ইরান থেকে ঝাঁকে ঝাঁকে ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের পর ইসরাইলের বিশাল এলাকা জুড়ে সাইরেন বেজে উঠে। ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানিয়েছে, তারা ইরান থেকে একের পর এক ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের উৎক্ষেপণ শনাক্ত করেছে। ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর জেরুজালেম, দক্ষিণ ইসরাইলের বেরশেবা এবং তেল আবিবের উপকণ্ঠে অবস্থিত বেন গুরিওন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ দেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে সতর্কতা সাইরেন জারি করা হয়। প্রথম দফার হামলার কয়েক মিনিট পরেই বেরশেবা ও এর আশপাশের এলাকায় নতুন করে সাইরেন বেজে ওঠে। এ খবর দিয়েছে টাইমস অব ইসরাইল।
আইডিএফ জানিয়েছে, ইরান থেকে আরও ক্ষেপণাস্ত্রের উৎক্ষেপণ শনাক্ত করা হয়েছে এবং জেরুজালেম ও এর সংলগ্ন এলাকায় আবারও সাইরেন বাজতে পারে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় কোনো হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
ইরানের তেল-রাসায়নিক কারখানায় আঘাত: এর আগে গতরাতে উত্তর ইসরাইলে ইরানের ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জবাবে মধ্য ও পশ্চিম ইরানের সামরিক স্থাপনায় রাতভর বিমান হামলা চালায় ইসরাইলি বিমান বাহিনী (আইএএফ)। আইডিএফ এবং ইরানি গণমাধ্যম নিশ্চিত করেছে যে, ইসরাইলি যুদ্ধবিমানগুলো দক্ষিণ-পশ্চিম ইরানের খুজেস্তান প্রদেশের মাশেহর এলাকায় অবস্থিত কারুন মাশেহর পেট্রোকেমিক্যাল কোম্পানিতে হামলা চালিয়েছে। ইরানের ফার্স নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, এই হামলায় তেল-রাসায়নিক কারখানাটির আংশিক ক্ষতি হয়েছে।
ইসরাইলি সামরিক বাহিনী এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা ওই কমপ্লেক্সের বেশ কয়েকটি স্থানে আঘাত হেনেছে এবং এ বিষয়ে বিস্তারিত পরে জানানো হবে।
বৈঠক ডাকলেন নেতানিয়াহু: ইরানের সাথে এই নতুন করে শুরু হওয়া তীব্র সংঘাতের মধ্যে স্থানীয় আজ সোমবার সকাল ১১টায় একটি জরুরি নিরাপত্তা মন্ত্রিসভার বৈঠক ডেকেছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। দ্য টাইমস অব ইসরাইলকে একজন সরকারি কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন যে, উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় শুধুমাত্র কয়েকজন শীর্ষ ও গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীদের নিয়ে এই সংক্ষিপ্ত ও নীতি-নির্ধারণী বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হবে।
