সোশ্যাল মিডিয়ায় ইনফ্লুয়েন্সার বা তারকা হতে কত সময় লাগে? কেউ বলবেন বছরখানেক, কেউ হয়তো তার চেয়েও বেশি। কিন্তু কেপ ভার্দের ৪০ বছর বয়সী গোলকিপার ভোজিনিয়ার ক্ষেত্রে সময়টা লেগেছে মাত্র ৯০ মিনিট। মাঠের পারফরম্যান্সের জাদুতে তিনি শুধু স্পেনকেই আটকে দেননি, রাতারাতি সোশ্যাল মিডিয়ায় পরিণত হয়েছেন বিশ্ব ফুটবলের নতুন সেনসেশনে।
গ্রুপ পর্বে স্পেনের মতো পরাশক্তিকে রুখে দিয়ে ভোজিনিয়া এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। ম্যাচ শুরুর আগে তার ইনস্টাগ্রাম অনুসারীর সংখ্যা ছিল মাত্র ৪৫ হাজার। কিন্তু ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজার পর যখন তিনি টিভি ক্যামেরার সামনে সাক্ষাৎকার দিচ্ছেন, তখন সেই সংখ্যা পৌঁছে যায় ১.৫ মিলিয়নে। এখন পর্যন্ত তা ৫.৩ মিলিয়নে (৫৩ লাখ) গিয়ে ঠেকেছে। স্পেনের বিপক্ষে ভোজিনিয়া ছিলেন চীনের প্রাচীরের ভূমিকায়। লামিনে ইয়ামাল, গাভি, রুইজ ও পেদ্রিদের মতো তারকা ফুটবলাররা স্পেনের হয়ে মোট ২৩টি শট নিলেও, ভোজিনিয়া একাই রুখে দেনর ৮টি নিশ্চিত গোল। ভোজিনিয়ার এই সাফল্য ধৈর্যের এক দীর্ঘ সংগ্রামের ফসল। ২৫ বছর বয়সে পেশাদার ফুটবল শুরু করা এই গোলকিপার মলডোভা, সাইপ্রাস, স্লোভাকিয়া ও পর্তুগালের বিভিন্ন ক্লাবে ঘুরেছেন। কিন্তু বড় কোনো মঞ্চে নিজেকে মেলে ধরার সুযোগ তার হয়নি। বয়সের ভারে যখন অবসরের চিন্তা করছিলেন, তখনই ডাক আসে বিশ্বকাপের। সাক্ষাৎকারে আবেগাপ্লুত ভোজিনিয়া বলেন, ‘আমি এটার জন্যই আমার গোটা জীবন অপেক্ষা করেছি, এই স্বপ্নের জন্য কাজ করেছি। অনেকেই এই স্বপ্ন দেখেও তা বাস্তবে রূপ দিতে পারেননি, তবে আমি হাল ছাড়িনি।’
ভোজিনিয়া নামটি বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পেলেও এটি তার আসল নাম নয়। তার পুরো নাম হোসিমার হোসে ইভোরা দিয়াস। পর্তুগিজ ভাষায় ‘ভোজিনিয়া’ শব্দের অর্থ ‘ঠাকুমা’। ছোটবেলায় সতীর্থরা তাকে উত্ত্যক্ত করতে এই নামে ডাকতো। সেই সময় অপমানে তিনি কাঁদতে কাঁদতে ঠাকুরমার কাছে ছুটে যেতেন। পেশাদার জীবনে সেই ডাকনামকেই তিনি নিজের পরিচয়ের অংশ করে নিয়েছেন।
