বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্তিতে দুই দেশের সম্পর্ক নতুন এক পর্যায়ে প্রবেশ করতে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন বেইজিং সফরে শুধু অর্থনৈতিক সহযোগিতা নয়, রাজনৈতিক ও ভূকৌশলগত অংশীদারত্বের বিষয়ও বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। সফরের অন্যতম আকর্ষণ হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে তৃতীয় যৌথ ইশতেহার ঘোষণা।
আজ শনিবার সকালে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক ব্রিফিংয়ে পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম জানান, আগামী ২৬ জুন চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের সঙ্গে শীর্ষ বৈঠকের পর যৌথ ইশতেহার প্রকাশ করবে ঢাকা ও বেইজিং। এর আগে কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার পর এবং ২০০৫ সালে দুই দেশের সম্পর্কের তিন দশক পূর্তি উপলক্ষে যৌথ ইশতেহার ঘোষণা করা হয়েছিল।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, এবারের সফরে এক ডজনের বেশি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অবকাঠামো, বিনিয়োগ, বাণিজ্য, কৃষি, পানি সম্পদ, প্রযুক্তি ও উন্নয়ন সহযোগিতাসহ বিভিন্ন খাত আলোচনায় থাকবে। পাশাপাশি নতুন প্রকল্পে চীনা অর্থায়নের বিষয়ও গুরুত্ব পাবে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামীকাল রোববার দুই দিনের সফরে মালয়েশিয়া যাচ্ছেন। দেশটির প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের আমন্ত্রণে প্রথম বিদেশ সফর হিসেবে কুয়ালালামপুর যাচ্ছেন তারেক রহমান। পরে সোমবার মালয়েশিয়া সফর শেষে পাঁচ দিনের সফরে চীনে পৌঁছাবেন তিনি। সফরে তার সঙ্গে থাকবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান, তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, পানিসম্পদমন্ত্রী মো. শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিনসহ উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল।
সফরকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিন পিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করবেন। এছাড়া চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক দ্বিপক্ষীয় বৈঠক এবং ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান ঝাও লেজির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, চীনের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক দুই দেশের রাজনৈতিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নেয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, সফরকে ঘিরে বিএনপি ও চীনের কমিউনিস্ট পার্টির মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক সইয়ের প্রস্তুতিও প্রায় চূড়ান্ত। চীনা কমিউনিস্ট পার্টির আন্তর্জাতিক বিভাগের শীর্ষ কর্মকর্তার সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের কথাও রয়েছে। পাশাপাশি দলটির ইতিহাস ও কর্মকাণ্ড সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাও পরিদর্শন করবেন তিনি।
সফরের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে চীনের বৈশ্বিক উন্নয়ন উদ্যোগ বা জিডিআইয়ে বাংলাদেশের আনুষ্ঠানিক সম্পৃক্ততা। ২০২১ সালে প্রেসিডেন্ট শি জিন পিং এ উদ্যোগ ঘোষণা করেন। দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশকে এতে যোগ দেয়ার আহ্বান জানিয়ে আসছিল বেইজিং। সফরকালে এ বিষয়ে সমঝোতা স্মারক সই হতে পারে বলে জানা গেছে।
এটি বাস্তবায়িত হলে প্রায় এক দশক পর চীনের কোনো বড় আন্তর্জাতিক উদ্যোগে যুক্ত হবে বাংলাদেশ। এর আগে ২০১৬ সালে প্রেসিডেন্ট শি জিন পিংয়ের ঢাকা সফরের সময় বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভে (বিআরআই) যোগ দিয়েছিল ঢাকা।
ব্রিফিংয়ে পররাষ্ট্র সচিবের সঙ্গে আরও উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত পররাষ্ট্র সচিব এ. কে. এম শহীদুল করিম, দক্ষিণ পূর্ব এশিয়া অনুবিভাগের মহাপরিচালক দেওয়ান হোসনে আইয়ুব, পূর্ব এশিয়া ও প্যাসিফিক অনুবিভাগের মহাপরিচালক মোহাম্মদ নূরে-আলম, জনকূটনীতি অনুবিভাগের পরিচালক এ এইচ এম মাসুম বিল্লাহ, জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. কামরুল ইসলাম ভূইয়া প্রমুখ।

Kazi
১ ঘন্টা আগেআমেরিকা ও ভারতের মত চীন বিদেশের সম্পদ আত্মসাৎ মনোবৃত্তি সম্পন্ন দেশ নয়। ট্রাম্প আর মোদি, আমেরিকা-ভারত সব সময় অন্য দেশের সম্পদ আত্মসাৎ চিন্তায় মগ্ন।
চীন গবেষণার মাধ্যমে নিত্য নতুন আবিষ্কার করে উন্নত হচ্ছে এবং অনুন্নত দেশে তার সুফল পৌছে দিয়ে উন্নত করার মানসিকতা রয়েছে ।
তাই আমার মতে চীনের সঙ্গে বন্ধুত্ব নিরাপদ।