মাঝেমধ্যে কঠোর পরিশ্রম আর দাপুটে ফুটবলও যে ভাগ্যের কাছে হার মানে। ফিলাডেলফিয়ার ইকুয়েডর-আইভরিকোস্ট ম্যাচটি জ্বলন্ত উদাহরণ। পুরো ম্যাচে তিনবার যাদের শট গোলপোস্টে লেগে ফিরে এসেছে, সেই ইকুয়েডরকেই ম্যাচের একদম শেষ মুহূর্তে স্তব্ধ করে দিলো আইভরি কোস্ট। সুপার সাব আমাদ দিয়ালোর ৯০ মিনিটে করা গোলে রোমাঞ্চকর জয় দিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপ মিশন শুরু করলো আফ্রিকার অন্যতম ফুটবল পরাশক্তি দেশটি।
ম্যাচের প্রথমার্ধে মাঠের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে থাকলেও ফিনিশিংয়ের ব্যর্থতা ইকুয়েডরের আক্ষেপ বাড়ায়। ১৪ মিনিটেই গোল করার সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছিল তারা। উইঙ্গার জন ইয়েবোয়াহর নেয়া বাম পায়ের শটটি বারের ওপর দিয়ে চলে যায়। এরপর ২৪ মিনিটে ইয়েবোয়াহর দূরপাল্লার শট আইভরি কোস্টের গোলরক্ষককে পরাস্ত করলেও তা সাইড পোস্টে আঘাত করে। এর ঠিক কয়েক মুহূর্ত পরেই ইকুয়েডরের অ্যালান মিন্দার আরেকটি জোরালো শট গোলপোস্টে লেগে ফিরে আসলে গোলবঞ্চিত হয় লাতিন দলটি। অন্যদিকে প্রথমার্ধের অতিরিক্ত সময়ে (৪৫+৩ মিনিটে) আইভরি কোস্টের ডিফেন্ডার উইলফ্রেড সিঙ্গোর নেয়া বাইসাইকেল কিক অল্পের জন্য বারের ওপর দিয়ে চলে যায়। গোলশূন্যভাবে শেষ হয় প্রথমার্ধ।
দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচের গতি বাড়াতে দুই দলই কৌশলে বদল আনে। ম্যাচের ৫৬ মিনিটে আইভরি কোস্টের কোচ বাজুমানা তুরের পরিবর্তে মাঠে নামান ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের উইঙ্গার আমাদ দিয়ালোকে। ইকুয়েডর ফরোয়ার্ড জন ইয়েবোয়াহকে ৬২ মিনিটে মাঠ থেকে তুলে নেন কোচ সেবাস্তিয়ান বেকাসেসে।
ম্যাচের নির্ধারিত ৮৯ মিনিট পর্যন্ত কোনো দলের ফরোয়ার্ডরাই ডেডলক ভাঙতে পারেনি। ম্যাচটি যখন নিশ্চিত ড্রয়ের দিকেই যাচ্ছিল, ঠিক তখনই ৯০ মিনিটে ফিলাডেলফিয়ার গ্যালারি উল্লাসে কাঁপিয়ে তোলে আইভরি কোস্ট। ডিফেন্স থেকে রাইট-ব্যাক উইলফ্রেড সিঙ্গো ক্ষিপ্র গতিতে ডান প্রান্ত ধরে ওপরে উঠে আসেন। ইকুয়েডর ডিফেন্সকে ফাঁকি দিয়ে বক্সে থাকা আমাদ দিয়ালোকে লক্ষ্য করে ক্রস বাড়ান। ডি-বক্সের ভেতরে থাকা দিয়ালো বাম পায়ের এক কোণাকুণি শট বল জালে জড়িয়ে আইভরি কোস্টকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে নেন। অতিরিক্ত সময়ে (৯০+৫ মিনিটে) দিয়ালোর নেয়া আরও একটি বিপজ্জনক শট দারুণ দক্ষতায় রুখে দিয়ে ব্যবধান বাড়তে দেননি ইকুয়েডর গোলরক্ষক হার্নান গালিন্দেজ। শেষ পর্যন্ত আর ম্যাচে ফিরতে পারেনি ইকুয়েডর। ১-০ গোলের নাটকীয় জয়ে পূর্ণ ৩ পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছাড়ে আইভরি কোস্ট।
