দেশের বিভিন্ন সীমান্ত অঞ্চলে পুশইন বা বলপূর্বক সীমান্ত পার করিয়ে দেয়ার ঘটনায় উত্তেজনা বাড়ছে। কড়া নজরে রেখে কাজ করছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্যরা। একে একে ভেঙে দিচ্ছেন বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স (বিএসএফ)-এর পুশইনের চেষ্টা। গতকালও চাঁপাইনবাবগঞ্জ, লালমনিরহাট, পঞ্চগড় ও নওগাঁ সীমান্তে বিজিবি’র কড়া নজরদারির কারণে পুশইনের জন্য জড়ো করা শতাধিক মানুষকে ফিরিয়ে নিয়েছে বিএসএফ। বিজিবি অনেক স্থানে স্থানীয় বাসিন্দাদেরও সহযোগিতা নিচ্ছেন। বিজিবি’র এই শক্ত অবস্থানের কারণে প্রশংসাও কুড়াচ্ছেন তারা। বিজিবি’র তরফে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, বিদ্যমান আইন এবং বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপাক্ষিক সমঝোতার পরিপন্থি কোনো ধরনের পুশইন প্রচেষ্টা গ্রহণযোগ্য নয়। সীমান্ত দিয়ে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে দেয়া হবে না।
নওগাঁ প্রতিনিধি জানান, সাপাহার সীমান্ত এলাকার শূন্য রেখায় থাকা নারী পুরুষ এবং শিশুসহ সেই ১৭ জনকে ফিরিয়ে নিয়েছে বিএসএফ সদস্যরা। পুশইনের চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে ১৯ ঘণ্টা পর শুক্রবার দিবাগত রাত ১টার দিকে তাদের দেশে ফিরিয়ে নিয়ে যায় তারা। শনিবার সকালে বিষয়টি নওগাঁ ব্যাটালিয়ান ১৬ বিজিবি’র অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম মাসুম মিডিয়া সেলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এর আগে গত শুক্রবার সকাল সাড়ে ৭টার সাপাহার উপজেলার হাঁপানিয়া সীমান্তের ২৩৮/এমপি সীমান্ত পিলার দিয়ে ১৭ জনকে পুশইনের চেষ্টা চালায় বিএসএফ। দীর্ঘ ১৯ ঘণ্টা ধরে এই চেষ্টা অব্যাহত রাখে দেশটির সীমান্তরক্ষী বাহিনী। ১৭ জনকে অনুপ্রবেশের চেষ্টা চালানোর সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে কড়া অবস্থান নেয় বিজিবি সদস্যরা। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী কলমুডাঙ্গা গ্রামের মাহবুব আলম বলেন, ওই ১৭ জনকে বিজিবি সদস্যরা পাহারা দিয়ে রেখেছিল। রাত ১১টার দিকে আমার ট্রাক্টরে ধান লোড দিচ্ছিলাম তখনো বিজিবি সদস্যরা সেখানে ছিল।
এরপর বিএসএফ সদস্যরা তাদের টেনেহিঁচড়ে ভারতে নিয়ে যায়। তারা বিএসএফ সদস্যদের সঙ্গে যেতে চাচ্ছিল না। নিয়ে যাওয়ার সময় তারা অনেক কান্নাকাটি করছিল। তাদের কান্নার শব্দ শুনে আমরা সামনে এগিয়ে গিয়েছিলাম। তখন বিএসএফ আমাদের বাধা দিয়ে তাদের নিয়ে যায়। বিজিবি’র এমন ভূমিকা সত্যিই প্রশংসার দাবি রাখে। নওগাঁ ব্যাটালিয়ান ১৬ বিজিবি’র অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম মাসুম বলেন, খবর পাওয়ার পর ওই স্থানে বিজিবি’র টহল বৃদ্ধি করা হয়। মানবিক দিক বিবেচনা করে শুরুতে শূন্যলাইনে থাকতে দিলেও সন্ধ্যার পরে তাদের নোম্যান্সল্যান্ডে পাঠিয়ে দেয়া হয়। রাত একটার দিকে বিএসএফ সদস্যরা সীমান্তের লাইট বন্ধ করে দেন। এরপর রাতের আঁধারে তারা পুশইনের চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে ভারতে ফিরিয়ে নিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সীমান্তের ওই এলাকাতে বিজিবি’র টহল জোরদার রয়েছে।
পঞ্চগড় প্রতিনিধি জানান, বিজিবি-বিএসএফ ব্যাটালিয়ন কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠকের পরও ভারত থেকে পুশইনকৃতদের ব্যাপারে কোনো সুরাহা হয়নি। শনিবার দুপুরে পঞ্চগড় সদর উপজেলার হাঁড়িভাসা ইউনিয়নের দক্ষিণ প্রধানপাড়া সীমান্তে চলা এ পতাকা বৈঠকটি কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই শেষ হয়েছে। কোনো পক্ষই নিতে রাজি না হওয়ায় গত শুক্রবার ভোর থেকে ওই সীমান্তের শূন্যরেখা সংলগ্ন কৃষিজমিতে ৫ জন পুরুষ, ২ জন নারী ও ৩ জন শিশুসহ ১০ জন অবস্থান করছেন। তারা খোলা আকাশের নিচে রোদ, ঝড়বৃষ্টি ও বজ্রপাতের মধ্যে অবর্ণনীয় দুর্ভোগ ও মানবেতর অবস্থায় রয়েছে। তাদের অনিশ্চিত জীবন নিয়ে দেখা দিয়েছে শঙ্কা।
স্থানীয় লোকজন জানান, শুক্রবার রাতে এলাকায় মুষলধারে বৃষ্টি হলেও নারী-শিশুসহ ওই ব্যক্তিদের জন্য কোনো ধরনের আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা হয়নি। খোলা মাঠে রাত কাটাতে বাধ্য হওয়ায় শিশুরা চরম দুর্ভোগের মধ্যে পড়ে। তারা খাদ্য ও পানি সংকটে ভুগছেন। তবে বিজিবি ও এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে তাদের জন্য কিছু খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। শুক্রবার ভোররাতে ভারতীয় বিএসএফ ওই সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে পুশইন করার চেষ্টা করলে বিজিবি তা প্রতিহত করে। বিজিবি’র বাধার মুখে ওই ১০ জন নারী-পুরুষ ও শিশু বাংলাদেশের ভূখণ্ডে প্রবেশ করতে পারেনি। বর্তমানে তারা শূন্যরেখার ওপারে ভারতের অভ্যন্তরেই অবস্থান করছে।
সংশ্লিষ্টরা জানায়, ঘটনার পর সীমান্ত এলাকায় সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বিজিবি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কর্তৃপক্ষের মধ্যে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। এ নিয়ে দু’দফা কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক হয়েছে। এ বিষয়ে ৫৬ বিজিবি’র অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, বিএসএফের সঙ্গে স্পট মিটিং করে ওই ১০ জনকে ফেরত নেয়ার জন্য অনুরোধ জানানো হলেও তারা রাজি হয়নি। তিনি বলেন, পুশইন কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। যদি তারা বাংলাদেশের নাগরিক হন, তবে আন্তর্জাতিক আইন ও নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে ইমিগ্রেশন চেকপোস্টের মাধ্যমে ফেরত পাঠাতে হবে।
মেহেরপুর প্রতিনিধি জানান, গাংনী উপজেলার তেঁতুলবাড়ীয়া সীমান্তে ভারত থেকে জোরপূর্বক ৬ জনকে বাংলাদেশে পুশইন চেষ্টা রুখে দিয়েছে বিজিবি ও স্থানীয় গ্রামবাসী। বিজিবি ও গ্রামবাসীর বাধার মুখে বিএসএফ তাদের পুশইন প্রচেষ্টায় ব্যর্থ হয়। শনিবার ভোরে তেঁতুলবাড়ীয়া সীমান্তের মেইন পিলার ১০৪-এর সাব-পিলার ৫ সংলগ্ন তেঁতুলবাড়ীয়া গ্রামের হাটপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। বর্তমানে ওই ৬ জন কাঁটাতারের বেড়ার পাশে ভারতীয় ভূখণ্ডে অবস্থান করছেন বলে জানিয়েছে বিজিবি। জানা যায়, বিএসএফ সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়া খুলে ৬ জনকে বাংলাদেশের দিকে ঠেলে দেয়ার চেষ্টা করে। এদের মধ্যে ৩ জন পুরুষ ও ৩ জন নারী রয়েছেন। তারা হেঁটে বাংলাদেশের ভূখণ্ডে প্রবেশের চেষ্টা করলে বিজিবি ও স্থানীয় গ্রামবাসী তাদের রুখে দেয়। পরে তারা আবার সীমান্তের কাঁটাতারের কাছে ফিরে যায়। স্থানীয়রা জানান, বিজিবি ও গ্রামবাসীরাও সতর্ক অবস্থানে থেকে যেকোনো ধরনের অনুপ্রবেশ ঠেকাতে কাজ করছে। ঘটনার পর থেকে সীমান্তে অতিরিক্ত বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। হ্যান্ড মাইকে ঘোষণা দিয়ে বিজিবি পুশইন প্রতিরোধ করছে এবং বিএসএফকে ওই ব্যক্তিদের নিজ ভূখণ্ডে ফিরিয়ে নেয়ার আহ্বান জানাচ্ছে। তবে এ বিষয়ে বিএসএফের পক্ষ থেকে এখনো কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, গোমস্তাপুর উপজেলার বাঙ্গাবাড়ী সীমান্ত দিয়ে ২৮ জনকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা ব্যর্থ করেছে বিজিবি। বিজিবির নওগাঁ ব্যাটালিয়নের (১৬ বিজিবি) দায়িত্বপূর্ণ এলাকা দিয়ে বাংলাদেশে অবৈধভাবে প্রবেশের চেষ্টা করলে বিজিবি টহলদল তাৎক্ষণিকভাবে বাধা প্রদান করে। সঙ্গে সঙ্গে বিজিবি সীমান্তে অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করে এবং কৌশলগত অবস্থান নিয়ে তাদের বাংলাদেশে প্রবেশে বাধা দেন। ফলে দুইদিন তারা শূন্যরেখা ও ভারতীয় সীমান্তের ভেতরে অবস্থান করলেও বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারেননি। বিজিবি’র নওগাঁ ব্যাটালিয়নের (১৬ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম মাসুম শনিবার এ তথ্য জানান। বিজিবি জানায়, সীমান্তে পুশইনের জন্য আনা সবাইকে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ নিজ ভূখণ্ডে ফিরিয়ে নিয়েছে। বর্তমানে সীমান্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক। তবে যেকোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বিজিবি কঠোর নজরদারি ও টহল কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। বিজিবি’র তথ্য অনুযায়ী, গত বুধবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে সীমান্ত পিলার ২০৩/৬-আর সংলগ্ন এলাকা দিয়ে ওই ২৮ জনকে বাংলাদেশের দিকে ঠেলে পাঠানো হয়।
বিএসএফের ১২ ব্যাটালিয়নের আশরাফপুর বিএসএফ ক্যাম্পের সদস্যরা তাদের ঠেলে পাঠায়। ওই ২৮ জনের মধ্যে ১২ জন পুরুষ, ১০ জন নারী ও ৬ জন শিশু রয়েছে। তবে বিজিবি’র প্রতিরোধের মুখে ২৮ জন বাংলাদেশে আসতে পারেনি। এরপর থেকেই তারা নোম্যান্সল্যান্ডে অবস্থান করছিল। বিজিবি’র নওগাঁ ব্যাটালিয়নের (১৬ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম মাসুম জানান, সীমান্ত দিয়ে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে দেয়া হবে না। আন্তর্জাতিক সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, বিদ্যমান আইন এবং দ্বিপক্ষীয় সমঝোতার পরিপন্থি যেকোনো পুশইন প্রচেষ্টা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে। সীমান্তে বিজিবি’র গোয়েন্দা নজরদারি, টহল ও অপারেশনাল কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। দেশের সার্বভৌমত্ব ও সীমান্ত নিরাপত্তা রক্ষায় বিজিবি সর্বদা দৃঢ় প্রতিজ্ঞ এবং যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।
এদিকে দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলায় ঘাসুড়িয়া সীমান্ত দিয়ে ৫ নাগরিককে পুশইনের চেষ্টা ব্যর্থ করেছে বিজিবি। জোরদার করেছে টহল। জয়পুরহাট-২০ বিজিবি’র অধিনায়ক লে. কর্নেল লতিফুল বারী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। স্থানীয়রা জানায়, দিনগত রাতে ঘাসুড়িয়া সীমান্তের ওপারে ভারতীয় চকগোপাল এলাকার ২৮৮ নম্বর মেইন পিলারের ৪০-এস থেকে ৪৮-এস সাব-পিলার এলাকা দিয়ে বিএসএফ পুশইনের চেষ্টা করলে বিজিবি’র বাধায় তাদের সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়।
ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর সীমান্তে ১১ জনকে পুশইনের চেষ্টা করে বিএসএফ। বিজিবি’র কঠোর প্রতিরোধ ও অবস্থানের মুখে বিএসএফের এই অপতৎপরতা নস্যাৎ হয়ে গেছে। শনিবার ভোররাতে হরিপুর উপজেলার মশালগাঁও বিওপি’র সীমান্ত এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। অনুপ্রবেশের চেষ্টা ব্যর্থ হওয়া ১১ জন বর্তমানে ভারতীয় সীমান্ত রেখার ভেতরে শূন্যরেখার কাছাকাছি অবস্থান করছেন।
এদিকে লালমনিরহাটের তিনটি সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে ৩৩ জনের পুশইন ঠেকে দিয়েছে বিজিবি। তাদের কঠোর অবস্থানের কারণে বিএসএফ ওই ব্যক্তিদের ধাপে ধাপে ফিরিয়ে নিয়েছে। বিজিবি সূত্র জানায়, শুক্রবার ভোরে জেলার তিনটি পৃথক সীমান্ত পয়েন্টে মোট ৩৩ জন সন্দেহভাজন ব্যক্তির অবস্থান শনাক্ত করা হয়। এর মধ্যে তিস্তা ব্যাটালিয়নের (৬১ বিজিবি) আওতাধীন বড়খাতা সীমান্তে ১১ জন, পাটগ্রামের পয়ষট্টিবাড়ী সীমান্তে ১০ জন এবং আদিতমারী উপজেলার দিঘলটারী-দুর্গাপুর সীমান্ত এলাকায় ১২ জন ছিলেন।
সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের অবস্থান শনাক্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বিজিবি সীমান্তে অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করে এবং কৌশলগত অবস্থান গ্রহণ করে তাদের বাংলাদেশে প্রবেশে বাধা দেয়। ফলে দিনভর তারা শূন্যরেখা ও ভারতীয় সীমান্তের ভেতরে অবস্থান করলেও বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারেননি।
পুশইন ঠেকাতে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্তে বিশেষ অভিযান শুরু করেছে বিজিবি। কুষ্টিয়া-৪৭ বিজিবি’র ব্যাটালিয়নের আওতাধীন সীমান্তে এ অভিযান চালানো হয়। অভিযানে সীমান্তবর্তী এলাকায় নিয়মিত মাইকিং করা হচ্ছে। পাশাপাশি স্থানীয় সীমান্তবর্তী জনসাধারণকে সঙ্গে নিয়ে এ সচেতনতা সৃষ্টি করা হচ্ছে। কোনো সন্দেহজনক ব্যক্তি বা কার্যকলাপ চোখে পড়লে তাৎক্ষণিকভাবে বিজিবি ক্যাম্পে বা বিওপিকে অবহিত করার আহ্বান জানানো হয় স্থানীয়দের। টহল জোরদারের সংবাদ মিলেছে চুয়াডাঙ্গা থেকেও। বিজিবি সীমান্তে টহল জোরদার করার পাশাপাশি যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছে।
বিজিবি’র তরফে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, পুশইন প্রতিরোধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে বিজিবি। গত ২৪ ঘণ্টায় ৮টি পুশইন অপচেষ্টা প্রতিহত করেছে তারা। বিজিবি জানায়, ঝিনাইদহের মহেশপুর ব্যাটালিয়নের (৫৮ বিজিবি) দায়িত্বপূর্ণ যাদবপুর সীমান্তে ৩ জন ব্যক্তি ভারত থেকে বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করলে বিজিবি টহলদল সীমান্তের শূন্য লাইনে অবস্থান নিয়ে তাদের বাধা প্রদান করে। বিজিবি’র দৃঢ় অবস্থানের মুখে তারা বাংলাদেশে প্রবেশ করতে ব্যর্থ হয়ে ভারতের অভ্যন্তরে ফিরে যায়।
