গাজায় ইসরাইলি বিমান হামলায় আল জাজিরার একজন ক্যামেরাম্যান ও একটি শিশুসহ কমপক্ষে ছয়জন নিহত হয়েছেন। এ তথ্য জানিয়েছে স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ ও উদ্ধারকর্মীরা। আল জাজিরা জানিয়েছে, শনিবার মধ্য গাজার একটি বাড়িতে হামলায় তাদের সাংবাদিক আহমেদ উইশাহ নিহত হন। এই ঘটনাকে তারা ঘৃণ্য অপরাধ বলে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে এবং বলেছে এটি সাংবাদিকদের লক্ষ্য করে হত্যার একটি পরিকল্পিত ধারা। ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) দাবি করেছে, হামাসের সামরিক শাখার একজন সদস্য ছিলেন উইশাহ। তিনি স্নাইপার অপারেশন পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত।
তবে এই দাবির পক্ষে তারা কোনো প্রমাণ দেখাতে পারেনি। গাজার হামাস-নিয়ন্ত্রিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত অক্টোবরে ইসরাইল-হামাস যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ইসরাইলি হামলায় ১০০৭ জন নিহত হয়েছেন। জাতিসংঘ এই সংস্থার দেয়া পরিসংখ্যানকে সাধারণত নির্ভরযোগ্য বলে মনে করে। আল জাজিরা বলেছে, আহমেদ উইশাহর মৃত্যু আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের একটি স্পষ্ট উদাহরণ এবং এটি সাংবাদিকদের কণ্ঠরোধের উদ্দেশ্যে পরিকল্পিত হামলার অংশ।
আইডিএফ আরও দাবি করেছে, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে উইশাহ ইসরাইলি সেনাদের বিরুদ্ধে স্নাইপার হামলার পরিকল্পনা এগিয়ে নিচ্ছিলেন। একই সঙ্গে তারা জানায়, আগের এপ্রিল মাসে নিহত হওয়া তার ভাই মোহাম্মদ উইশাহও হামাসের রকেট ও অস্ত্র উৎপাদন ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে ইসরাইলের অভিযোগ। এদিকে মধ্য গাজার বুরেইজ শরণার্থী শিবিরে ওই হামলায় উইশাহসহ আরও দুইজন নিহত হন। স্থানীয় হাসপাতাল ও হামাস নিয়ন্ত্রিত সিভিল ডিফেন্স এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। আইডিএফ দাবি করেছে, নিহতদের মধ্যে আরও দু’জন হামাসের সদস্য।
গাজার সাবেড়া এলাকায় পৃথক এক হামলায় একটি পরিবারের চার সদস্য নিহত হয়েছেন। স্থানীয় উদ্ধারকর্মী, আত্মীয়স্বজন এবং একটি হাসপাতাল এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। শিফা হাসপাতাল জানিয়েছে, এই হামলায় নিহতদের মধ্যে দুটি শিশু রয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, নিহতদের মধ্যে দু’জন নারী ও একটি শিশুও রয়েছে। নিহতদের আত্মীয় নায়েল সাফাদি এএফপিকে বলেন, তাদের হামাসের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই। তারা নিরীহ মানুষ। তারা শুধু শিশু ছিল। আরেক স্বজন মোহাম্মদ সাফাদি এপিকে বলেন, এটা কি সত্যিই যুদ্ধবিরতি? আমরা সাধারণ নাগরিক। আমি কখনো অস্ত্র হাতে নিইনি।
গাজার বিভিন্ন এলাকায় উত্তর ও দক্ষিণ অংশেও হামলার খবর পাওয়া গেছে। ইসরাইল ও হামাস উভয় পক্ষই একে অপরকে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ করছে। চুক্তি অনুযায়ী গাজায় মানবিক সহায়তা প্রবাহ বাড়ানোর কথা থাকলেও, জাতিসংঘ বলছে এখনও বড় সংকট চলছে। জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা সংস্থার প্রধান টম ফ্লেচার জানিয়েছেন, যুদ্ধবিরতির পর অনাহারে থাকা পরিবারের সংখ্যা ৯২ শতাংশ থেকে কমে ৩৬ শতাংশে নেমেছে। কারণ সহায়তা ট্রাকের সংখ্যা বেড়েছে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, গাজার ৭০ শতাংশ মানুষ এখনও পর্যাপ্ত আশ্রয়ের অভাবে রয়েছে এবং স্যানিটেশন ও মৌলিক সেবাগুলো ভেঙে পড়ার ঝুঁকিতে আছে।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলায় ইসরাইলে প্রায় ১২০০ জন নিহত হয় এবং ২৫১ জনকে জিম্মি করা হয়। তারপর থেকে গাজায় ইসরাইলি সামরিক অভিযানে ৭৩ হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন বলে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।

saon
২ ঘন্টা আগেI Hate " Ottachari Ihudi , Khiristian, Hindu, Boddho"