অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেছেন, বর্তমান সরকার বিচার বিভাগকে স্বাধীনভাবে কাজ করতে দিচ্ছে এবং তার দায়িত্ব পালনের সময় কোনো মামলা বা বিচারিক বিষয়ে রাজনৈতিক চাপের মুখোমুখি হতে হয়নি। শনিবার সুপ্রিম কোর্ট রিপোর্টার্স ফোরামের এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। একইসঙ্গে সাংবাদিকদের আদালতে প্রবেশে সুযোগ বাড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল।
অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘আমি প্রায় তিন মাস দায়িত্ব পালন করছি। কোনো মামলায় কারো পক্ষে বা বিপক্ষে কাজ করার জন্য কোনো রাজনৈতিক চাপ, প্রত্যাশা কিংবা নির্দেশনা পাইনি। সরকারের প্রত্যাশা হলো আমরা সততা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করব এবং বিচার বিভাগ স্বাধীনভাবে কাজ করবে।’
জুলাই-আগস্টের ঘটনাবলির বিচার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘অপরাধের সুষ্ঠু তদন্ত, দ্রুত বিচার এবং আপিল নিষ্পত্তির মাধ্যমে জনগণের কাছে ন্যায়বিচার দৃশ্যমান করতে হবে। অন্যথায় বিচার নিয়ে মানুষের আস্থা তৈরি হবে না।’
তিনি বলেন, ‘অপরাধ সংঘটিত হলে রাষ্ট্র দ্রুত ব্যবস্থা নেবে, দোষীদের চিহ্নিত করবে এবং বিচারের মুখোমুখি করবে। জনগণকে বিচার প্রক্রিয়ার চূড়ান্ত ফল দেখতে দিতে হবে।’
মামলার জট নিরসনে প্রচলিত ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার কথাও তুলে ধরেন অ্যাটর্নি জেনারেল। তিনি বলেন, ‘বিচারক সংকট, দক্ষতার ঘাটতি এবং অতীতের নানা রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে বিপুলসংখ্যক মামলা অনিষ্পন্ন রয়েছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিশেষ উদ্যোগ প্রয়োজন।’
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের আপিল দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য প্রধান বিচারপতির গঠিত বিশেষ বেঞ্চের প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘দীর্ঘদিন ফাঁসির দণ্ড মাথায় নিয়ে থাকা আসামিদেরও দ্রুত বিচার পাওয়ার অধিকার রয়েছে।’
সুপ্রিম কোর্টে সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকারের বিষয়ে তিনি জানান, বিষয়টি প্রধান বিচারপতির কাছে উত্থাপন করেছেন। সাংবাদিকদের জন্য বিশেষ পাস, কার্ড বা নির্দিষ্ট ব্যবস্থা চালুর বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে।
তিনি বলেন, ‘সুপ্রিম কোর্ট বিটের সাংবাদিকরা অভিজ্ঞ। তবে বিচারাধীন মামলার শুনানিকালে বিচারক বা আইনজীবীদের অন্তর্বর্তী মন্তব্য অনেক সময় প্রেক্ষাপট ছাড়া প্রচারিত হয়ে বিভ্রান্তি তৈরি করে। এ বিষয়ে সবাইকে দায়িত্বশীল হতে হবে।’
সংবাদমাধ্যমের ভূমিকার প্রশংসা করে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘বিচার যেন আদালতে হয়, গণমাধ্যমে নয়। সাংবাদিকদের দায়িত্ব হলো তথ্যনির্ভর ও নিরপেক্ষ সংবাদ পরিবেশন করা।’
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপতথ্য ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট তৈরির ঝুঁকির কথাও উল্লেখ করেন তিনি। জনগণকে যাচাই-বাছাই করে তথ্য গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘সোশ্যাল মিডিয়ায় যা দেখবেন তা সঙ্গে সঙ্গে বিশ্বাস করবেন না। প্রকৃত সত্য যাচাই করুন।’
বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি সুপ্রিম কোর্টে আদেশ ও নথি জালিয়াতির বিভিন্ন ঘটনার উল্লেখ করে বলেন, এসব অনিয়ম রোধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে আইনজীবীদের টিকটক বা বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে পেশাগত আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিষয়েও সতর্ক করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী অ্যাডভোকেট শিশির মনির, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আলীসহ সুপ্রিম কোর্ট রিপোর্টার্স ফোরামের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
