বিশ্বকাপের হট ‘ফেভারিট’ স্পেনের মিশন শুরু হচ্ছে আজ। আতালান্তা স্টেডিয়ামে রাত ১০টায় ‘এইচ’ গ্রুপের ম্যাচে সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের প্রতিপক্ষ কেপ ভার্দে। মাঠে নামার সঙ্গে সঙ্গেই কেপ ভার্দে ইতিহাসের পাতায় নাম লেখাবে। বিশ্বকাপে এটিই তাদের প্রথম ম্যাচ। প্রথম ম্যাচ হবে লামিন ইয়ামালের জন্যও।
ফিটনেস সমস্যায় অনিশ্চয়তা থাকলেও স্প্যানিয়ার্ড কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে তাকে খেলানোর ব্যাপারে আশাবাদী। সুইডিশ কিংবদন্তি জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচের চোখে ইয়ামাল ‘ম্যাজিক প্লেয়ার’। স্পেনকে ইউরো জেতানো ইয়ামাল এবার ছাপিয়ে যেতে পারেন মেসি-রোনালদোর মতো মহারথীদের।
ইনজুরি কাটিয়ে গত সপ্তাহে ট্রেনিং সেশন শুরু করেন লামিন ইয়ামাল ও নিকো উইলিয়ামস। প্রায় ফিট হয়ে উঠেছেন তারা। তবে শুরুর একাদশে লামিন থাকবেন কিনা তা নিশ্চিত নয়। পেশীর চোটে পড়া ভিক্টর মুনোজ বিশ্রামে থাকতে পারেন। সেক্ষেত্রে ফেরান তোরেসের সঙ্গে আক্রমণভাগে দেখা যেতে পারে আলেক্স বায়েনা ও মাইকেল ওইয়াসাবালকে। রাইটব্যাকে পেদ্রো পোরোর সঙ্গে রক্ষণভাগে থাকতে পারেন কুবারসি, লাপোর্তে ও কুকুরেয়া। ফাবিয়ান রুইজ, রদ্রি আর পেদ্রি মাঝমাঠের দায়িত্বে।
মাত্র ৬ লাখ জনগোষ্ঠীর দ্বীপরাষ্ট্র কেপ ভার্দে দলের অধিকাংশ খেলোয়াড়ের জন্ম অন্য কোনো দেশে। পর্তুগাল, ফ্রান্স ও নেদারল্যান্ডের প্রবাসী ফুটবলারদের শক্তিতে বলীয়ান তারা। স্বাধীনতার ৫০ বছরের মধ্যে বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে জায়গা করে নেয়া দলটি বাছাই পর্বেই প্রমাণ করেছে নিজেদের। ক্যামেরুনকে পেছনে ফেলে সরাসরি আমেরিকার টিকিট কাটে তারা। সাবেক ডিফেন্ডার পেদ্রো বুবিস্তা ২০২০ সাল থেকে কেপ ভার্দের কোচের দায়িত্বে রয়েছেন। দলের সবচেয়ে অভিজ্ঞ খেলোয়াড় রায়ান মেন্ডেস। ৩৬ বছর বয়সী অধিনায়কের নামের পাশে ৯৬ ম্যাচে ২২ গোল ও ৮ অ্যাসিস্ট। তবে র্যাঙ্কিংয়ে ৬৭ নম্বরে থাকা কেপ ভার্দের বিপক্ষে নিজেদের এগিয়েই রাখছেন স্প্যানিয়ার্ড আলেক্স গ্রিমালদো। রক্ষণভাগের এই তারকা বলেন, ‘আমাদের ফেভারিট হিসেবেই দেখছি। আমাদের দলটি আত্মবিশ্বাসে ভরপুর। ভালো কিছুর জন্য মরিয়া হয়ে আছি। কারণ আমাদের তা করার মতো দল আছে।’
ফুয়েন্তের ‘দেল বস্কে’ হওয়ার স্বপ্ন
২০০৮ সালে ইউরো জয়ের দুই বছর পর স্পেনকে বিশ্বকাপ ট্রফি জেতান ভিসেন্তে দেল বস্কে। এবার একই সমীকরণের পথে হাঁটছেন ফুয়েন্তে। তার অধীনে স্পেন এক ইউরোপ সেরা। লা রোহাদের স্কোয়ার্ডে বার্সেলোনার খেলোয়াড়দের আধিপত্য। ঠিক যেমনটি দেখা গিয়েছিল ২০১০ বিশ্বকাপ আসরে। ফুয়েন্তের অধীনে এখন পর্যন্ত ৪১ ম্যাচে ৩২ জয় স্পেনের, ড্র ছয়টি, হার মাত্র তিনটি। ৪-৩-৩ অথবা ৪-২-৩-১ আক্রমণাত্মক ছকে খেলাতে পছন্দ করেন এই কোচ।
