আগামীকাল ১৩ই জুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কক্সবাজার সফরকে সামনে রেখে ব্যস্ত সময় পার করছেন জেলা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও বিএনপি’র দলীয় নেতাকর্মীরা। প্রধানমন্ত্রীর সফর সফল করতে জোর প্রস্তুতির পাশাপাশি সফরের নির্ধারিত কর্মসূচিগুলো সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ সমন্বিতভাবে কাজ করছেন। ১৩ তারিখ সারা দিনের নানা কর্মসূচি শেষ করে রাতে লং বিচ হোটেলে সুধী সমাবেশে মিলিত হবেন প্রধানমন্ত্রী। গতকাল দুপুরে সেই অনুষ্ঠানের ভেন্যু পরিদর্শন করেছেন জেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট শামীম আরা স্বপ্না এমপি, দপ্তর সম্পাদক ইউসুফ বদরী, প্রচার সম্পাদক অধ্যাপক আকতার চৌধুরী সহ দলীয় নেতৃবৃন্দ। এর আগে বুধবার (১০ই জুন) বিকালে প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে নির্ধারিত বিভিন্ন কর্মসূচির স্থান পরিদর্শন করেন কক্সবাজার জেলা বিএনপি’র সভাপতি ও কক্সবাজার-১ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী। তিনি ডুলাহাজারা সাফারি পার্কে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির স্থান, চকরিয়া পৌর বাস টার্মিনালে জনসভার মাঠ, নবগঠিত পেকুয়া পৌরসভার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের স্থান এবং নবগঠিত মাতামুহুরি উপজেলার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের নির্ধারিত এলাকা ঘুরে দেখেন।
পরিদর্শন শেষে শাহজাহান চৌধুরী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর কক্সবাজার সফর জেলার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সফরের প্রতিটি কর্মসূচি সফল করতে আমরা সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছি। জনগণের ব্যাপক অংশগ্রহণে এ সফর স্মরণীয় হয়ে থাকবে বলে আমরা আশা করছি।’ এ সময় উপস্থিত ছিলেন- কক্সবাজার জেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক ও সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য এডভোকেট শামীম আরা স্বপ্নাসহ জেলা বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে জেলার বিভিন্ন স্থানে সাজসজ্জা, অবকাঠামোগত প্রস্তুতি এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। বিশেষ করে চকরিয়া, পেকুয়া, ডুলাহাজারা ও কক্সবাজার শহরের কর্মসূচিস্থলগুলোতে প্রস্তুতির শেষ পর্যায়ের কাজ চলছে।
সফরসূচি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী ১৩ই জুন সকাল ১০টায় কক্সবাজার বিমানবন্দরে পৌঁছাবেন। এরপর সদর উপজেলার পিএমখালী ইউনিয়নের পাতলী খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করবেন এবং সেখানে আয়োজিত পথসভায় অংশ নেবেন। পরে তিনি ডুলাহাজারা সাফারি পার্ক পরিদর্শন করবেন এবং মালুমঘাট সংরক্ষিত বনে বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে দেশব্যাপী ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন। এছাড়া পেকুয়া উপজেলায় জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে কক্সবাজার জেলার প্রথম শহীদ মো. ওয়াসিমের কবর জিয়ারত এবং তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। সফরে নবগঠিত পেকুয়া পৌরসভা ও মাতামুহুরি উপজেলার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের পাশাপাশি বিকালে চকরিয়া পৌর বাস টার্মিনালে আয়োজিত রাজনৈতিক জনসভায় অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী। পরে তিনি মেরিন ড্রাইভ সড়ক ও সমুদ্রসৈকত পরিদর্শন করবেন।
রাতে কক্সবাজার শহরের লং বিচ হোটেলের অডিটোরিয়ামে সুধী সমাবেশে যোগ দেয়ার পর কক্সবাজার বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হবেন প্রধানমন্ত্রী। সফরসূচি অনুযায়ী, একই দিন রাত ১১টার দিকে তার ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
