বিশ্বকাপ দেখতে জেটের পিঠে চড়ে সমালোচনায় ফিফা প্রেসিডেন্ট

বিশ্বকাপ দেখতে জেটের পিঠে চড়ে সমালোচনায় ফিফা প্রেসিডেন্ট

ফন্ট সাইজ:

বিশ্বকাপের ম্যাচ ডে’তে প্রতিদিন দু’টি করে খেলা উপভোগ করছেন ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। এ কারণে তাকে বিশ্বকাপের ১৬ ভেন্যুর প্রায় ২৮০০ মাইল ভ্রমণক্লান্তি সামলাতে হবে। লক্ষ্য পূরণে ইনফান্তিনো বেছে নিয়েছেন আকাশপথের দ্রুততম মাধ্যম জেট বিমান। অবশ্য এ জেট বিমান ব্যবহারের ফলে পরিবেশ দূষণ হবে বিধায় সমালোচনা মুখে পড়েছেন তিনি। টুর্নামেন্ট শুরুর দিন থেকেই ইনফান্তিনোকে নিয়ে আলোচনার শেষ নেই। গত ১১ই জুন মেক্সিকো সিটির আজতেকা স্টেডিয়ামে উদ্বোধনী ম্যাচ দেখার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তিনি উড়ে যান গুয়াদালহারায়। মেক্সিকোর দুই শহরের এই ২৮৫ মাইলের দূরত্ব পাড়ি দিতে তার লেগেছে এক ঘণ্টার কিছু বেশি সময়। লস অ্যাঞ্জেলেস, সানফ্রান্সিসকো, ভ্যাঙ্কুভার থেকে শুরু করে মায়ামির ফিফা সামিট-সবখানেই দ্রুত পৌছান তিনি।

কাতার এয়ারওয়েজের সাথে ফিফার স্পনসরশিপ চুক্তির অংশ হিসেবে পাওয়া প্রাইভেট জেটটি করে ঘুরছেন ইনফান্তিনো। ফিফার বিবৃতি অনুযায়ী, বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থার সভাপতি হিসেবে টুর্নামেন্টের প্রতিটি কোণায় উপস্থিত থাকা এবং সদস্য দেশগুলোর সাথে যোগাযোগ রক্ষা করা তার দায়িত্বের অংশ। কখনো বাণিজ্যিক বিমান, আবার কখনো দক্ষ ও ব্যয়সাশ্রয়ী উপায় হিসেবে চার্টার জেট ব্যবহার করা হয় বলে দাবি করেছে ফিফা। ইনফান্তিনোর এই বিরামহীন ভ্রমণকে প্রশাসনিক তৎপরতা দেখা হলেও পরিবেশবাদীরা তার সমালোচনা করেছেন। ‘নিউ ওয়েদার ইনস্টিটিউট’ এই বিশ্বকাপকে আখ্যা দিয়েছে ‘সর্বকালের সবচেয়ে দূষণকারী ইভেন্ট’ হিসেবে।

তাদের প্রাক্কলন অনুযায়ী, এবারের আসরে প্রায় ৯ মিলিয়ন টন কার্বন ডাই অক্সাইড নির্গত হতে পারে। এর মধ্যে আকাশপথের ভ্রমণের কারণেই নির্গত হবে প্রায় ৭.৭ মিলিয়ন টন কার্বন, যা ২০১০ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত আয়োজিত বিশ্বকাপগুলোর গড় কার্বন নিঃসরণের চেয়ে চার গুণেরও বেশি। গ্রিনপিস ইউএসএ-এর প্রোগ্রাম ডিরেক্টর জন হোসেভার ফিফা প্রেসিডেন্টের সমালোচনা করে বলেন, এই বিশ্বকাপে এমনিতেই তীব্র দাবদাহ নিয়ে খেলোয়াড় ও দর্শকরা ভুগছেন। এমতাবস্থায় কর্মকর্তাদের প্রতিদিন ব্যক্তিগত জেটে ভ্রমণ করা মোটেও ভালো বার্তা দেয় না।

এটি কি ফিফার জলবায়ু পরিবর্তনের দায় স্বীকার করার কোনো লক্ষণ?’ কেবল ইনফান্তিনো নন, এবারের ভৌগোলিক বিন্যাসে দলগুলোকেও পড়তে হচ্ছে ধকলের মুখে। বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার কথা ধরা যাক, গ্রুপ পর্বের তিন ম্যাচের জন্য তাদের পাড়ি দিতে হবে প্রায় ৩,১৪৪ মাইল। টরন্টো থেকে লস অ্যাঞ্জেলেস হয়ে সিয়াটল। এরপর আবার সল্টলেক সিটিতে ট্রেনিং ক্যাম্পে ফিরবে দলটি। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে স্টেডিয়ামগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ দূরত্ব ছিল মাত্র ৪৬ মাইল, ফলে ইনফান্তিনো অনায়াসেই সব ম্যাচ দেখতে পেরেছিলেন। কিন্তু চার টাইম জোন ও তিনটি দেশের বিস্তৃতিতে এবারের বিশ্বকাপ যেন মাঠের লড়াইয়ের চেয়েও বেশি ‘দূরত্বের লড়াই’ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন