কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালং ১ নম্বর ইস্ট/ওয়েস্ট রোহিঙ্গা ক্যাম্পের অভ্যন্তরে লম্বাশিয়া এলাকায় ৩ শতাধিক স্থানীয় পরিবারের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে রাজাপালং ইউনিয়নের কুতুপালং ক্যাম্পের প্রবেশমুখে সহস্রাধিক নারী-পুরুষ অবস্থান নিয়ে প্রতিবাদ জানান। বিক্ষোভ চলাকালে ক্যাম্পের অভ্যন্তরে কর্মরত বিভিন্ন এনজিও সংস্থার কর্মকর্তা-কর্মচারী বহনকারী কয়েকটি গাড়ির প্রবেশ সাময়িকভাবে আটকে দেয়া হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, কোনো ধরনের পূর্ব নোটিশ ছাড়াই গত ১৫ই জুন সকালে কুতুপালং ১ নম্বর ইস্ট/ওয়েস্ট ক্যাম্পের ক্যাম্প ইনচার্জ (সিআইসি) মোহাম্মদ শরীফুল ইসলামের নির্দেশে তাদের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। এতে শত শত পরিবার চরম দুর্ভোগে পড়ে।
লম্বাশিয়া গ্রামের বাসিন্দা মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন বলেন, আমরা উখিয়া পল্লী বিদ্যুতের বৈধ গ্রাহক। আমাদের কোনো বিদ্যুৎ বিল বকেয়া নেই। অথচ কোনো নোটিশ ছাড়াই আমাদের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। স্থানীয় ইউপি সদস্য ইঞ্জিনিয়ার হেলাল উদ্দিন বলেন, যদি কেউ বিদ্যুৎ সংযোগ ব্যবহার করে কোনো অবৈধ কর্মকাণ্ড করে থাকে, তবে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া যেত। কিন্তু শত শত পরিবারকে একসঙ্গে দুর্ভোগে ফেলা কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে সিআইসি মোহাম্মদ শরীফুল ইসলাম বলেন, বিদ্যুৎ সংযোগ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির পক্ষ থেকে বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে।
এ বিষয়ে উখিয়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডিজিএম কায়জার নুরের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বিক্ষোভ কর্মসূচিতে সংহতি প্রকাশ করে উখিয়া উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি সরওয়ার জাহান চৌধুরী বলেন, সিআইসি শরীফুল ইসলামকে এক সপ্তাহের মধ্যে উখিয়া থেকে প্রত্যাহার করতে হবে। বিষয়টি নিয়ে সাবেক সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী সার্বিক খোঁজখবর রাখছেন এবং দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগ পুনঃস্থাপনের ব্যবস্থা করা হবে। পরে সরওয়ার জাহান চৌধুরীর আশ্বাসে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে স্থানীয়রা বিক্ষোভ কর্মসূচি শেষ করে ক্যাম্পের প্রবেশমুখ থেকে অবরোধ তুলে নেন।
