শরণার্থী শিবির থেকে এসে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ইতিহাস

শরণার্থী শিবির থেকে এসে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ইতিহাস

ফন্ট সাইজ:

খেললো তুরস্ক, জিতলো অস্ট্রেলিয়া। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ছড়ি ঘোরালো তুরস্ক। কিন্তু কাক্সিক্ষত গোল পেলো না। অন্যদিকে হিসেবী ফুটবল খেলে এবারের বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে জয় তুলে নিলো অস্ট্রেলিয়া। গতকাল ভ্যাঙ্কুভারের বিসি প্লেস স্টেডিয়ামে তুরস্ককে ২-০ গোলে হারায় সকারুজরা। দলের হয়ে প্রথম গোল করেন শরণার্থী শিবির থেকে উঠে আসা নেস্তারি ইরানকুন্ডা। পরে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন কনর মেটকাফ। অস্ট্রেলিয়ার গোলরক্ষক প্যাট্রিক বিচের অবদানকেও স্বীকার করতে হবে।

২৪ বছর পর বিশ্বকাপে ফেরা তুরস্কের ৮টি আক্রমণ ঠেকিয়ে দেন ২২ বছর বয়সী এ গোলরক্ষক। বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার গোলরক্ষক হিসেবে সর্বোচ্চ সেভের রেকর্র্ড এটি। আন্তর্জাতিক ফুটবলে তুরস্কের বিপক্ষে এটি অস্ট্রেলিয়ার প্রথম জয়। এর আগে ১৯৫৪ ও ২০০২ বিশ্বকাপে তুরস্কের কাছে হেরেছিল সকারুজরা। অস্ট্রেলিয়া জাতীয় দলের হয়ে বিশ্বকাপে নেস্তারি ইরানকুন্ডার খেলার পথটা সহজ ছিল না। বুরুন্ডি বাবা-মায়ের সন্তান ইরানকুন্ডার জন্ম তানজানিয়ার এক অন্ধকার, সুযোগ-সুবিধা বঞ্চিত শরণার্থী শিবিরে। বুলেটের শব্দ, ক্ষুধা আর চরম অনিশ্চয়তার মাঝে তার শৈশব কেটেছে তার। এরপর জীবন বাঁচাতে তার পরিবার পাড়ি জমায় অস্ট্রেলিয়ার অ্যাডিলেডে। সেখানে ধুলোবালি মেখে রাস্তায় ফুটবল নিয়ে মেতে থাকাই ছিল এই উদ্বাস্তু ছেলেটির আনন্দের উপলক্ষ্য। অভাবের সংসারে যখন বুট কেনাই ছিল বিলাসিতা, তখন তার পায়ে লুকিয়ে থাকা প্রতিভা চিনতে ভুল করেননি ব্রাজিলিয়ান কোচ এয়ারটন আন্দ্রিওলি।

অ্যাডিলেড ক্রোয়েশিয়া রেইডার্সের হয়ে খেলা এই কিশোরের পরের গল্পটা যেন রুপালি পর্দার সিনেমা! অস্ট্রেলিয়ার পেশাদার এ লীগের দল অ্যাডিলেড ইউনাইটেডের হয়ে মাত্র ১৫ বছর বয়সে ইরানকুন্ডার অভিষেক হয়। মেলবোর্নের মাঠে গোল করার পর পপ সম্রাট মাইকেল জ্যাকসনের স্টাইলে তার নাচ রাতারাতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়। এরপর নাম লেখান জার্মানির বায়ার্ন মিউনিখে। বর্তমানে তিনি ইংলিশ ক্লাব ওয়াটফোর্ডে খেলছেন ধারে। আর ২০ বছর বয়সে ইউরোপীয় ফুটবলের অভিজ্ঞতা সঙ্গী করে ইরানকুন্ডা এখন অস্ট্রেলিয়ার বিশ্বকাপ স্বপ্নের কাণ্ডারি। গতকাল তুরস্কের বিপক্ষে শুরুর একাদশে নেমেই ইতিহাস গড়েন তিনি। ২০ বছর ১২৫ দিন বয়সী এই ওয়াটফোর্ড ফরোয়ার্ড গড়েন নতুন রেকর্ড। ম্যাচের ২৮ মিনিটে মাঝমাঠ থেকে পল ওকন ইস্টলারের পাস ধরে এগিয়ে যান ইরানকুন্ডা। তিন জন ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে অসাধারণ দক্ষতায় বল নিয়ন্ত্রণ করে গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন তিনি।

গোলের পর অস্ট্রেলিয়ার কিংবদন্তি টিম ক্যাহিলের বিখ্যাত উদ্যাপনের অনুকরণ করে কর্নার পতাকার কাছে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন তিনি। এ গোলের মাধ্যমে ভেঙে দেন ব্রেট হোলম্যানের (২৬ বছর ৮৪ দিন) ২০১০ সালের রেকর্ড। সকারুজদের ইতিহাসের সর্বকনিষ্ঠ বিশ্বকাপ গোলদাতার মুকুটও মাথায় পরেন ইরানকুন্ডা (২০ বছর ১২৫ দিন)। ৭৫তম মিনিটে দ্বিতীয় গোলটি পায় অস্ট্রেলিয়া। তুরস্কের ইসমাইল ইউকসেকের ভুলের সুযোগ নিয়ে দ্রুত পাল্টা আক্রমণে ওঠে দলটি। বক্সের বাইরে থেকে বাঁ পায়ের জোরালো শটে বল জালে জড়িয়ে দেন মেটকাফ। সেই গোলেই ২-০ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত হয় বিশ্বকাপে শুরুর একাদশে ১০ অভিষিক্ত খেলোয়াড় নিয়ে নামা অস্ট্রেলিয়া। ম্যাচ পরিসংখ্যানের সবদিকেই এগিয়ে ছিল তুরস্ক। ৭২% শতাংশ বল দখলে রেখে ২৮টি শট নেয় তারা। এর মধ্যে অন টার্গেট ছিল ৮টি। অস্ট্রেলিয়ার ২৭১ পাসের বিপরীতে ৭০৪টি সফল পাস করে তুরস্ক। নির্ভুল পাস ছিল ৯০.২ শতাংশ, ক্রস করেছে ২৬টি। অস্ট্রেলিয়া গোল ব্যবধানে পিছিয়ে থাকায় ‘ডি’ গ্রুপে পয়েন্ট তালিকার দুইয়ে রয়েছে। সমান পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র। ২০শে জুন সিয়াটল স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে এ দু’দল।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন