যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তির ঘোষণায় তেলের দামে বড় পতন

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তির ঘোষণায় তেলের দামে বড় পতন

ফন্ট সাইজ:

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করা পাকিস্তান দুই দেশের মধ্যে একটি চুক্তির ঘোষণা দেয়ার পর সোমবার এশিয়ার বাজারে লেনদেনের শুরুতেই তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বলেন, এই চুক্তির ফলে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি আবারও জাহাজ চলাচলের জন্য খুলে দেয়া হবে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি। এতে বলা হয়, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের ব্রান্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৪ শতাংশ কমে প্রতি ব্যারেল ৮৩ দশমিক ৮১ ডলারে (৬২ দশমিক ২৯ পাউন্ড) নেমে এসেছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রে লেনদেন হওয়া অপরিশোধিত তেলের দাম ৪ দশমিক ৭ শতাংশ কমে দাঁড়ায় প্রতি ব্যারেল ৮০ দশমিক ৮৯ ডলারে।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ জানিয়েছেন, আগামী শুক্রবার, ১৯ জুন সুইজারল্যান্ডে আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তি স্বাক্ষর হবে। ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেয়া এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে নিশ্চিত করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি চুক্তি চূড়ান্ত হয়েছে। অন্যদিকে ডনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, ‘তেল প্রবাহিত হতে দিন!’

তবে জ্বালানি বাজার বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান ভান্দা ইনসাইটসের বিশ্লেষক ভান্দানা হারি বলেছেন, চুক্তিতে ঠিক কী বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্যের অভাব বাজারে অস্বস্তি ও অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করতে পারে। তিনি আরও বলেন, এর ফলে তেলের বাজারে পুরো সপ্তাহজুড়ে অনিশ্চয়তা ও অস্থিরতা বিরাজ করতে পারে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানের ওপর বিমান হামলা শুরু করার কিছুদিন পর থেকেই হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ করে দেয় তেহরান। তারা হুঁশিয়ারি দেয় যে, এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ ব্যবহারকারী জাহাজগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হতে পারে। সাধারণ সময়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) এই পথ দিয়েই পরিবাহিত হয়।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে ব্যাপক অস্থিরতা দেখা গেছে। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল ও ইরানের সংঘাতের বিভিন্ন ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় তেলের দাম কখনো হঠাৎ বেড়েছে, আবার কখনো দ্রুত কমেছে। সংঘাত শুরুর আগে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম যেখানে প্রতি ব্যারেল প্রায় ৭০ ডলারের কাছাকাছি ছিল, যুদ্ধ চলাকালে তা বেড়ে প্রায় ১২০ ডলারে পৌঁছে। পরে অবশ্য কিছুটা কমে। জ্বালানি বাজার বিশেষজ্ঞরাও সতর্ক করে বলেছেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন যুদ্ধপূর্ব অবস্থায় তাৎক্ষণিকভাবে ফিরে আসার সম্ভাবনা কম।

পরামর্শক প্রতিষ্ঠান লিপো অয়েল অ্যাসোসিয়েটসের অ্যানড্রু লিপো বলেন, প্রথমেই নৌপথে পেতে রাখা মাইন অপসারণ করতে হবে। এই কাজ শেষ হতে কয়েক সপ্তাহ থেকে শুরু করে ছয় মাস পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। তিনি আরও বলেন, এই নৌপথ ব্যবহারের অপেক্ষায় বিপুল সংখ্যক তেলবাহী জাহাজ জমে আছে। পাশাপাশি তেল উৎপাদন স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরিয়ে আনা এবং জাহাজে তেল বোঝাইয়ের কার্যক্রম আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতেও কয়েক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে।

চুক্তির ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়ে সোমবার এশিয়ার শেয়ারবাজারেও উত্থান দেখা গেছে। জাপানের নিক্কেই ২২৫ শেয়ার সূচক সকালের লেনদেনে ৪ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়েছে। অন্যদিকে দক্ষিণ কোরিয়ার কসপি সূচক ৫ শতাংশেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের তেল ও এলএনজি সরবরাহের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল হওয়ায় এশিয়ার দেশগুলো উচ্চ জ্বালানি মূল্যের কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন