দুর্নীতি: বিচারের মুখে স্পেনের প্রধানমন্ত্রীর স্ত্রী, দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা

দুর্নীতি: বিচারের মুখে স্পেনের প্রধানমন্ত্রীর স্ত্রী, দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা

ফন্ট সাইজ:

স্পেনের সমাজতান্ত্রিক প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজের স্ত্রী বেগোনিয়া গোমেজের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে বিচার শুরু হচ্ছে। এক আাদালত তার বিরুদ্ধে এ কার্যক্রম শুরু করার নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে তার বিদেশ ভ্রমণের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। দুই বছরব্যাপী তদন্তের পর ৫৫ বছর বয়সী বেগোনিয়া গোমেজের বিরুদ্ধে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ, প্রভাব খাটিয়ে সুবিধা আদায়, ব্যবসায়িক লেনদেনে দুর্নীতি এবং তহবিল অপব্যবহারের অভিযোগ আনা হয়েছে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন গার্ডিয়ান।

গোমেজ তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। মামলাটি শুরু হয় মানোস লিম্পিয়াস (ক্লিন হ্যান্ডস) নামের একটি সংগঠনের অভিযোগের ভিত্তিতে। সংগঠনটি নিজেদের শ্রমিক ইউনিয়ন হিসেবে পরিচয় দিলেও তাদের সঙ্গে কট্টর ডানপন্থী মহলের সম্পর্ক আছে। মামলার বিচারক হুয়ান কার্লোস পেইনাদো শনিবার প্রকাশিত এক আদেশে গোমেজকে তার পাসপোর্ট জমা দেয়ার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি তাকে স্পেন ত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেন। প্রতি মাসে দুইবার আদালতে হাজিরা দিতেও বলা হয়েছে।

আদালত জানিয়েছে, ভবিষ্যতে নির্ধারিত একটি তারিখে জুরি বোর্ডের মাধ্যমে তার বিচার শুরু হবে।

প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ বার বার তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে আনা মামলাকে ভিত্তিহীন এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার হিসেবে বর্ণনা করেছেন। ইউরোপের প্রভাবশালী বামপন্থী নেতাদের একজন হিসেবে পরিচিত সানচেজ অভিযোগ করেছেন, তার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ও গণমাধ্যমের কিছু অংশ পরিকল্পিতভাবে তার পরিবারকে টার্গেট করছে। তিনি বিচার বিভাগের কিছু সদস্যের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রকাশ্যে প্রশ্ন তুলেছেন। বিচারকের সিদ্ধান্তের পরপরই স্পেনের সমাজতান্ত্রিক দল এক্সে দেয়া এক পোস্টে বলেছে, বেগোনিয়াকে দুই বছর ধরে বিচারিক ও রাজনৈতিক নিপীড়নের শিকার করা হয়েছে। আজকের ঘটনা সেই প্রক্রিয়ার আরেকটি ধাপ মাত্র।

২০১৮ সালে ক্ষমতায় আসেন পেদ্রো সানচেজ। সে সময় তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, ক্ষমতাসীন রক্ষণশীল পিপলস পার্টি (পিপি) সরকারের আমলে ছড়িয়ে পড়া দুর্নীতির সংস্কৃতির অবসান ঘটাবেন। কিন্তু বর্তমানে সানচেজের পরিবারের সদস্য এবং তার ঘনিষ্ঠ সাবেক রাজনৈতিক সহযোগীদের বিরুদ্ধে একাধিক তদন্ত তার সরকারের স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ফেলেছে। যদিও সানচেজ নিজে কোনো মামলায় অভিযুক্ত নন, তার ভাই ডেভিড সানচেজের বিরুদ্ধে প্রভাব খাটিয়ে সুবিধা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া সাবেক পরিবহনমন্ত্রী হোসে লুইস আবালোসের বিরুদ্ধে সরকারি চুক্তির বিনিময়ে অবৈধ অর্থ গ্রহণের অভিযোগ উঠেছে। তবে তারা দুজনই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

সবচেয়ে স্পর্শকাতর মামলাগুলোর একটি হচ্ছে স্পেনের সাবেক সমাজতান্ত্রিক প্রধানমন্ত্রী হোসে লুইস রদ্রিগেজ সাপাতেরোর বিরুদ্ধে তদন্ত। স্পেনের বাম রাজনীতির অন্যতম প্রভাবশালী এই নেতা গত মাসে প্রভাব খাটিয়ে সুবিধা আদায়ের অভিযোগে তদন্তের আওতায় আসেন। ২০০৪ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করা সাপাতেরো চলতি সপ্তাহে শুনানিতে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন