বিশ্বকাপ নিয়ে ফুটবলপণ্ডিতদের বাগযুদ্ধ: বিবিসি বনাম আইটিভি

বিশ্বকাপ নিয়ে ফুটবলপণ্ডিতদের বাগযুদ্ধ: বিবিসি বনাম আইটিভি

ফন্ট সাইজ:

বিশ্বকাপ ফুটবল শুরু হতে আর এক সপ্তাহেরও কম সময় বাকি। বৃহস্পতিবার রাতে আমরা যখন টেলিভিশনের সামনে বসব, তখন শুরু হবে পাঁচ সপ্তাহব্যাপী ফুটবলের মহোৎসব। এ সময়ে অসংখ্য দর্শক টিভির সামনে আটকে থাকবেন। কেউ আর্জেন্টিনা, কেউ ব্রাজিল, কেউ ইংল্যান্ড, স্কটল্যান্ডকে সমর্থন করবেন। আবার কেউ নতুন দল কুরাসাও এবং কেপ ভার্দের অভিষেক দেখবেন। যেসব ম্যাচ সাধারণত কেউ দেখতে আগ্রহী হয় না, বিশ্বকাপে সেগুলোও হয়ে ওঠে আকর্ষণীয়। তবে এবারের আসর আগের চেয়ে আরও বেশি উত্তেজনাপূর্ণ। এবারের ম্যাচে আছে ইরান দল। এই দেশটির সঙ্গে যুদ্ধে লিপ্ত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। তা সত্ত্বেও তিনি দেশটির ফুটবল টিমকে অনুমতি দিতে বাধ্য হয়েছেন। এসব নিয়ে বিশ্বজুড়ে আরেক প্রতিযোগিতা হবে। সেটা বাগযুদ্ধ। ম্যাচ নিয়ে বিশ্লেষণ, ম্যাচের ভুল-ত্রুটি, তারকা খেলোয়াড়দের আমলনামা এসব নিয়ে চুলচেরা ‘কথার যুদ্ধ’ করবেন ফুটবল পণ্ডিতরা। এবার বৃটেনে ম্যাচগুলো দেখানোর দায়িত্বে থাকবে দুই প্রধান সম্প্রচারমাধ্যম বিবিসি ও আইটিভি। দুই চ্যানেলই ঘোষণা করেছে তারকাবহুল প্রেজেন্টার, পন্ডিত এবং বিশেষ অতিথির তালিকা। তারা পুরো টুর্নামেন্ট জুড়ে দর্শকদের সঙ্গে থাকবেন।

বিবিসির ফুটবল পণ্ডিত হিসেবে উপস্থিত থাকবেন কেলি ক্যাটস, মার্ক চ্যাপম্যান, গ্যাবি লোগান, অ্যালেক্স স্কট। গ্যারি লিনেকারের ২৬ বছরের সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পর প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে তার অনুপস্থিতিতে নতুন যুগ শুরু করছে বিবিসি। এবার পুরো কভারেজ পরিচালনা করবে তাদের সালফোর্ড কেন্দ্র থেকে। অ্যালেক্স স্কটসহ তিন উপস্থাপক নিজেদের স্বতন্ত্র উপস্থাপনা শৈলীর মাধ্যমে দর্শকদের মধ্যে ইতিমধ্যেই জনপ্রিয়।

আইটিভির পণ্ডিত তালিকায় আছেন মার্ক পুগাচ, লরা উডস, সেমরা হান্টার এবং অ্যাডাম রিচম্যান। আইটিভি তাদের নিয়মিত জুটি মার্ক পুগাচ ও লরা উডসকে সামনে রেখেছে। সেমরা হান্টার এবং মার্কিন টিভি ব্যক্তিত্ব অ্যাডাম রিচম্যানও দলে আছেন। তবে পুগাচ ও উডস সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে কিছু মন্তব্যের কারণে সমালোচনার মুখে পড়েছেন, যা তাদের গ্রহণযোগ্যতায় কিছুটা প্রভাব ফেলেছে। এ কারণে কথার লড়াইয়ের প্রথম রাউন্ডে এগিয়ে বিবিসি।

এছাড়া বিবিসির তালিকায় আরও আছেন অ্যালান শিয়ারার, ওয়েন রুনি, মিকাহ রিচার্ডস, জো হার্ট, পল রবিনসন, স্টেফ হটন, অ্যালেন হোয়াইট, ড্যানি মারফি, অ্যাশলি উইলিয়ামস, স্কট ব্রাউন, র‌্যাচেল কোরসি, জেমস ম্যাকফ্যাডেন এবং ড্যারেন ক্যান। মিকাহ রিচার্ডস ও অ্যালান শিয়ারার মূল বিশ্লেষণ দেবেন। জো হার্টও ধারাভাষ্য ও বিশ্লেষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন। এছাড়া স্কটিশ দলগুলোর জন্য আলাদা বিশ্লেষক দলও থাকবে। তবে আগের বিশ্বকাপগুলোর তুলনায় এই লাইন-আপ কিছুটা কম শক্তিশালী মনে হচ্ছে।

আইটিভির তালিকায় আরও আছেন রয় কিন, ইয়ান রাইট, গ্যারি নেভিল, কারেন কার্নি, এমা হেইস, ডানকান ফার্গুসন এবং জোবি ম্যাকঅ্যানাফ। আইটিভি এবার বিশাল শক্তিশালী পণ্ডিত দল নিয়ে এসেছে। হাস্যরস ও বিশ্লেষণের দিক থেকে ইয়ান রাইট ও রয় কিন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন। এমা হেইসের বিশ্লেষণী দক্ষতা, গ্যারি নেভিলের অভিজ্ঞতা এবং কারেন কার্নির অন্তর্দৃষ্টি দলটিকে আরও শক্তিশালী করেছে।

বিবিসির অতিথি পণ্ডিতের মধ্যে আছেন ওলিভিয়ে জিরু, গায়েল ক্লিশি, সিজার আসপিলিকুয়েতা, বেনি ম্যাককার্থি, লুকাস লেইভা এবং থমাস ফ্র্যাঙ্ক। বিশ্বকাপে বিভিন্ন দেশের সাবেক ও বর্তমান খেলোয়াড়দের অতিথি হিসেবে আনা স্বাভাবিক বিষয়। ২০১৮ বিশ্বকাপজয়ী ও ফ্রান্সের সর্বোচ্চ গোলদাতা ওলিভিয়ে জিরু বিশেষ আকর্ষণ। সবচেয়ে বড় চমক হলো, টটেনহ্যামের সাবেক কোচ থমাস ফ্র্যাঙ্ক মাত্র চার মাস পর বরখাস্ত হওয়ার পর এবার পণ্ডিত হিসেবে যোগ দিচ্ছেন।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন