বিংশ শতাব্দীর অন্যতম সফল ও জনপ্রিয় বৃটিশ পপ চিত্রশিল্পী ডেভিড হকনি আর নেই। ৮৮ বছর বয়সে তিনি শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। তার জনসংযোগ কর্মকর্তা এরিকা বোল্টন এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করলেও মৃত্যুর কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ জানাননি। এক সময় বৃটিশ পপ আর্ট আন্দোলনের দুষ্টু ছেলে হিসেবে পরিচিত এই শিল্পী পরবর্তীতে যুগের অন্যতম সেরা আঁকিয়ে হিসেবে বিশ্বজুড়ে স্বীকৃতি পান। খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। উত্তর ইংল্যান্ডের এক সাধারণ হিসাবরক্ষকের পরিবারে জন্ম নেয়া হকনি ছোটবেলা থেকেই ছিলেন প্রথা বিরোধী।
সমকামিতা যখন অপরাধ হিসেবে গণ্য হতো, তখন তিনি নিজের বিমূর্ত ছবির নাম দিয়েছিলেন ‘গোয়িং টু বি আ কুইন ফর টুনাইট’। ১৯৫৯ সালে লন্ডনে আসার পর পপ আর্ট আন্দোলনে তার উল্কাগতিতে উত্থান হয় এবং মিক জ্যাগারের মতো তারকাদের সঙ্গে তার ওঠাবসা শুরু হয়। তবে গথিক অন্ধকার ছেড়ে মার্কিন শিল্পীদের মতো রঙের খোঁজে ১৯৬৪ সালে তিনি লস অ্যাঞ্জেলেসে পাড়ি জমান। ক্যালিফোর্নিয়ার ঝলমলে আলো, সুইমিং পুল এবং শাওয়ারের নিচে নগ্ন পুরুষের ছবি এঁকে তিনি এক নতুন জীবনশৈলীকে ক্যানভাসে ফুটিয়ে তোলেন, যা তাকে বিশ্বজোড়া খ্যাতি এনে দেয়।
হকনির আঁকা অন্যতম বিখ্যাত ছবি ‘পোর্ট্রেট অব অ্যান আর্টিস্ট (পুল উইথ টু ফিগারস)’ ২০১৮ সালে নিলামে ৯০.৩ মিলিয়ন ডলারে বিক্রি হয়েছিল, যা সেই সময়ে জীবিত কোনো শিল্পীর জন্য ছিল সর্বোচ্চ মূল্যের রেকর্ড। ১৯৯০-এর দশকে তার অনেক বন্ধু এইডস আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়ার পর তার কাজের ধরনে পরিবর্তন আসে, সেখানে পুরুষের জায়গায় স্থান পায় তার পোষা কুকুর। প্রতিদিন ভোর ৬টায় ঘুম থেকে উঠে কাজ শুরু করা এই প্রতিভাবান শিল্পী এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, কাজে কোনো অবসর নেই, যতক্ষণ না আপনি মাটিতে পড়ে যাচ্ছেন, ততক্ষণ কেবল কাজই করে যেতে হবে।
