মামলায় আটকে আছে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ শিক্ষামন্ত্রী

ফন্ট সাইজ:

দেশের প্রাথমিক শিক্ষা খাতে বর্তমানে প্রায় ৪০ হাজার শিক্ষক সংকট রয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। একইসঙ্গে বিচারাধীন মামলার কারণে প্রায় ৩২ হাজার ৫০০ প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দীর্ঘদিন ধরে আটকে আছে বলেও জানান তিনি।

গতকাল রাজধানীতে ইউনিসেফ আয়োজিত এক কর্মশালায় বক্তব্যকালে শিক্ষামন্ত্রী এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, শিক্ষক নিয়োগে নানা জটিলতা রয়েছে। প্রায় ৩২ হাজার ৫০০ প্রধান শিক্ষক নিয়োগ সংক্রান্ত বিষয় তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। এ ছাড়া শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিরুদ্ধে প্রায় ৮৩ হাজার মামলা চলমান থাকায় অনেক ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত গ্রহণে বাধার সৃষ্টি হচ্ছে। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, প্রাথমিক পর্যায়ে এখনো প্রায় ৪০ হাজার শিক্ষক সংকট রয়েছে। আমি শুধু প্রাথমিক শিক্ষার কথাই বলছি, মাধ্যমিক বা উচ্চশিক্ষার নয়। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ১৪ হাজার ৩০০ প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হয়েছে। তবে দ্রুত নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ায় মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এজন্য নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ধাপে ধাপে দায়িত্ব দেয়া হচ্ছে এবং তাদের জন্য দুই বছরের প্রবেশনকাল রাখা হয়েছে।

প্রাথমিক শিক্ষার সার্বিক চিত্র তুলে ধরে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, দেশে বর্তমানে প্রায় ১ লাখ ১৮ হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং প্রায় ১ কোটি ৭০ লাখ শিক্ষার্থী রয়েছে। এর মধ্যে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ৬৫ হাজার ৫০০। শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়মুখী করতে সরকার নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এর অংশ হিসেবে আগামী জুলাইয়ের শেষ দিকে অথবা আগস্ট মাসে প্রায় ৪ লাখ ৫০ হাজার শিক্ষার্থীকে নিয়ে স্কুল ইউনিফর্ম বিতরণের একটি পাইলট প্রকল্প চালু করা হবে। পাশাপাশি আগামী বাজেট থেকে প্রাথমিক পর্যায়ে মিড-ডে মিল চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে।

তিনি বলেন, প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে চতুর্থ শ্রেণি থেকে খেলাধুলা, সংস্কৃতি, নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও ধর্মীয় মূল্যবোধভিত্তিক বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া বিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়ন, ওয়াশরুম আধুনিকীকরণ এবং শিক্ষক প্রশিক্ষণের ওপরও গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধির তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রাথমিক শিক্ষা খাতে বরাদ্দ ১২ হাজার কোটি টাকা থেকে বেড়ে ১৮ হাজার কোটি টাকার বেশি হয়েছে। সরকারের লক্ষ্য আগামী চার বছরের মধ্যে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ জিডিপি’র ৫ শতাংশে উন্নীত করা। দেশের কোনো গ্রাম যাতে প্রাথমিক বিদ্যালয়বিহীন না থাকে, সে লক্ষ্যে সরকার ম্যাপিং কার্যক্রম পরিচালনা করছে এবং মানবসম্পদ উন্নয়নে শিক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়া হচ্ছে।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, প্রাথমিক শিক্ষকদের বদলির প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ করতে সরকার নতুন একটি বিকেন্দ্রীকরণ ব্যবস্থা চালু করছে। নতুন নীতিমালার আওতায় উপজেলা, জেলা, বিভাগীয় ও সিটি করপোরেশন পর্যায়ে পৃথক কমিটি গঠন করা হচ্ছে। যারা নির্দিষ্ট সময় অন্তর বসে বদলির আবেদনগুলো পর্যালোচনা করবে। পরে তার ভিত্তিতে বদলি করা হবে। তিনি বলেন, উপজেলা পর্যায়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নেতৃত্বে চার সদস্যের কমিটি উপজেলা পর্যায়ের আবেদন যাচাই-বাছাই করবে এবং উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বদলির আদেশ জারি করবেন। একইভাবে জেলা, বিভাগীয় ও সিটি করপোরেশন পর্যায়ে পাঁচ থেকে ছয় সদস্যের কমিটি থাকবে, যারা সংশ্লিষ্ট বদলির আবেদন যাঁচাই-বাছাই করে বদলির ব্যবস্থা করবে। সিটি করপোরেশন, বিভাগীয়, জেলা প্রাথমিক শিক্ষক বদলির আবেদন যাঁচাই-বাছাই ও নিষ্পত্তিবিষয়ক কমিটিতে যথাক্রমে অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর), বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসক সভাপতি থাকবেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. দাউদ মিয়া, ক্যাম্পেইন ফর পপুলার এডুকেশনের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধুরী, ইউনিসেফ, বাংলাদেশ এর প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স, বৃটিশ হাইকমিশনের ফরেন কমনওয়েলথ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অফিসের ডেপুটি ডেভেলপমেন্ট ডিরেক্টর মার্টিন ডসন, বাংলাদেশে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন ডেলিগেশনের মিনিস্টার কাউন্সিলর মাইকেল ক্রেজা বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন