সিরিজের শেষ ওয়ানডেতে রোমাঞ্চ ছড়িয়ে ১ উইকেটে হার দেখলো বাংলাদেশ। গতকাল ম্যাচের শেষ ওভারের তৃতীয় বলে জয়সূচক রান পায় অস্ট্রেলিয়া। মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে আগে ব্যাট করে বাংলাদেশের সংগ্রহ ছিল ২৭৪/৫। তাওহিদ হৃদয় ৮৩, লিটন দাস অপরাজিত ৫৮ ও মোসাদ্দেক হোসেন করেন ৫৬ রান। জবাবে ৪৫.১ ওভার শেষে ২৬৬/৫ সংগ্রহ নিয়ে সহজ জয়ের পথে ছিল অস্ট্রেলিয়া। সফরকারীদের জয়ের জন্য শেষ ২৯ বলে প্রয়োজন মাত্র ৯ রানের। এ সময় দারুণ বোলিংয়ে বাংলাদেশের জয়ের সম্ভাবনা জাগান শরিফুল ইসলাম ও মোস্তাফিজুর রহমান । কিন্তু শেষ পর্যন্ত ৩ বল হাতে রেখে ১ উইকেটে জয় পেয়ে যায় অজিরা।
তিন ম্যাচ সিরিজ ২-১এ জিতলো বাংলাদেশ। মোস্তাফিজের বলে বোল্ড হওয়ার আগে অজি ওপেনার কুপার কোনালি একাই করেন ১৪৯ রান। ক্যারিয়ার সেরা বোলিংয়ে ১০ ওভারে স্পেলে ৪৮ রানে ছয় উইকেট নেন পেসার শরিফুল ইসলাম। দিনটি ভবালেঅ যায়নি তাসকিন আহমেদের। এক উইকেট পেলেও ৭.৩ ওভারে স্পেলে ৫৯ দেন এ ডানহাতি পেসার। ৪৪তম ওভারে তাসকিনকে তিনটি ছক্কা হাঁকান কোনালি। নইলে ম্যাচের ফল অন্যরকম হতে পারতো।
মিরপুরে ১১ বছরে প্রথম ফিফটি লিটনের
মাঠের অসহ্য গরম আর আর্দ্র আবহাওয়ার মাঝে লড়াই করতে গিয়ে পায়ের পেশির টানে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন স্টাইলিশ ওপেনার লিটন কুমার দাস। প্রথমে কিছুক্ষণ চিকিৎসা নিয়েও শেষ রক্ষা হয়নি। তিনি যখন খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে মাঠ ছাড়ছিলেন, তখন গ্যালারি জুড়ে নেমে এসেছিল শঙ্কার ছায়া। তবে মাঠ ছাড়ার পূর্বে ৪৮ রানে অপরাজিত থাকা এই ব্যাটারের লড়াকু মানসিকতার গল্পটা এখানেই শেষ হয়ে যায়নি। পরবর্তীতে দলের প্রয়োজনে ৪৯তম ওভারে আবারও মাঠে নেমে অর্ধশতক পূরণ করেন তিনি। যদিও সিরিজের শেষ ম্যাচে জিততে পারেনি বাংলাদেশ। জানা গেছে লিটনের ইনজুরিটা খুব বড় কিছু নয়। বিশ্রাম নিয়ে টি-টোয়েন্টি সিরিজেই মাঠে ফিরতে পারবেন বলে জানিয়েছে বিসিবি’র একটি সূত্র।
লিটনের ওয়ানডে অভিষেক হয়েছিল মিরপুর মাঠেই, ১৮ জুন ২০১৫ সালে ভারতের বিপক্ষে। এরপর দীর্ঘ ১১ বছরের ক্যারিয়ারে এই মাঠে ২৯ ওয়ানডে খেলে তিনি ফিফটির দেখা পাননি। গতকালই প্রথম পঞ্চাশোর্ধ্ব রানের ইনিংস খেললেন মিরপুরের উইকেটে। এর আগে ঘরের মাঠে তার সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ওয়ানডে ইনিংস ছিল নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ৪৬ রান। গতকাল দলীয় মাত্র ৬১ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে যখন বাংলাদেশ ঘোর বিপাকে, ঠিক তখনই ক্রিজে আসেন লিটন। চতুর্থ উইকেটে তরুণ তাওহিদ হৃদয়কে সঙ্গে নিয়ে ৯২ রানের জুটি গড়েন। ১০৩ ওয়ানডেতে ২৮১১ রান করা লিটনের ৫ সেঞ্চুরি ও ১৪ ফিফটি থাকলেও হোম অব ক্রিকেটে ওয়ানডেতে এটিই তার প্রথম হাফ সেঞ্চুরি। ওয়ানডেতে তার ক্যারিয়ারের সর্বোচ্চ ১৭৬ রানের ইনিংসটি অবশ্য এসেছিল সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে।
