দীর্ঘ প্রায় পাঁচ বছর ধরে আটকে আছে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের অবসর ভাতার টাকা। শেষ বয়সে দ্বারে দ্বারে ঘুরেও পেনশনের অর্থ পাচ্ছেন না শিক্ষকরা। এই অবসর ভাতার প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকা লোপাট হয়েছে আওয়ামী লীগ সরকার আমলে। অনেক শিক্ষক এই টাকা না পেয়েই মৃত্যুবরণ করেছেন, অনেকে করছেন মানবেতর জীবন। বিএনপি সরকার গঠনের পর বিষয়টিতে জোর দেয়। শিক্ষকদের টাকা প্রদানে আগামী বাজেটে আসছে ৩ হাজার কোটি টাকা। ১ লাখের অধিক শিক্ষকদের পাওনা টাকা পরিশোধ করতে প্রয়োজন প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা। দীর্ঘদিন থমকে থাকা এই প্রক্রিয়া শুরু হতে চলেছে। এই অর্থ বছরে ৩ হাজার কোটি টাকার বরাদ্দ আসছে। শিক্ষকদের পাওনা টাকা দিতে অর্থ বিভাগে ডিও লেটার দেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। এরই প্রেক্ষিতে মিলেছে ৩ হাজার কোটি টাকার আশ্বাস।
শিক্ষকদের অবসর ভাতার টাকা প্রদানে সোচ্চার শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এ নিয়ে হয়েছে একাধিক বৈঠক। অপেক্ষায় থাকা ১ লাখ ৫ হাজার ৬৪৪ শিক্ষকের পাওনা মেটাতে প্রায় ৯ হাজার ৭৫৭ কোটি টাকা প্রয়োজন। অবসর সুবিধা বোর্ডে গত এপ্রিল মাস পর্যন্ত জমা হয়েছে ৫৯ হাজার ৮২০টি আবেদন। যা মেটাতে প্রয়োজন ৭ হাজার ১৭৬ কোটি টাকা। আর কল্যাণ ট্রাস্টের ৪৫ হাজার ৮২৪টি আবেদন নিষ্পত্তির জন্য দরকার ২ হাজার ৫৮১ কোটি টাকা। আওয়ামী আমলে টাকা নয়ছয় হওয়ায় ভেস্তে গেছে চেইন অব কমান্ড।
২০২৬ সালে এসেও এখনো ২০২২ সালের আবেদন জমা পড়া টাকাই দেয়া সম্ভব হয়নি। ফলে দীর্ঘদিন ধরেই ভুগছেন শিক্ষকরা। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে এ নিয়ে আলোচনা হলেও সুবিধা পাননি শিক্ষকরা। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বাজেট পর্যালোচনা সভায় এ সংক্রান্ত আলোচনা শেষে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানিয়েছেন, বিশেষ বরাদ্দ পেতে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে ইতিবাচক আশ্বাস মিলেছে।
একজন শিক্ষক মাসে ১০ শতাংশ জমা দেন। এর মধ্যে ৬ শতাংশ অবসর এবং ৪ শতাংশ কল্যাণ তহবিলে। শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে পাওয়া বার্ষিক ১০০ টাকাসহ মাসে প্রায় ৭৬ কোটি টাকা জমা হয়। কিন্তু এই সময়ে পাওনা নিষ্পত্তি করতে লাগে ১২৫ কোটি টাকা। যা সরকারের বরাদ্দ ও বন্ড থেকে আসে। অবসরের টাকার বিশাল ঘাটতি পূরণের জন্য অর্থ বিভাগে ডিও লেটার পাঠিয়েছিলেন শিক্ষামন্ত্রী। এতে তিনি অবসর সুবিধা বোর্ডের জন্য ২ হাজার কোটি এবং কল্যাণ ট্রাস্টের জন্য চান ১ হাজার কোটি টাকা।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, ৩ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের আশ্বাস মিলেছে। এ ছাড়াও এই প্রক্রিয়া সচল রাখতে চায় মন্ত্রাণলয়। ধাপে ধাপে এই অর্থ পাবেন তারা। নিয়মিত বরাদ্দ রাখার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুলক হক মিলন বলেন, শিক্ষকরা বৃদ্ধ বয়সে টাকার জন্য দ্বারে দ্বারে ঘুরেন- বিষয়টি আমাকে কষ্ট দেয়। এটি অমানবিক। বিষয়টি সুরাহা করতে ইতিমধ্যে আমরা আলোচনা করেছি। এর সুরাহা হয়তো একদিনে দেয়া সম্ভব নয়। আশাকরি ধীরে ধীরে শিক্ষকরা এর সুফল পাবেন।
