জুমার নামাজের আগে রাখা টাকা আসরের পর গিয়ে পাওয়া গেল না। সিসিটিভির চোখে ধরা পড়ল চোর। পুলিশের তৎপরতায় গ্রেপ্তার হলো দুজন, উদ্ধার হলো টাকার বড় অংশ। বাকিটা চলে গেছে অনলাইন জুয়া আর নেশার পেছনে। গতকাল শুক্রবার চট্টগ্রামের সদরঘাট থানাধীন পোস্ট অফিস সংলগ্ন জামে মসজিদে ঘটেছে এই ঘটনা।
মসজিদের ইমাম তামজিদ রহমান জানান, শুক্রবার জুমার নামাজের আগে মসজিদের অফিস কক্ষে ২ লাখ ২০ হাজার টাকা রাখেন তিনি। আসরের নামাজের পর অফিসে গিয়ে দেখেন টাকা যথাস্থানে নেই। পুরো কক্ষ খোঁজ করেও টাকার হদিস মেলেনি।
এরপর সিসিটিভি ফুটেজ চেক করেন মসজিদ কর্তৃপক্ষ। ফুটেজে দেখা যায়, একজন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি টাকা নিয়ে চলে যাচ্ছেন।
ইমাম তামজিদ রহমান রাত ৯টা ৩০ মিনিটের দিকে সদরঘাট থানায় অভিযোগ দেন। অভিযোগ পেয়ে এএসআই ইসমাইল ও মোশফিক সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে আসামি আরিফকে (৩৬) শনাক্ত করেন।
পরে হালিশহর থানাধীন ঈদগা বরফকল এলাকার সোনা শাহ মাজারের শফি সওদাগরের বাড়ি থেকে আরিফকে আটক করা হয়। ওসি মোহাম্মদ শরীফের নির্দেশনায় সেখানে গিয়ে এসআই হীরকসহ পুলিশের দল অভিযান চালায়।
আরিফের কাছ থেকে ১ লাখ ২৬ হাজার ৫০ টাকা এবং অপর আসামি মো. সুমনের কাছ থেকে ৬০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়। মোট উদ্ধার ১ লাখ ৮৬ হাজার ৫০ টাকা। পুলিশ টাকাগুলো জব্দ করেছে। বাকিটা উদ্ধার করা যায়নি।
স্থানীয়রা বলছেন, অনলাইন জুয়ার সহজলভ্যতা ও নেশার টাকা জোগাতে চুরির মতো ঘটনা বাড়ছে এই এলাকায়।
সদরঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মোহাম্মদ শরীফ এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মামলা রুজুর প্রক্রিয়া চলছে।
গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আরিফ পুলিশকে জানিয়েছেন, চুরি করা বাকি টাকা তিনি অনলাইন জুয়া ও নেশার কাজে খরচ করে ফেলেছেন।
ওসি মোহাম্মদ শরীফ বলেন, ‘দ্রুত সিসিটিভি ফুটেজ দেখে আসামি শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে। বাকি টাকা উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।’
মসজিদ কমিটির এক সদস্য বলেন, ‘মসজিদের টাকা মানে জনগণের দান-সদকা। এই টাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আমাদের দায়িত্ব। সিসিটিভি থাকায় চোর ধরা পড়েছে, কিন্তু ভবিষ্যতে এমন ঘটনা যেন না ঘটে সেজন্য কঠোর নিরাপত্তা দরকার।
