কিশোরগঞ্জে রোগীর স্বজনকে মারধরের অভিযোগে চিকিৎসককে অব্যাহতি, তদন্তে কমিটি

ফন্ট সাইজ:

কিশোরগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে এক রোগীর স্বজনকে আটকে রেখে মারধরের অভিযোগে ইসরাত জাহান মৌ নামে এক চিকিৎসককে দায়িত্ব থেকে সাময়িক অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। রোববার তাকে সাময়িক অব্যাহতি দেয়া হয়। এ ছাড়া এ ঘটনা তদন্তের জন্য ঢাকা বিভাগের বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি করেছেন। কমিটির সভাপতি করা হয়েছে নরসিংদীর সিভিল সার্জনকে। এ ছাড়া কমিটির দুই সদস্য হলেন নরসিংদী সিভিল সার্জনের কার্যালয়ের মেডিকেল অফিসার এবং শিবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা। কিশোরগঞ্জের ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. মো. নাজমুল করিম তদন্ত কমিটি গঠনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

জানা যায়, শনিবার কিশোরগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের ভেতরে একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে মো. উবায়দুল্লাহ নামে এক রোগীর স্বজনের সঙ্গে ডা. ইসরাত জাহান মৌয়ের কথাকাটাকাটি হয়। অভিযোগ উঠেছে, ভিডিও করার অপরাধে ওই চিকিৎসক রোগীর স্বজনকে একটি কক্ষে আটকে রেখে তার সহকারীদের মাধ্যমে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত ও মারধর করেন। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। হাসপাতাল প্রশাসন জরুরি বৈঠকে বসে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পর ডা. ইসরাত জাহান মৌকে সাময়িকভাবে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।

হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক ডা. নূর মোহাম্মদ শামসুল আলম বলেন, একজন চিকিৎসকের কাছ থেকে এ ধরনের আচরণ কোনোভাবেই কাম্য নয়। রোগীর স্বজনের সঙ্গে ঘটে যাওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে তাকে বর্তমান কর্মস্থল থেকে সাময়িকভাবে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। বিষয়টি তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এদিকে অভিযোগকারী মো. উবায়দুল্লাহ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেছেন। অন্যদিকে অভিযুক্ত চিকিৎসক ডা. ইসরাত জাহান মৌ নিজে নিগৃহীত হওয়ার কথা বলেছেন। বিষয়টি নিয়ে জেলা জুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন