সিলেটে দ্রুততম সময়ে চার্জশিট অভিযুক্ত বাপ্পি

র‌্যাব সদস্য হত্যা

সিলেটে দ্রুততম সময়ে চার্জশিট অভিযুক্ত বাপ্পি

ফন্ট সাইজ:

সিলেটে প্রকাশ্য দিবালোকে র‌্যাব সদস্য ইমন আচার্যকে ছুরিকাঘাত করে খুন করেছিল চিহ্নিত অপরাধী আসাদুল আলম বাপ্পি। হত্যার পর নিজেকে বাঁচাতে এক শিশুর গলায় চাকুও ধরেছিল। ঈদের আগে বাস্তবে এমন ঘটনা ঘটেছে সিলেটে। যে ঘটনাটি আলোচিত হয় গোটা দেশ জুড়ে। সেই ঘটনার চার্জশিট দ্রুততম সময়ের মধ্যে আদালতে দাখিল করেছে পুলিশ। আদালত চার্জশিট আমলে নিয়ে পরবর্তী কার্যক্রম শুরু করেছেন। সিলেটের জনাকীর্ণ এলাকা ঐতিহাসিক কিনব্রিজের পাদদেশে গত ২২শে মে দুপুরে ঘটেছিল এ ঘটনা।

ঘটনাস্থলের পার্শ¦বর্তী মোগলটুলা এলাকার বাসিন্দা আবুল হোসেনের ছেলে আসাদুল আলম বাপ্পি। অল্প বয়সী একটি ছেলে। বয়স ২১ কিংবা ২২। এই বয়সেই সে অপরাধ জগতের বাসিন্দা হয়ে উঠেছিল। মাদক বিক্রি, সেবন, অস্ত্র ধরে ছিনতাই সবই করতো। কাজিরবাজার, মোগলটুলা সহ আশপাশের এলাকার ত্রাস ছিল সে। তবে তার মূল আস্তানা ছিল নগরের কিনব্রিজ এলাকা। ওখানেই দলবল নিয়ে সে আড্ডা দিতো। ছিনতাই ও মাদক বিক্রি করতো। পুলিশ জানায়, ঘটনার দিন বাপ্পি আলী আমজাদের ঘরের কাছাকাছি স্থানে তার তিন সহযোগীকে নিয়ে বসে মাদক বিক্রি করছিল। এমন সময় কোতোয়ালি থানা পুলিশের টহল দল সেখানে পৌঁছে। তার আগে থেকেই পুলিশের টার্গেটে ছিল বাপ্পি। তাকে বসা দেখে পুলিশ সদস্যরা গাড়ি থেকে নামতেই দৌড়ে কাজিরবাজার অভিমুখে পালাতে থাকে বাপ্পি। তার পিছু ধাওয়া করে পুলিশ। র‌্যাব-৯ এর সদস্য ইমন আচার্য। সিভিল ড্রেসে থাকা অবস্থায় কাজে যাচ্ছিলেন। অপরাধীকে পুলিশ দৌড়াচ্ছে দেখে কাছে আসা অপরাধী বাপ্পিকে ঝাপটে ধরেন তিনি। এমন সময় তার শরীরে হাতে থাকা চাকু দিয়ে উপর্যুপরি আঘাত করে বাপ্পি। গুরুতর আহত হন র‌্যাব সদস্য ইমন। হাসপাতালে নেয়ার পর তার মৃত্যু হয়।

এদিকে, র‌্যাব সদস্যকে ছুরিকাঘাত করে ফের দৌড়াতে থাকে বাপ্পি। তোপখানা এলাকার একটি বাসায় ঢুকে। সেখানে গ্রেপ্তার এড়াতে সে এক শিশুর গলায় চাকু ধরে। পরে পুলিশ সদস্যরা জীবন বাজি রেখে খুনে ব্যবহৃত চাকু সহ তাকে আটক করেন। এ ঘটনা নাড়া দেয় সবাইকে। ঘটনার পর বাপ্পি প্রথমে পুলিশের কাছে, পরে আদালতে খুনের দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেয়। এ ঘটনায় নিহত র‌্যাব সদস্য ইমনের ভাই চট্টগ্রামের বাসিন্দা সুজিত আচার্য বাদী হয়ে ২৩শে মে কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন। ঘটনা যেহেতু প্রকাশ্যে। পুলিশও ওই সময় সেখানে উপস্থিত ছিল। সাধারণ মানুষও ছিলেন। খুনের স্বীকারোক্তি দিয়েছে আসামি বাপ্পি।

ফলে ঘটনার এক সপ্তাহের মাথায় ২৯শে মে সিলেটের আদালতে আলোচিত এ হত্যাকাণ্ডের চার্জশিট দাখিল করেছেন কোতোয়ালি থানার এসআই ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. খবির উদ্দিন। আদালতে চার্জশিট প্রদানের পাশাপাশি তিনি খুনে ব্যবহৃত চাকুও দাখিল করেছেন। সিলেটের কোতোয়ালি থানার ওসি খান মো, মাইনুল জাকির গতকাল বিকালে মানবজমিনকে জানিয়েছেন, ঘটনার সবকিছু পরিষ্কার। স্বীকারোক্তি আছে। এ ছাড়া, প্রমাণও স্পষ্ট। ফলে ন্যায়বিচারের স্বার্থে পুলিশ দ্রুততম সময়ের মধ্যে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেছে। আদালত চার্জশিট আমলে নিয়েছেন। তিনি বলেন, ঘটনাকারী আসাদুল আলম বাপ্পি চিহ্নিত অপরাধী। তার বিরুদ্ধে বিশেষ আইনে সহ চারটি মামলা রয়েছে। এর আগেও সে একাধিকবার পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছে। আর ঘটনার দিন কিনব্রিজের নিচে সে মাদক বিক্রি ও সেবন করছিল। এমন সময় পুলিশ সেখানে অভিযান চালালে সে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করে। র‌্যাব সদস্য ঝাপটে ধরায় তাকে ছুরিকাঘাত করে খুন করে। ধরতে গিয়ে পুলিশের কয়েকজন সদস্যও আহত হন বলে জানান তিনি। রোববার সন্ধ্যায় নিয়মিত ব্রিফিংকালে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার আব্দুল কুদ্দুছ চৌধুরী দ্রুততম সময়ের মধ্যে চার্জশিট দাখিলের কথা জানিয়েছেন।

তিনি জানিয়েছেন, সিলেটে সাম্প্রতিক সময়ে কয়েকটি ঘটনার পেছনে কারণ হিসেবে মাদকের প্রভাবকে চিহ্নিত করা হয়েছে। এজন্য পুলিশের পক্ষ থেকে মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার করা হয়েছে। মামলার ন্যায়বিচারের স্বার্থে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলোর দ্রুত চার্জশিট দেয়া হচ্ছে। এরইমধ্যে র‌্যাব সদস্য খুনের ঘটনার চার্জশিট এক সপ্তাহের মাথায় দেয়া হয়েছে। জালালাবাদ এলাকায় শিশু ফাহিমা ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনার চার্জশিট প্রদানের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানান তিনি।

ট্যাগসমূহ:

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন