বিশ্বকাপ শুরুর আগে ইউরোপসহ বিশ্ব ফুটবলের ক্লাবগুলোকে সুখবর দিলো আন্তর্জাতিক ফুটবল ফেডারেশন (ফিফা)। ২০২৬ বিশ্বকাপে জাতীয় দলের হয়ে খেলোয়াড় ছাড়ার জন্য ক্লাবগুলোকে রেকর্ড ৩৫ কোটি ৫৫ লাখ ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪ হাজার ১৭০ কোটি টাকা) দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে বিশ্ব ফুটবলের অভিভাবক সংস্থাটি। ফিফার ক্লাব বেনিফিট প্রোগ্রাম এর আওতায় এই অর্থ দেয়া হবে। টুর্নামেন্ট চলাকালীন খেলোয়াড়রা দেশের হয়ে খেলায় ব্যস্ত থাকায় ক্লাবগুলোর যে ক্ষতি হয়, তা পুষিয়ে দিতে এই উদ্যোগ নিয়েছে ফিফা। তবে এবারই প্রথম বিশ্বকাপের বাছাইপর্বে অংশ নেয়া খেলোয়াড়দের ক্লাবগুলোকে ক্ষতিপূরণ দেবে সংস্থাটি।
৩৫ কোটি ৫৫ লাখ ডলারের এই বিশাল তহবিলের মধ্যে ২৫ কোটি ডলার বরাদ্দ রাখা হয়েছে মূল আসরের জন্য। বাকি ১০ কোটি ডলার দেয়া হবে বাছাইপর্বের ম্যাচগুলোর জন্য। আর প্রশাসনিক খরচ বাদ দিয়ে অবশিষ্ট ৫০ লাখ ডলার ইউরোপীয় ক্লাব অ্যাসোসিয়েশনের (ইএফসি) সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী ক্লাব ফুটবলের সার্বিক উন্নয়নে খরচ করা হবে। ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, প্রতি খেলোয়াড় এবং দিন প্রতি হিসেবে ক্লাবগুলোকে এই অর্থ দেয়া হবে। অর্থাৎ, একটি ক্লাবের যত বেশি খেলোয়াড় বিশ্বকাপে অংশ নেবে এবং তারা যত দীর্ঘ সময় টুর্নামেন্টে টিকে থাকবে, সেই ক্লাব তত বেশি টাকা পাবে। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে এই তহবিলের আকার ছিল ২০ কোটি ৯ লাখ ডলার। যা ৫১ দেশের ৪৪০ ক্লাবের মধ্যে ভাগ করে দেয়া হয়।
এবারের বিশ্বকাপে জাতীয় দলের ক্যাম্পে যোগ দেয়ার দিন থেকে শুরু করে দলের বিদায়ের পরদিন পর্যন্ত প্রতিদিনের জন্য একজন খেলোয়াড়ের জন্য একটি ক্লাব ৫ হাজার ডলার (প্রায় ৫ লাখ ৮৫ হাজার টাকা) পাবে। আর বাছাইপর্বের ম্যাচের জন্য জনপ্রতি ২ হাজার ৩৬২ ডলার পাবে ক্লাবগুলো। অবশ্য কাতারের তুলনায় এবার দৈনিক ভাতার হার অর্ধেকেরও বেশি কমেছে। কাতার বিশ্বকাপে একজন খেলোয়ার ছাড়ার জন্য দৈনিক ১০ হাজার ৯৫০ ডলার পেতো ক্লাবগুলো। তবে এবার দল সংখ্যা ৩২ থেকে বেড়ে ৪৮ হওয়ায় এবং টুর্নামেন্টের মেয়াদ বাড়ায় ক্লাবগুলোর মোট আয় কাতার বিশ্বকাপের চেয়ে বেশি হবে।
ফিফার নির্দেশ অনুযায়ী, ২৫শে মে এর মধ্যে খেলোয়াড়দের ছাড়তে বাধ্য ছিল ক্লাবগুলো। সেই হিসেবে একটি দল যদি গ্রুপ পর্বের শুরুতেই (সর্বনিম্ন ১৪ দিন) বিদায় নেয়, তাও খেলোয়াড় প্রতি ওই ক্লাব সর্বনিম্ন ১ লাখ ৬০ হাজার ডলার (প্রায় ১ কোটি ৮৭ লাখ টাকা) পাবে। আর কোনো খেলোয়াড়ের দল যদি ৩৯ দিনের মিশন শেষ করে ফাইনালে ওঠে, তবে ক্যাম্পসহ মোট ৫৭ দিনের হিসাব অনুযায়ী তার ক্লাব একাই পাবে ২ লাখ ৮৫ হাজার ডলার (প্রায় ৩ কোটি ৩৪ লাখ টাকা)।
ইউরোপীয় ফুটবলের গ্রীষ্মকালীন দলবদলের সময় এবারের বিশ্বকাপ হওয়ায় চুক্তি শেষ হওয়া ও খেলোয়াড় দলবদলের ক্ষেত্রে ফিফা কিছু বিশেষ নিয়ম রেখেছে। কোনো খেলোয়াড়ের চুক্তি যদি ৩০শে জুন শেষ হয়ে যায় এবং তিনি ‘ফ্রি এজেন্ট’ বা ক্লাবহীন হয়ে পড়েন, তবে তার ক্লাব কেবল ৩০শে জুন পর্যন্তই টাকা পাবে। চুক্তি শেষ হওয়ার পর যদি কোনো খেলোয়াড় নতুন ক্লাবে যোগ দেন, তবে ৩০শে জুন পর্যন্ত টাকা পাবে সাবেক ক্লাব এবং ১লা জুলাই থেকে টুর্নামেন্ট শেষ হওয়া পর্যন্ত টাকা পাবে নতুন ক্লাব।
বিশ্বকাপ চলাকালীন যদি কোনো খেলোয়াড় সরাসরি এক ক্লাব থেকে অন্য ক্লাবে ট্রান্সফার হন, তবে ট্রান্সফার পেপার চূড়ান্ত হওয়ার দিন পর্যন্ত সাবেক ক্লাব এবং এরপর থেকে নতুন ক্লাব টাকা পাবে। কোনো খেলোয়াড় যেদিন থেকে সম্পূর্ণ ক্লাবহীন বা ফ্রি এজেন্ট থাকবেন, সেই দিনগুলোর জন্য ফিফা কোনো ক্লাবকে টাকা দেবে না। ২০১০ সালের দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপ থেকে ফিফা ও ইউরোপীয় ক্লাব অ্যাসোসিয়েশনের যৌথ চুক্তিতে এই নিয়ম চালু হয়।
