নোয়াখালীতে অস্তিত্বহীন পরিচয়ে ভোটার হলেন ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক আসামি

নোয়াখালীতে অস্তিত্বহীন পরিচয়ে ভোটার হলেন ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক আসামি

ফন্ট সাইজ:

জাল তথ্য ও ভুয়া পরিচয়ে নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ডের নাগরিক ও ভোটার হয়েছেন কামাল হোসেন নামে এক ব্যক্তি। কাগজে-কলমে নিজেকে পশ্চিমপাড়ার খালেক মেম্বার বাড়ির মৃত আবু তাহেরের ছেলে দাবি করলেও বাস্তবে ওই বাড়িতে তার কোনো অস্তিত্ব নেই। মূলত আসল পরিচয় আড়াল করে গ্রেপ্তার এড়াতে সোনাইমুড়ী পৌরসভা ও উপজেলা নির্বাচন অফিসের একটি অসাধু চক্রের সহায়তায় এই জালিয়াতি করেছেন তিনি। অনুসন্ধানে জানা গেছে, কামাল হোসেন মূলত দেশের বিভিন্ন মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক আসামি। তার বিরুদ্ধে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের বনানী থানায় চেক ডিজঅনারের মামলায় ইতিমধ্যেই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি রয়েছে। এ ছাড়া নোয়াখালীর হাতিয়া থানায় সরকারি কর্মচারীর ছদ্মবেশ ধারণ, অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে মামলাসহ ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ এবং ময়মনসিংহের ভালুকা মডেল থানায় পৃথক দু‘টি ফৌজদারি মামলা রয়েছে।

জানা যায়, মৃত আবু তাহেরের দুই ছেলে মনির আহম্মদ ও খোরশেদ আলম এবং ৬ মেয়ে রয়েছেন। আবু তাহেরের স্ত্রী রোকেয়া খাতুন এবং প্রতিবেশী ফেরদৌস বেগম, শাহাদাত হোসেনসহ স্থানীয়রা নিশ্চিত করেন, কামাল হোসেন নামের কাউকে তারা চেনেন না। তার ছবি দেখে অনেকে তাকে রোহিঙ্গা বলেও সন্দেহ করছেন। ভুয়া তথ্যের কারণে পুলিশ এই বাড়িতে তদন্তে আসায় ক্ষোভ প্রকাশ করে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে জড়িত চক্রটির শাস্তির দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। কামাল হোসেনের এনআইডি (শেষ চার সংখ্যা ১৫৬৪) পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ভোটার আবেদনে সংযুক্ত জন্ম সনদটি ২০১৪ সালের ২৫শে জুন নিবন্ধিত হলেও, বাম পাশে তথ্য যাচাইকারী কর্মকর্তা ও পৌর মেয়রের স্বাক্ষরের তারিখ উল্লেখ রয়েছে ২০১৯ সালের ২৮শে অক্টোবর। অর্থাৎ, ৫ বছর পর পৌর কর্তৃপক্ষ এতে স্বাক্ষর করেছে। এ বিষয়ে পৌরসভার বর্তমান স্যানিটারি ইন্সপেক্টর মো. শামসুল আলম জানান, তৎকালীন ওয়ার্ড জনপ্রতিনিধির প্রত্যয়ন ছাড়া জন্মনিবন্ধন দেয়ার সুযোগ নেই। তাছাড়া, কামালের ভোটার আবেদনপত্রের তথ্য সংগ্রহকারী ফাতেমা তুজ জোহরা (এনআইডি শেষ চার সংখ্যা ১৩৭৭), শনাক্তকারী খুরশিদা বেগম (এনআইডি ১১৫১) এবং সুপারভাইজার শেখ আহমদ ভূঁইয়া (এনআইডি ৫৯৩১)-এর স্বাক্ষর রয়েছে।
২০২০ সালের ২৫শে সেপ্টেম্বর কামাল হোসেনের স্মার্ট কার্ডটি ইস্যু হয়। তৎকালীন উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা বিমলেন্দু কিশোর পাল (বর্তমানে চাটখিলে কর্মরত) জানান, বিপুলসংখ্যক ভোটারের মাঝে নির্দিষ্ট এই ব্যক্তির বিষয়টি তার মনে নেই। নোয়াখালী-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন জানান, এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাসরিন আকতার বলেন, কেউ আগে ভুয়া উপায়ে ভোটার হয়ে থাকলে তথ্য সাপেক্ষে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন