খেলা থামিয়ে ফিফা’র আয় কোটি টাকা

ফুটবল নাকি বিজ্ঞাপনের মঞ্চ!

খেলা থামিয়ে ফিফা’র আয় কোটি টাকা

ফন্ট সাইজ:

বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচ। স্বাগতিক মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকার লড়াইয়ে তখন টানটান উত্তেজনা। ঘড়ির কাঁটা মাত্র ২৪ মিনিট ছুঁয়েছে। এমন সময়ে রেফারির বাঁশি। বন্ধ খেলা। অস্ট্রেলিয়ার ক্রীড়া সম্প্রচারক প্রতিষ্ঠান ফক্স স্পোর্টসের ধারাভাষ্যকার চিৎকার করে বলে উঠলেন, ‘পাওয়ারেডের সৌজন্যে খেলা এখন ওয়াটার ব্রেকে যাচ্ছে!’ সঙ্গে সঙ্গে টেলিভিশনের পর্দায় ভেসে উঠলো একের পর এক বিজ্ঞাপন। স্পোর্টস ড্রিংক, টেলিকম, লাইট বিয়ার, জুয়ার অ্যাপের প্রচারণায় ফিফা।

তিন মিনিট পর বিজ্ঞাপন শেষ, খেলোয়াড়েরা আবার মাঠে। ফুটবলপ্রেমীদের বুঝতে বাকি রইলো না; এটি পানি পানের বিরতি নয়, এটা টাকার খেলা। ২০২৬ বিশ্বকাপে ফিফা চালু করেছে বাধ্যতামূলক ‘হাইড্রেশন ব্রেক’। প্রতিটি অর্ধে একবার করে তিন মিনিটের এই বিরতি দেয়া হচ্ছে। ১০৪ ম্যাচের প্রত্যেকটিতেই থাকছে এ নিয়ম। বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রণ সংস্থার দাবি, গরমের মধ্যে খেলোয়াড়দের সুরক্ষার জন্যই এই ব্যবস্থা। কিন্তু উদ্বোধনী ম্যাচের দিন মেক্সিকো সিটির তাপমাত্রা ছিল মাত্র ২৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যা গ্রীষ্মে সহনীয় তাপমাত্রা। তবুও খেলা থামানো হলো। খেলোয়াড়দের পানি পানের জন্য ৩ মিনিট সময়ের কেন প্রয়োজন, তার কোনো যৌক্তিক ব্যাখ্যা ফিফা দিতে পারেনি। বিশ্বকাপের মতো মঞ্চে প্রতি সেকেন্ডেই আলাদা রোমাঞ্চ থাকে। এই রোমাঞ্চকে উপেক্ষা করে জোর করে খেলা থামানোকে নজিরবিহীন ও লজ্জাজনক বলছেন ফুটবল বোদ্ধারা। ফিফা দাবি করেছে, খেলোয়াড়দের ফিটনেস ও সেরা কন্ডিশন ধরে রাখতেই এই বিরতি। তবে আসল সত্য হলো এর মাধ্যমে সম্প্রচারকারীদের পকেট ভারী করা।

ফক্স স্পোর্টস ২০১৫ সালেই ৫০০ মিলিয়ন ডলারে যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো-কানাডা বিশ্বকাপের সম্প্রচার স্বত্ব কিনে নিয়েছিল। এবার দল ও ম্যাচ সংখ্যা বাড়ায় তাদের আয় বেড়েছে। তার ওপর হাইড্রেশন ব্রেক যোগ হওয়ায় অতিরিক্ত বিজ্ঞাপণ দেখানোর সুযোগ পাচ্ছে সম্প্রচার প্রতিষ্ঠানটি। আমেরিকার স্পোর্টস ইন্ডাস্ট্রির গবেষকদের মতে, এই ৩ মিনিটের একেকটি বিজ্ঞাপনের স্লট প্রায় ৭ থেকে ৯ মিলিয়ন ডলারে (প্রায় ৮০ থেকে ১০০ কোটি টাকা) বিক্রি হতে পারে! যা আমেরিকার বিখ্যাত এনএফএল ফাইনালে প্রচারিত বিজ্ঞাপনের দামের সমতুল্য। ফিফার এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছেন যুক্‌রাষ্ট্র ফুটবল দলের কোচ মাউরিসিও পচেত্তিনো। তিনি বলেন, ‘তীব্র গরম পড়লে এমন বিরতি মানা যায়। পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলে এর কোনো প্রয়োজন নেই। আমি এটা মোটেও পছন্দ করছি না।’ একই সুরে কথা বলেছেন আমেরিকার কিংবদন্তি নারী ফুটবলার কার্লি লয়েড। টুইটারে তিনি লিখেছেন, ‘আমি এই নিয়মটিকে ঘৃণা করি।’ মেক্সিকোর ঐতিহ্যবাহী এস্তাদিও আজতেকা স্টেডিয়ামের নামও পাল্টে ফেলেছে ফিফা। যে মাঠ ১৯৭০ সালে পেলে বিশ্বজয় ও দিয়েগো ম্যারাডোনা শতাব্দীর সেরা গোল ‘হ্যান্ড অব গড’ স্বাক্ষী সেই মাঠের নাম পাল্টাতে খুব একটা ভাবেনি। শহরের নামে নামকরণের দোহাই দিয়ে নাম পাল্টে রাখা হয়েছে ‘মেক্সিকো সিটি স্টেডিয়াম’। টাকা পেলে ফিফা কখন যে মাঠের নাম কোনো স্পন্সরের নামে রেখে দেয় সেটা অনুমান করাও মুশকিল!

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন