২০২২ আসরে পর্তুগাল ও স্পেনকে বিদায় করে বিশ্বকাপে প্রথম আফ্রিকান দল হিসেবে সেমিফাইনাল খেলে মরক্কো। তবে ২০২৬ উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপে আর ‘আন্ডারডগ’ বা চমক জাগানো দল হয়ে থাকতে রাজি নন অ্যাটলাস লায়নদের কোচ মোহামেদ ওয়াহবি। ফুটবল পরাশক্তি ব্রাজিলের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্রয়ের পর মরক্কান মাস্টারমাইন্ড সাফ জানিয়ে দিলেন, এবার শেষ চারের গণ্ডি পেরিয়ে আরও সামনে যেতে ক্ষুধার্ত তার দল।
নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে বল দখলে রেখে সাহসিকতার সঙ্গে লড়াই করেছে মরক্কো। ২১তম মিনিটে ইসমায়েল সাইবারির গোলে লিড নিয়ে প্রথমার্ধেই ম্যচ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয় তারা। ম্যাচ শেষে দলের আত্মবিশ্বাসী ফুটবল নিয়ে গর্বিত ওয়াহবি বলেন, ‘যা নিয়ে আমি সত্যিই গর্বিত তা হলো-চাপের মুখেও বল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখে সাহসিকতার সঙ্গে খেলার মানসিকতা আমাদের আছে। এটি আমাদের দলের একটি বড় গুণ। আমি এবার সেমিফাইনাল পেরিয়ে আরও সামনে যেতে চাই।’
অবশ্য ৩২তম মিনিটে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের গোলে পূর্ণ ৩ পয়েন্ট পাওয়া হয়নি মরক্কোর। পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে এই ১ পয়েন্ট নিয়ে মোটেও অসন্তুষ্ট নন ওয়াহবি। তিনি বলেন, ‘ব্রাজিলের বিপক্ষে ড্র করেই আমরা খুশি, আমি হতাশ নই। অবশ্যই আমরা জিততে চেয়েছিলাম, তবে আমার খারাপ লাগছে না। আপাতত এক পয়েন্টই যথেষ্ট, আমরা আরও উন্নতি করবো।’
ব্রাজিল-মরক্কো ম্যাচে গ্যালারির সিংহভাগ হলুদের দখলে থাকলেও, মরক্কোর সমর্থকদের গর্জন আলাদা করে নজর কেড়েছে কোচের। গ্যালারির আবহ নিয়ে ওয়াহবি রসিকতা করে বলেন, ‘জানি না স্টেডিয়ামের ২০ শতাংশ দর্শক মরক্কোর ছিল কিনা। তবে তাদের গর্জন শুনতে পাচ্ছিলাম। সংখ্যাটা কেবল ২০ শতাংশ হলে তারা আমাকে বোকা বানিয়েছে। আমার মনে হচ্ছিল, স্টেডিয়ামে আমাদের সমর্থকই বেশি।’
কোচের সুরেই সুর মিলিয়েছেন মরক্কোর তরুণ মিডফিল্ডার সামির এল মুরাবেত। ম্যাচ শেষে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘বিশ্বকাপে খেলা আমার শৈশবের স্বপ্ন ছিল। ব্রাজিলের বিপক্ষে এই ফল আমাদের পরবর্তী ম্যাচের জন্য দারুণ অনুপ্রেরণা যোগাবে। তবে আমরা জানি যে আমাদের আরও কয়েকটি গোল করা উচিত ছিল। পরবর্তী ম্যাচে এই ভুলগুলো শুধরে আমরা মাঠে নামবো।’
