মরক্কোর সঙ্গে ১-১ গোলের ড্রয়ে হেক্সা মিশন শুরু করলো ব্রাজিল। ম্যাচের পর কৌশল আর বদলি খেলোয়াড় নামানো নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে অসহিষ্ণু ও ক্ষুব্ধ শোনালো কোচ কার্লো আনচেলোত্তিকে। অন্যদিকে, সতীর্থদের প্রতি কড়া বার্তা দিয়ে রাখলেন ব্রাজিলের ত্রাতা ও একমাত্র গোলদাতা ভিনিসিয়ুস জুনিয়র।
আফ্রিকান চ্যাম্পিয়ন মরক্কোর আধিপত্যের সামনে ম্যাচের প্রথমার্ধে রীতিমতো কোণঠাসা হয়ে পড়ে ব্রাজিল। অথচ ত্রয়োদশ মিনিটে ব্রেন্টফোর্ড স্ট্রাইকার ইগর থিয়াগোর সামনে হেডে এক সুবর্ণ সুযোগ আসে দলকে এগিয়ে নেয়ার। তবে বলে মাথাই লাগাতে পারেননি তিনি। এরপরই ইসমায়েল সাইবারির গোলে লিড নেয় মরক্কো। ম্যাচের পর আনচেলোত্তি বলেন, ‘আমার মনে হয় শুরুতে দল কিছুটা উদ্বিগ্ন ছিল। সবার মধ্যে প্রচণ্ড স্নায়ুচাপ কাজ করছিল। আমরা বল দখলে রাখতে পারছিলাম না। প্রথমার্ধে খেলা মোটেও ভালো হয়নি।’ একইসঙ্গে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘কিন্তু আমাদের ভেঙে পড়লে চলবে না। এটি বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচ। প্রথম ম্যাচ দেখেই কেউ বিশ্বকাপ জিতে যায় না।’ প্রথমার্ধের নিষ্প্রভ ফুটবল শেষে বিরতির পর অভিজ্ঞ ক্যাসেমিরো ও রজার ইবানেজকে তুলে নিয়ে ফ্যাবিনহো ও দানিলোকে মাঠে নামান আনচেলোত্তি। আরও আগে বদলি না করা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে কিছুটা চটেই যান তিনি। কিছুটা ক্ষুব্ধ সুরে বলেন, ‘৪৫ মিনিটে দুজনকে বদল করা হয়েছে, ৬১ মিনিটে আরেকজনকে। আপনি কি শুনতে পাচ্ছেন আমি যা বলছি? আমার মনে হয় না বদলি নামানোর ক্ষেত্রে আমরা কোনো দেরি করেছি।
তবে আল আহলির ডিফেন্ডার ইবানেজ কিংবা চুক্তিহীন ৩৪ বছর বয়সী কাসেমিরোর পাশে দাঁড়িয়েছেন কোচ। তিনি বলেন, ‘এরা ভালো খেলোয়াড়। আমি সঠিক একাদশই বেছে নিয়েছিলাম। শুরুর একাদশের কোনো নির্দিষ্ট খেলোয়াড়ের সমালোচনা আমি নেব না। সমালোচনা যদি করতে হয়, তবে পুরো দলের করা উচিত।’ কোচের সুরেই সুর মিলিয়ে সতীর্থদের কড়া বার্তা দিয়েছেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। ৩২তম মিনিটে একক জাদুতে গোল করে ব্রাজিলকে সমতায় ফেরানো এই রিয়াল মাদ্রিদ ফরোয়ার্ড বলেন, ‘আমরা ম্যাচটা খুব বাজেভাবে শুরু করেছিলাম। প্রথম ম্যাচ সবসময়ই কঠিন, তবে গোল হজম করার পর ছন্দ ফিরে পাওয়া আরও কঠিন। আমাদের বল দখলে রাখতে হবে, মাঠে আরও ভালো মুভমেন্ট করতে হবে। এই মুহূর্তে আসলে বেশি কিছু বলার নেই, আমাদের প্রচুর উন্নতি করতে হবে।’
