আন্তরিকতার মাধ্যমে সব সমস্যার সমাধান সম্ভব

আন্তরিকতার মাধ্যমে সব সমস্যার সমাধান সম্ভব

ফন্ট সাইজ:

বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের নতুন হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী বৃহস্পতিবার আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করে বলেছেন, অভিন্ন আকাক্সক্ষা, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং জনগণের মধ্যে সংযোগের ভিত্তিতে ভারত ও বাংলাদেশ তাদের সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করতে থাকবে।

বাংলাদেশে ভারতের হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব নিতে শুক্রবার তিনি ঢাকায় পৌঁছাবেন। গত এপ্রিলে ভারত সরকার দেশটির সাবেক রেলমন্ত্রী দীনেশ ত্রিবেদীকে বাংলাদেশে হাইকমিশনার হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে। দুই দেশের ৫৫ বছরের সম্পর্কের ইতিহাসে ভারত এই প্রথম কোনো রাজনীতিবিদকে হাইকমিশনার হিসেবে বাংলাদেশে পাঠাচ্ছে।

তবে দায়িত্ব গ্রহণের আগের দিন বৃহস্পতিবার তিনি নিজের শহর কলকাতায় যান। এদিন তিনি কলকাতার এলগিন রোডে নেতাজি ভবন পরিদর্শন করেন। পরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বলেন, বাংলাদেশের জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আমরা বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী গণতন্ত্র ও অন্যতম পরাশক্তি হিসেবে আবির্ভূত হতে পারি। আমরা এটাই অর্জন করতে যাচ্ছি। আমরা একসঙ্গেই তা করবো। ভারতের ১৪০ কোটি এবং বাংলাদেশের আরও ২০ কোটি ভাইবোনকে সঙ্গে নিয়ে আমরা বিশ্বে যা কিছু অর্জন করতে চাই, তা অবশ্যই অর্জন করবো।

হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, আমাদের শুধু অভিন্ন সীমান্ত নেই, অভিন্ন স্বপ্নও আছে। আমাদের আকাশ এক, বাতাস এক, চ্যালেঞ্জও অনেক ক্ষেত্রে এক। তাই আমাদের পথ ভুল হওয়ার সুযোগ নেই। ভালোবাসা আর পারস্পরিক আন্তরিকতার মাধ্যমে সব সমস্যার সমাধান সম্ভব।

হাইকমিশনার হিসেবে নিজের অগ্রাধিকারের প্রসঙ্গে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, আমার একমাত্র অগ্রাধিকার হলো বাংলাদেশ ও ভারতের জনগণের সম্পর্ক। আমরা সবাই ভাইবোন। আমি আগেই বলেছি, আমাদের অভিন্ন লক্ষ্য সীমান্ত নয়, স্বপ্ন। আর সেই স্বপ্নও অভিন্ন। একই আকাশ, একই বাতাস, একই যন্ত্রণা। তাই আমাদের পথ ভুল হওয়ার সুযোগ নেই। প্রয়োজন শুধু ভালোবাসা ও পারস্পরিক আন্তরিকতা।
কলকাতাতেই দীনেশ ত্রিবেদীর শৈশব থেকে বড় হয়ে ওঠা। কলকাতার সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজে পড়াশোনা। আর নেতাজি ভবনের কাছেই ছিল তার বাড়ি। তাই নেতাজি ভবন পরিদর্শনের সুযোগ পাওয়ার বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে হাইকমিশনার বলেন, আসলে আমি নিজেকে খুব সৌভাগ্যবান মনে করি। কারণ, আমি এই এলাকাতেই বড় হয়েছি। এখান থেকে প্রায় ৪০০ গজ দূরে আমার বাড়ি, যেখানে আমি শৈশব কাটিয়েছি।

তাই নেতাজিকে ঘিরে যে আবেগ, তা নিয়ে আমরা বড় হয়েছি। আমরা যে মূল্যবোধগুলো ধারণ করেছি, তার জন্য নেতাজির প্রতি কৃতজ্ঞ। আমার জন্য এর চেয়ে ভালো আর কিছু হতে পারে না যে দায়িত্ব নেয়ার আগে আমি নেতাজি ভবনে এসে তার থেকে প্রেরণা গ্রহণ করছি এবং গণতন্ত্রের সেই মূল্যবোধগুলো ধারণ করছি, যার জন্য নেতাজি নিজের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। তিনি বলেন, আমি নেতাজির আশীর্বাদ নিয়ে এমন এক দায়িত্ব পালনে যাচ্ছি, যা ভারতের প্রধানমন্ত্রী এবং এ দেশের জনগণ আমাকে দিয়েছেন।




কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন