‘নতুন’ যুদ্ধে স্বাগতিকদের প্রথম পরীক্ষা

মুখোমুখি যুক্তরাষ্ট্র-প্যারাগুয়ে

‘নতুন’ যুদ্ধে স্বাগতিকদের প্রথম পরীক্ষা

ফন্ট সাইজ:

ক্যালিফোর্নিয়ার গ্রেট পার্ক। একসময়কার মার্কিন মেরিন সেনাদের প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জার্মানদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে যুক্তরাষ্ট্রের শক্তির আধার ছিল এই পার্ক। সেখানে চলছে আরেক যুদ্ধের প্রস্তুতি। এবার অবশ্য কোনো যুদ্ধবিমান উড়বে না। ১৩০০ একর জুড়ে উড়ছে কেবল বিশ্বকাপের রঙিন পতাকা। ২০২৬ ফুটবল আসরের প্রধান স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তুতি কেন্দ্র বানিয়েছে গ্রেট পার্ককে। এখান থেকেই আগামীকাল সকাল ৭টায় মিশন শুরু। ক্যালিফোর্নিয়ার স্টেডিয়ামে ‘ডি’ গ্রুপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে প্যারাগুয়ের মুখোমুখি হবে মাউরিসিও পচেত্তিনোর দল। ঘরের মাঠের আসর ঘিরে চরম উন্মাদনা মার্কিন ফুটবলভক্তদের। আর ভক্তদের হতাশ করতে চান না কোচ পচেত্তিনো।

সমর্থকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হলো দল নিয়ে গর্ববোধ হচ্ছে। একটা জিনিস নিশ্চিত যে, আপনাদের গর্বিত করতে, সুখস্মৃতি গড়ে তুলতে যা যা করার সবকিছুই করবো আমরা।’ অন্যদিকে, ১৬ বছর পর বিশ্বকাপে সুযোগ পাওয়া প্যারাগুয়ে নিজেদের প্রমাণ করতে প্রস্তুত। স্বাগতিকদের কাঁদিয়ে মিশন শুরুর লক্ষ্য লাতিন প্রতিনিধিদের। নবমবারের মতো বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া প্যারাগুয়ের সর্বোচ্চ সাফল্য ২০১০ সালে কোয়ার্টার ফাইনালে খেলা। এবার কি আলবিরোহারা নিজেদের ছাড়িয়ে যেতে পারবে? কোচ আলফারো অবশ্য আশাবাদী। তিনি বলেন, ‘যদি আমরা বিশ্বাস করি ভালো বিশ্বকাপ খেলতে পারব, তার কারণ দেশের মানুষ আমাদের সেই বিশ্বাস জোগাচ্ছে।’ ১৯৯৪ সালে সর্বশেষ কোনো বিশ্বকাপ আয়োজন করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। ৩২ বছর পর আরেকটি আসরে নিজেদের উজার করতে দিতে কার্পণ্য করবেন না টিম রিম। স্বাগিতক দলের অধিনায়ক বলেন, ‘এমন সুযোগ জীবনে একবারই আসে। প্রত্যাশা ও চাপের পাদরটা উঁচু। কিন্তু একইসঙ্গে এটা উপভোগও করতে হবে। আমাদের কারোরই জীবনে ঘরের মাঠে বিশ্বকাপ খেলার অভিজ্ঞতা নেই। কাজেই গ্রহণ করো এটা, উপভোগ করো, আলিঙ্গন করে নাও সবকিছু। কারণ, এটা খুবই স্পেশাল ও ইউনিক। এটা এমন কিছু যা করার সুযোগ আমরা একবারই পাবো।’ ২০২৬ সালের আসরসহ মোট ১২ বার বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সর্বোচ্চ সাফল্য ১৯৩০ সালে তৃতীয় স্থান অর্জন, ২০০২ সালে কোয়ার্টার ফাইনাল এবং ১৯৯৪, ২০১০, ২০১৪ ও ২০২২ আসরে শেষ ষোলোতে খেলা। নিজেদের অতীতকে ছাড়িয়ে যাওয়ার চাপ রয়েছে দলটির ওপর। তবে চাপকে খুব একটা পাত্তা দিচ্ছেন না তারকা স্ট্রাইকার ক্রিস্টিয়ান পুলিসিক।

ট্রেনিংয়ের ফাঁকে সতীর্থদের সঙ্গে বরং মজা-মাস্তি করে সময় কাটছে তার। সেনেগালের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচে জয়ের নায়ক পুলিসিক। চেলসির সাবেক এই তারকার পায়ে তাকিয়ে থাকবে স্বাগতিকরা। দেশের হয়ে এখন পর্যন্ত করেছেন ৩৭ গোল। ইতালিয়ান সিরি আ-তে এসি মিলানের জার্সিতে ৩০ ম্যাচে ৮ গোল ও ৪ অ্যাসিস্ট রয়েছে তার। তবে তুরুপের তাস হতে পারেন তরুণ স্ট্রাইকার ফোলারিন বালোগুন। ইংল্যান্ড ও নাইজেরিয়ার মতো দলে খেলার সুযোগ পেয়েও ইউএসএ-কে বেছে নেন তিনি। ২৪ বছর বয়সী বালোগুন রয়েছেন দারুণ ফর্মে। ফরাসি লীগ ওয়ানে মোনাকোর হয়ে ৩০ ম্যাচে করেছেন ১৩ গোল।

আর্জেন্টাইন কোচ গুস্তাভো আলফারোর অধীনে সম্প্রতি দারুণ ফুটবল খেলছে প্যারাগুয়ে। সর্বশেষ চার প্রীতি ম্যাচে তিন জয় তাদের। গত নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হেরে গিয়েছিল দলটি, কিন্তু সর্বশেষ ম্যাচে নিকারাগুয়াকে ৪-০ গোলে উড়িয়ে স্বাগতিকদের বার্তা দিয়ে রেখেছে তারা। গুস্তাভোর কৌশল হলো রক্ষণভাগ জমাট রেখে আক্রমণে যাওয়া। কনমেবল বাছাই পর্বে সবচেয়ে বেশি ক্লিয়ারেন্স ও এরিয়াল ডুয়েল জিতেছে প্যারাগুয়ে। সুতরাং যুক্তরাষ্ট্রের জন্য গোল আদায় করে নেওয়া কঠিনই হবে। যদিও বাছাই পর্বে সবচেয়ে কম গোল প্যারাগুয়ের। তাদের ১৮ ম্যাচের অর্ধেকই কেটেছে গোলখরায়। তবুও ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা ও উরুগুয়ের বিপক্ষে সাফল্য ছিনিয়ে নিতে সক্ষম হয় আলফারোর শিষ্যরা। সেজন্যই লাতিন দলটিকে নিয়ে সতর্ক যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন মিডফিল্ডার ক্রিস্টিয়ান রোলডান বলেন, ‘খেলা পরিচালনা ও প্রতিপক্ষকে চাপে রাখার ব্যাপারগুলো প্যারাগুয়ে খুব ভালোভাবেই করতে পারে।’
তবে শুধু জমাট রক্ষণ নয়, প্যারাগুয়ের রয়েছে মিগুয়েল আলমিরনের মতো অ্যাটাকার। নিউক্যাসলে সফল সময় কাটিয়ে আলমিরন এখন আতালান্তা ইউনাইটেড মাতাচ্ছেন।

এছাড়া মাঝমাঠে দিয়েগো গোমেজ পার্থক্য গড়ে দিতে পারেন। চোখ থাকবে ২২ বছর বয়সী হুলিও এনসিসোর ওপরেও। ফরাসি লিগ ওয়ানে স্ট্রসবুর্গের হয়ে ২০২৫-২৬ মৌসুমে নজরকাড়া পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন এনসিসো। ২৭ ম্যাচে ৩ গোলের পাশাপাশি করেছেন ৬ অ্যাসিস্ট। কিন্তু নিকারাগুয়ার বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচে উরুর চোটে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে খেলা অনিশ্চিত তার। এনসিসো ছিটকে গেলে তা হবে প্যারাগুয়ের জন্য বড় ধাক্কা। হেড টু হেড রেকর্ডে এগিয়ে যুক্তরাষ্ট্র। ৫ জয়ের বিপরীতে হার মাত্র দুটি। দুই ম্যাচ হয়েছে ড্র। বিশ্বকাপে একমাত্র সাক্ষাত ১৯৩০ সালে। সেবার যুক্তরাষ্ট্র জিতেছিল
৩-০ গোলে।



কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন