সব কাগজ ঠিক থাকার পরও ‘সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে যোগসূত্র’ থাকার অভিযোগে সোমালিয়ার রেফারি ওমর আরতানকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে দেয়া হয়নি। ফলে ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপে ম্যাচ পরিচালনার স্বপ্নভঙ্গ হয় তার। মাঠে নামতে না পারলেও এই সোমালি রেফারিকে টুর্নামেন্টের পুরো বেতন বা পারিশ্রমিক দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ‘ফিফা’। গত সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামার পর সোমালিয়ার এই রেফারিকে প্রায় ১১ ঘণ্টা ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করে মার্কিন ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ। এরপর তার কূটনৈতিক পাসপোর্ট এবং সিঙ্গেল-এন্ট্রি মার্কিন ভিসা বাতিল করে দেশে ফেরত পাঠানো হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের একজন সরকারি কর্মকর্তা জানান, সোমালিয়ার উগ্রপন্থি সংগঠন ‘আল-শাবাব’-এর সন্দেহভাজন সদস্যদের সঙ্গে আরতানের যোগাযোগ থাকার অভিযোগে তাকে আমেরিকায় প্রবেশ করতে দেয়া হয়নি। তবে আরতান এই অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করে জানান, তিনি ওই সংগঠন সম্পর্কে কিছুই জানেন না। আরতান বলেন, ‘আমার সব কাগজপত্র এবং ভিসা একদম ঠিক ছিল। আমি স্রেফ একজন সাধারণ রেফারি, যে নিজের জীবনের সবচেয়ে বড় স্বপ্ন-বিশ্বকাপে ম্যাচ পরিচালনা করার স্বপ্নপূরণে এসেছিল।’
মায়ামি থেকে তাকে প্রথমে তুরস্কের বিমানে তুলে দেয়া হয়। ইস্তাম্বুলে পৌঁছানোর পর ফিফা কর্মকর্তারা আরতানকে প্রয়োজনীয় সহায়তা করেন এবং সেখান থেকে তিনি সোমালিয়ার রাজধানী মোগাদিশুতে ফিরে যান। সেখানে পৌঁছালে দেশবাসী তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানায়। নির্ভরযোগ্য সূত্রে বিবিসি স্পোর্টস জানিয়েছে, বিশ্বকাপে অংশ নিতে না পারলেও ফিফা আরতানের পুরো বেতন পরিশোধ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। সাধারণত বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পর রেফারিদের এই ফি দেয়া হয়। ৩৪ বছর বয়সী ওমর আরতান ২০২৫ সালে সাফল্যের সঙ্গে রেফারির দায়িত্ব পালন করেন। প্রথম সোমালি রেফারি হিসেবে আফ্রিকান চ্যাম্পিয়ন্স লীগের ফাইনাল পরিচালনা করার গৌরব অর্জন করেন তিনি।
এছাড়া চিলিতে অনুষ্ঠিত অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপ এবং আফ্রিকা কাপ অব নেশনসের ম্যাচও পরিচালনা করেন তিনি। যার স্বীকৃতিস্বরূপ কনফেডারেশন অব আফ্রিকান ফুটবল (ক্যাফ)-এর বর্ষসেরা পুরুষ রেফারি নির্বাচিত হন আরতান। যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে বিশ্বকাপ স্বপ্ন ভাঙলেও আরতানের সামনে বড় সুযোগ এসেছে ইউরোপে। আগামী ১২ই আগস্ট অস্ট্রিয়ার সালজবার্গে উয়েফা সুপার কাপের ফাইনালে প্যারিস সাঁ জার্মেই (পিএসজি) বনাম অ্যাস্টন ভিলার মধ্যকার ম্যাচটি পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছেন তিনি। নিজের দেশ ও মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে এই সোমালি রেফারি দৃঢ় কণ্ঠে বলেছেন, ২০৩০ বিশ্বকাপে ম্যাচ পরিচালনা করাই এখন তার পরবর্তী লক্ষ্য।
