ঋণ কেলেঙ্কারি, লুটপাট ও আর্থিক সংকটে জর্জরিত ব্যাংকগুলোকে পুনরুদ্ধারে বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় করছে সরকার। দুর্বল ব্যাংকগুলোর আর্থিক সক্ষমতা ফিরিয়ে আনতে চলতি অর্থবছরে প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। জাতীয় সংসদে বাজেট বক্তৃতায় তিনি বলেন, ব্যাংক ও আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনাই সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। এ জন্য দুর্বল ব্যাংকগুলোর জন্য ঝুঁকিভিত্তিক তদারকি ব্যবস্থা চালু করা হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী পুনঃমূলধনীকরণ এবং ব্যবস্থাপনা সংস্কারের উদ্যোগও নেয়া হবে। অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকারের লক্ষ্য ব্যাংক ও আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে আমানতকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনা। একইসঙ্গে পুঁজিবাজার সংস্কারের মাধ্যমে বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নত করা হবে। বাজেট বক্তৃতায় তিনি দাবি করেন, ২০০৫ সালে দেশের ব্যাংকিং খাতে মূলধন পর্যাপ্ততার অনুপাত ছিল ৭ দশমিক ৩ শতাংশ। কিন্তু ২০২৫ সালের শেষে তা ঋণাত্মক ২ দশমিক ৬৪ শতাংশে নেমে এসেছে। একইভাবে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধিও কমে ৬ দশমিক ৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।
অর্থমন্ত্রীর ভাষায়, লুটপাট, অব্যবস্থাপনা, নানা ধরনের স্ক্যাম ও ভুল নীতির কারণে ব্যাংক ও পুঁজিবাজার খাতে গভীর সংকট তৈরি হয়েছে। এতে বিনিয়োগকারীদের আস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ব্যাংক খাত সংস্কারে সরকারের নেয়া উদ্যোগগুলোর মধ্যে রয়েছে- খেলাপি ঋণ কমানো, ঋণ অনুমোদন ও পুনঃতফসিল ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং ব্যাংক পরিচালনায় জবাবদিহিতা বৃদ্ধি। এ ছাড়া আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দিতে ব্যাংক পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। তিনি জানান, বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনার জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। ব্যাংক পরিচালনায় রাজনৈতিক নিয়োগ ও হস্তক্ষেপ বন্ধ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। পারিবারিক প্রভাবমুক্ত করতে সংশ্লিষ্ট আইনেও প্রয়োজনীয় সংশোধন আনা হয়েছে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, মূলধন পর্যাপ্ততা ও করপোরেট সুশাসন নিশ্চিত করা হবে, যাতে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীল ও প্রতিযোগিতামূলক হয়ে উঠতে পারে। এ ছাড়া নারী, তরুণ উদ্যোক্তা ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য অর্থায়নের সুযোগ বাড়ানোর কথাও জানান তিনি।
