নারায়ণগঞ্জে গ্যাস বিস্ফোরণে দগ্ধ পরিবারের ৪ সদস্যই মারা গেছেন

ফন্ট সাইজ:

নারায়ণগঞ্জের বন্দরে গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণে দগ্ধ হওয়া একই পরিবারের চার সদস্যই চলে গেছে না ফেরার দেশে। সবশেষ মঙ্গলবার ভোররাতে জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ)তে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় শিশু মিম। জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন সহকারী অধ্যাপক ডা. শাওন বিন রহমান মিমের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আইসিইউ’র ১৪ নম্বর বেডে চিকিৎসাধীন মিমের শরীরের ৫১ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল এবং তার শ্বাসনালী মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। চিকিৎসকদের সর্বাত্মক চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে মঙ্গলবার ভোররাতে সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে।

এর আগে, চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১২ই জুন দুপুরে মারা যায় সুলতানা বেগম (৩৫), যার শরীরের ৯০ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল। এরপর সোমবার ভোরে আইসিইউ’র ১৫ নম্বর বেডে মারা যায় ৩৫ শতাংশ দগ্ধ সুলতানার স্বামী আব্দুল মান্নান (৫০)। এর কয়েক ঘণ্টা পর সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে ৩ নম্বর বেডে মারা যান ৭৭ শতাংশ দগ্ধ ছেলে সিয়াম (১৯)। মিমের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে না ফেরার দেশে চলে গেল পুরো পরিবার।

বর্তমানে এ ঘটনায় কেবল প্রতিবেশী শিশু হযরত আলী (৮) জীবিত রয়েছে। সে ৮ শতাংশ দগ্ধ অবস্থায় হাসপাতালের অবজারভেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছে। গত ১১ই জুন সকাল সাড়ে ৬টার দিকে বন্দর উপজেলার মদনপুর ইউনিয়নের চানপুর এলাকার একটি একতলা বাড়িতে এ ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। কাঁচপুর ফায়ার স্টেশনের সিনিয়র স্টেশন অফিসার জাহাঙ্গীর আলম জানিয়েছিলেন, বাড়িটিতে তিতাসের গ্যাস লাইনের পাশাপাশি সিলিন্ডারের সংযোগও ছিল। রান্নাঘরে রাতে জমে থাকা গ্যাসে সকালে রান্নার জন্য আগুন জ্বালাতেই বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন