নিম্ন আদালতে মৃত্যুদণ্ডের সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের ডেথ রেফারেন্সের (মৃত্যুদণ্ড নিশ্চিতকরণের) শুনানি হয় হাইকোর্টে। সেখানে নারী ও শিশু ধর্ষণ ও হত্যার আলোচিত মামলাগুলোর গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে বিশেষ বেঞ্চ গঠন করে দ্রুত শুনানির উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় বিশেষ বেঞ্চের কার্যতালিকায় (কজলিস্টে) অন্তর্ভুক্ত হয়েছে ফেনীর আলোচিত মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলা। গত রোববার হাইকোর্টের বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চের কার্যতালিকায় মামলাটি যুক্ত হয়। এর আগে গত ১০ই জুন অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নারী ও শিশু-সংক্রান্ত মামলার ডেথ রেফারেন্সের শুনানির জন্য এই বেঞ্চ গঠন করে দেন প্রধান বিচারপতি। ফেনীর সোনাগাজীতে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ প্রত্যাহার না করায় ২০১৯ সালের ৬ই এপ্রিল মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে আগুনে পুড়িয়ে দেয়া হয়।
পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১০ই এপ্রিল তার মৃত্যু হয়। একই বছরের ২৪শে অক্টোবর ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ১৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেন। আসামিরা হলোÑ সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার সাবেক অধ্যক্ষ এস এম সিরাজ উদ-দৌলা (৫৭), নূর উদ্দিন (২০), শাহাদাত হোসেন শামীম (২০), কাউন্সিলর ও সোনাগাজী পৌর আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাকসুদ আলম ওরফে মোকসুদ কাউন্সিলর (৫০), সাইফুর রহমান মোহাম্মদ জোবায়ের (২১), জাবেদ হোসেন ওরফে সাখাওয়াত হোসেন (১৯), হাফেজ আব্দুল কাদের (২৫), আবছার উদ্দিন (৩৩), কামরুন নাহার মনি (১৯), উম্মে সুলতানা ওরফে পপি (১৯), আব্দুর রহিম শরীফ (২০), ইফতেখার উদ্দিন রানা (২২), ইমরান হোসেন ওরফে মামুন (২২), সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও মাদ্রাসার সাবেক সহ-সভাপতি রুহুল আমিন (৫৫), মহিউদ্দিন শাকিল (২০) ও মোহাম্মদ শামীম (২০)।
২০১৯ সালের ২৯শে অক্টোবর আসামিদের মৃত্যুদণ্ডাদেশ অনুমোদনের জন্য ডেথ রেফারেন্স মামলার সব ধরনের কার্যক্রম হাইকোর্টে পৌঁছে। এরপর অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পেপারবুক ছাপানো শেষ করা হয়েছিল। পরে প্রয়োজনীয় কাজ শেষে শুনানির জন্য মামলাটি প্রধান বিচারপতি বরাবর উপস্থাপন করা হয়। তারপর প্রধান বিচারপতি শুনানির জন্য হাইকোর্ট বেঞ্চ নির্ধারণ করেন। ফৌজদারি কার্যবিধি অনুসারে বিচারিক আদালতে মৃত্যুদণ্ডাদেশ হলে সে রায় অনুমোদনের জন্য মামলার সব ধরনের কার্যক্রম উচ্চ আদালতে পাঠাতে হয়। সে অনুসারে ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে আসে। এ ছাড়া আসামিরা জেল আপিল ও ফৌজদারি আপিল করেন।
