তালতলীতে চিরকুট লিখে পুলিশ সদস্যের আত্মহত্যা

ফন্ট সাইজ:

বরগুনার তালতলীতে মো. ফারুক হোসেন (৫২) নামের এক পুলিশ সদস্য চিরকুট লিখে আত্মহত্যা করেছেন। রোববার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তালতলী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। মৃত পুলিশ সদস্য ঝালকাঠি জেলার রাজাপুর উপজেলার আংগারিয়া গ্রামের বাসিন্দা ও রতন আলী গাজীর ছেলে। পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, পুলিশ কনস্টেবল মো. ফারুক হোসেন শনিবার রাতের ডিউটি শেষ করে সকালে পুলিশ ব্যারাকে যায় ও রোববার সকালের কোনো এক সময়ে তিনি গ্যাসের ট্যাবলেট সেবন করেন। পরে সকাল ৯টা ১৫ মিনিটে দিকে অসুস্থ অবস্থায় তাকে দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সকাল সাড়ে ৯টায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় ঘটনাস্থল থেকে অনেকগুলো চিরকুট উদ্ধার করা হয়েছে।

এর সর্বশেষ একটি চিরকুটে লেখা ছিল ‘আমার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয়। আমি আমার নিজের ইচ্ছায় মৃত্যু মেনে নিচ্ছি। অযথা কাউকে যেন হয়রানি না করা হয়। আর আমার অনুরোধ বাড়িতে দয়া করে জানাবেন যে, সে স্ট্রোক করে মৃত্যুবরণ করেছে। আমার ডেথ সার্টিফিকেট সঙ্গে পাঠাইয়া দিবেন। বাড়ি জানালে তারা কোথায় আসবে নিশ্চিত করে জানাবেন যাহাতে তারা হয়রানি স্বীকার না হয় এবং মহিলারা যাতে না আসে দয়া করে বলে দিবেন।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘আমার লাশ পুরান বাড়িতে দাফন করবে। আমার স্ত্রীকে যেন আগে না জানায় তাহলে সে মারা যাবে।’ একইসঙ্গে ভাই ও জামাইয়ের মোবাইল নম্বর লিখে দেয়া হয়েছে চিরকুটে।

কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মো. সাইয়েদী হাসান সোহাগ জানান প্রাথমিকভাবে পাওয়া গেছে তিনি গ্যাসের ট্যাবলেট সেবন করেছেন। পরে হাসপাতালে নিয়ে আসলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। আমতলী সার্কেল সহকারী পুলিশ সুপার মো. তারিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, রাতের ডিউটি শেষ সকালে দিকে আত্মহত্যা করেছে। কি কারণে আত্মহত্যা করেছে সেটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আর চিরকুটে তেমন কিছুই লেখা নেই। তার পরিবারের বিভিন্ন জনকে উদ্দেশ্য করে চিরকুট লেখেন। তিনি আরও বলেন, তার পরিবারের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন