একটি ভারতীয় পাসপোর্ট থাকলে বিশ্বের যে কোনও দেশের ইমিগ্রেশন কাউন্টারে নিজের পরিচয় দেওয়া যায়। বিদেশে সমস্যায় পড়লে ভারত সরকারের কনস্যুলার সুরক্ষা পাওয়া যায়। সাধারণ মানুষের ধারণা, পাসপোর্ট মানেই ভারতীয় নাগরিকত্বের সবচেয়ে শক্তিশালী প্রমাণ। কিন্তু বুধবার পররাষ্ট্র মন্ত্রকের বক্তব্য নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় স্পষ্ট করেছে, পাসপোর্ট নাগরিকত্ব প্রমাণকারী কোনো নথি নয়।
পররাষ্ট্র মন্ত্রকের এই বিবৃতিটি নাগরিকত্বের চূড়ান্ত প্রমাণ হিসেবে ঠিক কী গণ্য হবে, তা নিয়ে ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। এটি এমন একটি বিষয় যা কেন্দ্র এখনও স্পষ্টভাবে সমাধান করেনি। ২০২০ সালে সংসদে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রককে প্রশ্ন করা হয়েছিল, আধার, পাসপোর্ট, ভোটার কার্ড, প্যান কার্ড বা জন্ম শংসাপত্রের মধ্যে কোনটি নাগরিকত্বের প্রমাণ? উত্তরে সরকার কোনও একক নথির নাম বলেনি। সরকার জানিয়েছিল, নাগরিকত্ব নির্ধারণ হয় ১৯৫৫ সালের নাগরিকত্ব আইন অনুযায়ী। জন্ম, বংশপরম্পরা, রেজিস্ট্রেশন, ন্যাচারালাইজেশন (স্বাভাবিকীকরণ) বা কোনও অঞ্চল ভারতের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার মাধ্যমে নাগরিকত্ব পাওয়া যেতে পারে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পাসপোর্ট মূলত আন্তর্জাতিক ভ্রমণ সহজ করার জন্য সরকার কর্তৃক জারি করা একটি ভ্রমণ নথি। এর মানে হলো, শুধুমাত্র পাসপোর্ট থাকলেই নাগরিকত্ব নির্ধারিত হয় না।
প্রকৃতপক্ষে, পাসপোর্ট পাওয়ার অর্থ এই নয় যে এটি আপনার মালিকানাধীন। পাসপোর্টের পেছনের ভাঁজে একটি নোটে উল্লেখ করা থাকে যে এটি "ভারত সরকারের সম্পত্তি" এবং সরকার আদেশ দিলে তা সমর্পণ করতে হবে।
এই বছরের শুরুতে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন(এসআইআর)
সংক্রান্ত মামলার শুনানির সময় সুপ্রিম কোর্ট নিশ্চিত করেছে, আধার নাগরিকত্বের চূড়ান্ত প্রমাণ নয়। এটি কেবল একটি পরিচয়পত্র।
ভোটার আইডি কার্ডকেও নাগরিকত্বের নথি হিসেবে গণ্য করা হয় না। এটি মূলত একটি পরিচয় ও বাসস্থানের নথি এবং এর মাধ্যমে একজন ব্যক্তি নির্বাচনের সময় তার ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন।
নাগরিকত্ব আইন অনুসারে, কোনো ব্যক্তি জন্মসূত্রে ভারতীয় হিসেবে গণ্য হন যদি তিনি ১৯৫০ সালের ২৬শে জানুয়ারী বা তার পরে, কিন্তু ১৯৮৭ সালের ১লা জুলাইয়ের আগে দেশে জন্মগ্রহণ করেন।
এখন, যদি কোনো ব্যক্তি ১৯৮৭ সালের জুলাইয়ের পরে জন্মগ্রহণ করেন, তবে তিনি নাগরিকত্বের দাবি করতে পারেন যদি তার বাবা বা মায়ের মধ্যে যেকোনো একজন নাগরিক হন। যারা ২০০৪ সালের ৩রা ডিসেম্বর বা তার পরে জন্মগ্রহণ করেছেন, তারা জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের দাবি করতে পারবেন শুধুমাত্র যদি তাদের বাবা বা মা উভয়ই ভারতীয় হন, অথবা যদি বাবা বা মায়ের মধ্যে একজন নাগরিক হন এবং জন্মের সময় অন্যজন অবৈধ অভিবাসী না হন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রকের এক কর্মকর্তা বলেছেন, "২০২৫ সালে ১.৫ কোটি পাসপোর্ট ও সংশ্লিষ্ট পরিষেবা প্রদান করা হয়েছে, যার মধ্যে শুধু পাসপোর্টের সংখ্যাই ছিল ১.৩৯ কোটি।"
পররাষ্ট্র মন্ত্রকের ঘোষণায় বিতর্ক
পাসপোর্ট ভারতীয় নাগরিকত্বের পরিচয়পত্র নয়
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা
ভারত
১ ঘন্টা আগে
২৫ জুন (বৃহস্পতিবার), ২০২৬, ১ঃ৩০ (অপরাহ্ণ)
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
