মরক্কোর শুরুটা ছিল অতি নাটকীয়। শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতি। কখন কী ঘটে! ব্রাজিল সমর্থকরা শুধু হা-হুতাশ করছিলেন। এমনকি মিডিয়া গ্যালারিতেও। ২১
পৃষ্ঠা ১৭ কলাম ১
মিনিটে ইসমায়েল সাইবারি ব্রাজিল ভক্তদের হতাশ করে অত্যন্ত নৈপুণ্যতার সঙ্গে বল পৌঁছে দেন জালে। মনে হলো- গ্যালারিতে ভূমিকম্প হয়ে গেছে। কয়েক হাজার মরক্কো সমর্থক উল্লাসে ফেটে পড়লেন। আফ্রিকার চ্যাম্পিয়ন মরক্কোর প্লেয়ারদের সে কি আনন্দ! আরব দুনিয়াতেও খুশির বন্যা।
বিশ্ব ফুটবলের র?্যাঙ্কিংয়ে ব্রাজিল এখন ৬ নম্বরে। মরক্কোর স্থান সাত। আবার ব্রাজিল পাঁচবার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছে। হাইপ্রোফাইল গ্রুপ-পর্বের এই খেলাটি ঘিরে ক’দিন থেকেই বিশ্ব জুড়ে ফুটবল ভক্তদের অপেক্ষা ছিল, সঙ্গে তুমুল উত্তেজনা। গোলের পর ব্রাজিল ঘুরে দাঁড়ায়। ধীরে ধীরে বলের উপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে। মরক্কো তখন চলে যায় রক্ষণাত্মক ফুটবলে। সুযোগ নেয় ব্রাজিল। ১১ মিনিট পরে অত্যন্ত দর্শনীয় একটি গোল করেন ব্রাজিলিয়ান তারকা ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। মরক্কোর ডিফেন্সের ভুলের সুযোগ হাতছাড়া করেননি জুনিয়র। এরপর মাঠের চেহারা পাল্টে যায়।
৮০ হাজার ৬৬৩ জন দর্শক নড়েচড়ে বসেন। খেলার ভাগ্য বদলে যেতে পারে- এমনটাই ভাবতে শুরু করেন। কিন্তু লড়াকু মরোক্কানরা সুযোগ হাতছাড়া করতে রাজি নন। তারাও কখনো রক্ষণাত্মক, কখনো আক্রমণাত্মক হয়ে উঠেন। দ্বিতীয়ার্ধে ব্রাজিল বেশ ক’টা সুযোগ তৈরি করে। কিন্তু আফ্রিকার ফুটবলশক্তি ইয়াসিন বুনু তাদের সব আক্রমণ ব্যর্থ করে দেন। ধীরে ধীরে খেলাটা ড্রয়ের দিকে গড়ায়। খেলা শেষ হওয়ার কয়েক মিনিট আগে মরক্কো আচমকা একটা সুযোগ পেয়ে যায়। গোলকিপার প্রতিরোধের দেয়াল তৈরি করে মরক্কোর শেষ চেষ্টা ব্যর্থ করে দেন। খেলাটির ভাগ্য তখন নির্ধারণ হয়েই গেছে। ১-১ গোলে সমতা। রেফারির শেষ বাঁশি।
ভণ্ডুল হয়ে যায় সাম্বা নাচের প্রস্তুতি। ব্রাজিলিয়ানরা হতাশ হলেও সামনের খেলাগুলোতে নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ রয়েছে। ব্রাজিল যদি ঘুরে না দাঁড়ায় অঘটন অবধারিত। নেইমারবিহীন ব্রাজিল অন্তত লজ্জার হাত থেকে বেঁচে গেছে। মরক্কো শুধু আফ্রিকার নয়, বিশ্ব ফুটবলের নতুন এক শক্তি। কাতার বিশ্বকাপে ফুটবল বিশ্বকে তারা দেখিয়েছিল- আরবরাও ফুটবল খেলতে জানে। এখানে বলে রাখা ভালো, সাইবারির গোলের পর পর্দায় ভেসে উঠছিল ফরাসি তারকা জিদানের মুচকি হাসির ছবি। ভিআইপি বক্সে বসে জিদান খেলা দেখছিলেন।
