ঘরের মাঠের বিশ্বকাপে গতবার তিন ম্যাচের সব হেরে বিদায় নিতে হয় কাতারকে। তবে এবার নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়ে বিশ্বমঞ্চে প্রথম পয়েন্ট অর্জনের ঐতিহাসিক গৌরব মেখেছে মধ্যপ্রাচ্যের দলটি। সান ফ্রান্সিসকোর লেভিস স্টেডিয়ামে গ্রুপ ‘বি’-এর উদ্বোধনী ম্যাচে শক্তিশালী সুইজারল্যান্ডকে ১-১ গোলে রুখে দিয়েছে তারা। প্রথমার্ধে ব্রিল এমবোলোর পেনাল্টি গোলে সুইসরা এগিয়ে গেলেও, ৯৪তম মিনিটে বুয়ালেম খুখির দুর্দান্ত হেডের গোলে সমতায় ফেরে কাতার।
ম্যাচ শেষে কাতারের স্প্যানিশ কোচ হুলেন লোপেতেগি উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, ‘বিশ্বকাপে জায়গা করে নেয়াটাই আমাদের প্রথম স্বপ্ন ছিল। আজকে আরেকটি ছোট স্বপ্ন পূরণ হলো। আমাদের এই দলটি প্রমাণ করেছে তারা বড় মঞ্চে লড়াই করতে জানে। এখন আমরা স্বপ্ন দেখে যাওয়ার অধিকার অর্জন করেছি।’ ম্যাচের শুরু থেকেই বল দখল ও আক্রমণে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করে সুইজারল্যান্ড। সপ্তদশ মিনিটে লিড নেয় তারা। বক্সের ভেতর সুইস ফরোয়ার্ড এমবোলোফকে ফাউল করে বসেন কাতারি গোলকিপার মাহমুদ আবুনাদা। স্পট কিক থেকে নিখুঁত শটে বল জালে জড়ান এমবোলো। ভিসা জটিলতা কাটিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আসার মাত্র এক সপ্তাহ পরেই গোল করে সুইস সমর্থকদের উল্লাসে ভাসান এই ফরোয়ার্ড।
এরপর পুরো ম্যাচে একের পর এক আক্রমণ করেও ফরোয়ার্ডদের ব্যর্থতায় ব্যবধান বাড়াতে পারেনি সুইসরা। ম্যাচ জুড়ে সুইজারল্যান্ডের দাপটের সামনে কাতার দ্বিতীয় সেরা দল হয়ে থাকলেও শেষ পর্যন্ত হার মানেনি। স্প্যানিশ কোচ হুলেন লোপেতেগির শিষ্যরা কাউন্টার অ্যাটাক থেকে সুইস রক্ষণভাগে ভীতি ছড়াতে থাকে। অবশেষে ইনজুরি টাইমের চতুর্থ মিনিটে (৯৪তম মিনিটে) আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। একটি চমৎকার ক্রস থেকে উড়ে আসা বলে দুর্দান্ত হেডে সুইস কিপার গ্রেগর কোবেলকে পরাস্ত করেন বুয়ালেম খুখি। বিশ্বকাপে কাতারের ইতিহাস গড়া প্রথম পয়েন্ট নিশ্চিত হতেই মাঠের মাঝেই সেজদায় লুটিয়ে পড়েন কাতারি ফুটবলাররা।
