ডালাসে ডাচদের রুখে দিলো জাপান

থ্রিলার ম্যাচ ২-২ গোলে ড্র

ডালাসে ডাচদের রুখে দিলো জাপান

ফন্ট সাইজ:

​তিনবারের রানার্সআপ নেদারল্যান্ডসকে রুখে দিলো এশিয়ান পরাশক্তি জাপান। ডালাসে রোমাঞ্চকর লড়াই শেষে ২-২ গোলের ড্র নিয়ে মাঠ ছাড়ে দুই দল।

বিশ্বকাপ ইতিহাসে এই প্রথম নেদারল্যান্ডস তাদের নিজেদের দেশের ঘরোয়া লীগের কোনো খেলোয়াড় ছাড়া শুরুর একাদশ সাজায়। বিপরীতে, জাপানের একাদশে ছিলেন ডাচ লীগে খেলা দুই ফুটবলার—আয়াসে উয়েদা ও সুয়োশি ওয়াতানাবে। এদিকে লিভারপুলের ডাচ ডিফেন্ডার ভার্জিল ফন ডাইক চলতি মৌসুমে নিজের ৬৬তম ম্যাচ খেলতে নামেন। যা ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লীগের ফুটবলারদের মধ্যে সর্বোচ্চ।

ম্যাচের প্রথম ২৫ মিনিটে কোনো দলই গোলের দেখা পায়নি। প্রথমার্ধে ৭১ শতাংশ সময় বল নিজেদের পায়ে রেখে পাসের ফুলঝুরি ছড়ায় নেদারল্যান্ডস। তবে জাপানের সুসংহত রক্ষণভাগের কারণে খুব বেশি সুবিধা করতে পারছিল না তারা। উল্টো মাত্র ২৯ শতাংশ বল পজিশন নিয়েও কাউন্টার অ্যাটাকে ডাচ ডিফেন্সে কাঁপন ধরাচ্ছিল ব্লু সামুরাইরা। ৪৫ মিনিটে জাপানের উয়েদা নিশ্চিত গোলের সুযোগ নষ্ট করলে গোলশূন্য সমতায় শেষ হয় প্রথমার্ধ। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই খোলস ছেড়ে বের হয় ডাচরা। ৫১ মিনিটে রাইয়ান গ্রাভেনবার্চের চমৎকার ক্রসে বাতাসে ভেসে দুর্দান্ত এক হেডে গোল করে নেদারল্যান্ডসকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে নেন অধিনায়ক ভার্জিল ফন ডাইক। তবে গোল খেয়ে দমে না গিয়ে আক্রমণের ধার বাড়ায় জাপান। মাত্র ৬ মিনিট পর, ৫৭ মিনিটে তাকেফুসা কুবোর পাস থেকে ডি-বক্সের বাইরে থেকে দারুণ এক জোরালো শটে বল জালে পাঠান কেইতো নাকামুরা।

১-১ সমতার পর ম্যাচ আরও জমে ওঠে। ৬৪ মিনিটে আবারও ডাচদের লিড এনে দেন ক্রিসেনসিও সামারভিল। গ্রাভেনবার্চের পাস থেকে বক্সের ডানপ্রান্তে বল পেয়ে নিখুঁত কোনাকুনি শটে স্কোরলাইন ২-১ করেন তিনি। এরপর দুই দলই বেঞ্চ থেকে একাধিক পরিবর্তন এনে কৌশলে বদল আনে। ৭৩ মিনিটে গাকপোর জোড়া আক্রমণ রুখে দিয়ে জাপানকে ম্যাচে টিকিয়ে রাখেন কিপার জিওন সুজুকি।

ম্যাচ যখন শেষের পথে, ঠিক তখনই ৮৮ মিনিটে ডালাসের গ্যালারি উল্লাসে কাঁপিয়ে তোলে জাপান। ডান প্রান্ত থেকে নেওয়া কর্নারে বদলি খেলোয়াড় কোকি ওগাওয়ার হেডে বল সতীর্থ দাইচি কামাদার মাথায় লেগে দিক পরিবর্তন করে সরাসরি ডাচ গোলপোস্টে ঢুকে যায় (২-২)। ওলন্দাজ গোলরক্ষক বার্ট ভারব্রুগেন ঝাঁপিয়ে পড়লেও গোল বাঁচাতে পারেননি।

নির্ধারিত সময়ের পর আরও ৬ মিনিট ইনজুরি সময় যোগ করা হয়। ৯০+৩ মিনিটে ম্যাচ জিততে অল-আউট আক্রমণে গিয়েও জালের দেখা পায়নি নেদারল্যান্ডস। শেষ পর্যন্ত ৬১% বল পজিশন ও ৬টি অন-টার্গেট শট নিয়েও ডার্কহর্স জাপানের কাছে পয়েন্ট হারাতে হলো ডাচদের।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন