স্বচ্ছতা আনতে চায়।
তিনি বলেন, নির্ভরযোগ্য তথ্য ছাড়া উন্নয়নের অগ্রগতি মূল্যায়ন, নীতির কার্যকারিতা পরিমাপ এবং প্রয়োজনীয় সংশোধন করা সম্ভব নয়। সরকার চায় গবেষক, বিশ্ববিদ্যালয়, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা এবং সাধারণ নাগরিক স্বাধীনভাবে সরকারি তথ্য বিশ্লেষণ করে দেশের বাস্তব চিত্র তুলে ধরতে পারেন। বিশ্বাসযোগ্য ভিত্তি তথ্য না থাকলে সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচি মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, দারিদ্র্য কমানো কিংবা সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি কতটা সফল হচ্ছে, তা নির্ভুলভাবে মূল্যায়ন করা যায় না।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারের উদ্দেশ্য শুধু তথ্য উন্মুক্ত করা নয়, বরং স্বাধীন গবেষণাকে উৎসাহিত করা, যাতে উন্নত গবেষণার মাধ্যমে সরকারি নীতিমালা আরও কার্যকর ও জবাবদিহিমূলক হয়। উন্নতমানের তথ্য সহজলভ্য হলে বিশ্ববিদ্যালয়, শিক্ষার্থী ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলো আরও গভীর গবেষণা করতে পারবে, যা জাতীয় উন্নয়ন পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।
পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব মো. ফিরোজ সরকার বলেন, দেশের পরিসংখ্যান সেবাকে আধুনিকায়নের ক্ষেত্রে এই গবেষণাগার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। স্বচ্ছ আবেদন প্রক্রিয়া, সুস্পষ্ট কার্যপদ্ধতি এবং ব্যবহারকারীবান্ধব সেবা নিশ্চিত করা হবে।
বিবিএসের ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক মোহাম্মদ ওবায়দুল ইসলাম বলেন, নতুন এই গবেষণাগার শিক্ষার্থী, গবেষক, অর্থনীতিবিদ ও নীতিনির্ধারকদের জন্য সরকারি মাইক্রোডেটা ব্যবহারে একটি নিরাপদ ও সুশাসনভিত্তিক কাঠামো তৈরি করবে।
বাংলাদেশে কোইকার কান্ট্রি ডিরেক্টর জিহুন কিম বলেন, বিবিএসের সঙ্গে যৌথভাবে ডেটা প্ল্যাটফর্ম, ডেটা ওয়্যারহাউস এবং আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন তথ্য বিনিময় ব্যবস্থা গড়ে তোলার মাধ্যমে দেশের পরিসংখ্যান অবকাঠামো আধুনিকায়নে কাজ করছে কোইকা।
কোরিয়ান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (কোইকা) সহায়তাপ্রাপ্ত 'ক্যাপাসিটি বিল্ডিং অব স্ট্যাটিসটিকস সার্ভিস বেইজড অন প্ল্যাটফর্ম (সিবিএসএসপি)' প্রকল্পের আওতায় এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়। এতে সরকারি বিভিন্ন সংস্থা, বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা এবং গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
