কোস্ট গার্ডের বিশেষ অভিযান

টেকনাফে ১০টি গ্রেনেড, ২৬ রাউন্ড তাজা গোলা ও ২ কেজি গাঁজা উদ্ধার

ফন্ট সাইজ:

কক্সবাজারের টেকনাফের জাদিমুড়া সংলগ্ন নাফ নদ এলাকায় মিয়ানমারের একটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর লুকিয়ে রাখা বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও মাদক উদ্ধার করেছে কোস্ট গার্ড। রোববার দুপুরে জাদিমুড়া বৌদ্ধ মন্দির সংলগ্ন লবণ মাঠে টেকনাফ কোস্ট গার্ড স্টেশন কমান্ডার লে. মোক্তাদীন ছিদ্দিকী এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কোস্ট গার্ড স্টেশন টেকনাফ জানতে পারে, টেকনাফের সাবরাং জাদিমুড়া এলাকার নাফ নদ সংলগ্ন সীমান্ত ব্যবহার করে পরিবহনের উদ্দেশ্যে মাটির নিচে বিপুল পরিমাণ তাজা গোলা ও গ্রেনেড মজুত করেছে একটি সশস্ত্র গোষ্ঠী।

এই তথ্যের ভিত্তিতে গত ১৩ই জুন রাতে উক্ত এলাকায় একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযান চলাকালীন জাদিমুড়া এলাকায় মাটির নিচে বিশেষভাবে লুকায়িত অবস্থায় মিয়ানমার সামরিক বাহিনীতে ব্যবহৃত ২টি ৩৬গ গশ-১ হ্যান্ড গ্রেনেড, ৮টি ৪০ সস ঐঊউচ গ্রেনেড এবং ২৮ রাউন্ড ৭.৬২ মিমি তাজা গোলা উদ্ধার করা হয়। একইসঙ্গে থেকে ২ কেজি গাঁজাও জব্দ করা হয়। কোস্ট গার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্যরা অন্ধকারের সুযোগে পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। তবে কোস্ট গার্ডের গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।

উদ্ধারকৃত এই ধ্বংসাত্মক গোলাবারুদ অসৎ ব্যক্তিদের হাতে পড়লে বা অন্য কোনোভাবে বিস্ফোরিত হলে সাধারণ জনগণের জানমালের ব্যাপক ক্ষতি হতে পারতো। কোস্ট গার্ডের এই অভিযানের ফলে দেশের সীমান্ত ব্যবহার করে সশস্ত্র গোষ্ঠীর সম্ভাব্য নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড নস্যাৎ করা সম্ভব হয়েছে। উদ্ধারকৃত গ্রেনেড, তাজা গোলা এবং মাদক পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট সংস্থায় হস্তান্তরের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে এবং সীমান্ত এলাকায় সশস্ত্র গোষ্ঠীর তৎপরতা রোধে কোস্ট গার্ডের এ ধরনের অভিযান আগামীতেও অব্যাহত থাকবে। উল্লেখ্য যে, বাংলাদেশ-মিয়ানমার সমুদ্র সীমান্ত ও নাফ নদ এলাকায় অবৈধ অনুপ্রবেশ, মাদক পাচার, মানব পাচার এবং সশস্ত্র গোষ্ঠীর অপতৎপরতা রোধে সর্বদা সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন