সীতাকুণ্ডে জুয়ার আসর ফের জমজমাট

ফন্ট সাইজ:

সীতাকুণ্ডে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে তিন জুয়াড়ির কারাদণ্ডের এক মাসও পার হয়নি। এরমধ্যে একইস্থানে আবারো জমে উঠেছে অবৈধ জুয়ার আসর। স্থানীয়দের অভিযোগ, খুচরা জুয়াড়িদের আটক করা হলেও মূলহোতারা অধরাই থেকে যাওয়ায় বন্ধ হয়নি জুয়ার কারবার।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার সোনাইছড়ি ইউনিয়নের চৌধুরীঘাটা এলাকায় নাজিয়া রি-রোলিং মিল সংলগ্ন একটি ট্রাক ডিপোকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে পরিচালিত হয়ে আসছে এই জুয়ার আসর। প্রতিদিন সন্ধ্যার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত সেখানে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে জুয়াড়িরা এসে জড়ো হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
গত ১৪ই মে গভীর রাতে উপজেলা প্রশাসন ও সীতাকুণ্ড থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে ওই আসর থেকে তিন জুয়াড়িকে আটক করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে নাজি উদ্দিন (৪৭), মো. আজম (২৯) ও মো. কামাল হোসেন (৪৭)-কে এক মাসের কারাদণ্ড দেয়া হয়। অভিযানের সময় আরও কয়েকজন পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থল থেকে নগদ অর্থ ও স্বর্ণালংকারও উদ্ধার করা হয়েছিল।
স্থানীয়দের দাবি, অভিযানের পর কয়েকদিন পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলেও বর্তমানে আবারো পুরোদমে বসছে জুয়ার আসর। তাদের অভিযোগ, ট্রান্সপোর্ট ব্যবসায়ী সোহেল ও রমজান ওরফে মালু এই আসরের অন্যতম নিয়ন্ত্রক। অভিযানের সময় তারা পালিয়ে যাওয়ায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে ধরা পড়েননি। এরপর থেকেই তাদের নেতৃত্বে পুনরায় জুয়ার কার্যক্রম শুরু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, এখানে শুধু সাধারণ জুয়া নয়, বড় অঙ্কের টাকার লেনদেন হয়। চট্টগ্রাম শহর ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে দামি মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকার ও সিএনজি করে জুয়াড়িরা আসেন। এ সময় মাদকসেবনের পর জুয়ার আসরে বসেন তারা। টাকা হারিয়ে ফেললে মোটরসাইকেল কিংবা প্রাইভেটকার বন্ধক রেখে লাখ লাখ টাকা ধার নেয়ার ঘটনাও ঘটে বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, পুরো আসরটি পরিচালনায় নেয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। জুয়ার ঘর থেকে প্রধান সড়ক পর্যন্ত ১৫ থেকে ২০টি সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। ক্যামেরা মনিটরিংয়ের জন্য রয়েছে আলাদা লোক। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি কিংবা কোনো ধরনের ঝামেলার আভাস পেলেই জুয়াড়িদের পেছনের দরজা দিয়ে পালিয়ে যেতে সহায়তা করা হয়।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, জুয়ার কারণে বহু পরিবার আর্থিক ও সামাজিক সংকটে পড়ছে। পারিবারিক কলহ বাড়ছে, নষ্ট হচ্ছে সামাজিক পরিবেশ। সহজে অর্থ উপার্জনের প্রলোভনে তরুণদের একটি অংশও এই অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে।
সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. ফখরুল ইসলাম বলেন, জুয়ার আসরের বিষয়ে অভিযোগ পেয়েছি। আবারো অভিযান পরিচালনা করা হবে। জুয়ার বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
সীতাকুণ্ড মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মহিনুল ইসলাম বলেন, ‘জুয়া, মাদক, পতিতাবৃত্তি ও চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত কোনো ব্যক্তির কাছ থেকে আমি কখনো অর্থ গ্রহণ করিনি এবং করবোও না। এসব অপরাধের বিরুদ্ধে আমার জিরো টলারেন্স নীতি রয়েছে।



কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন