যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান নড়বড়ে যুদ্ধবিরতি আবারো পরীক্ষার মুখে। মার্কিন বাহিনী ইরানের ড্রোন ও রাডার স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। জবাবে উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে ইরান।
মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা হরমুজ প্রণালির দিকে ছোড়া চারটি ইরানি ‘ওয়ান-ওয়ে অ্যাটাক ড্রোন’ ভূপাতিত করেছে। তাদের দাবি, এসব ড্রোন আঞ্চলিক সামুদ্রিক চলাচলের জন্য তাৎক্ষণিক হুমকি সৃষ্টি করেছিল। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) বিবৃতিতে বলেছে, পরবর্তী হামলা প্রতিরোধ এবং আত্মরক্ষার উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থিত উপকূলীয় নজরদারি রাডার স্থাপনাগুলোতে আঘাত হানে। এর জবাবে ইরান কুয়েতে অবস্থিত দু’টি মার্কিন বিমানঘাঁটি এবং বাহরাইনে মার্কিন নৌবাহিনীর স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে বলে জানিয়েছে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইআরআইবি। সেন্টকম জানিয়েছে, কুয়েত ও বাহরাইনের দিকে ছোড়া সাতটি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে ছয়টি প্রতিহত করা হয়েছে এবং একটি ক্ষেপণাস্ত্র লক্ষ্যবস্তু পর্যন্ত পৌঁছাতে পারেনি। এপ্রিল মাস থেকে কার্যকর থাকা যুদ্ধবিরতি সাম্প্রতিক কয়েক দিনের পাল্টাপাল্টি হামলার কারণে চরম চাপের মুখে রয়েছে।
স্থানীয় কর্মকর্তাদের বরাতে জানা গেছে, বুধবার কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইরানি ড্রোন হামলায় একজন নিহত এবং ৬০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। তবে ইরানের ইসলামিক রেভ্যুলুশনারি গার্ড করপস (আইআরজিসি) বিমানবন্দরে হামলার দায় অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি, ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার একটি ভুলের কারণে। সেন্টকম এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, কুয়েত বিমানবন্দরে হামলাটি ছিল ইরানের ইচ্ছাকৃত, পরিকল্পিত এবং অযৌক্তিক আক্রমণ। এর আগে আইআরজিসি জানায়, ইরানের একটি তেলবাহী ট্যাংকার এবং কেশম দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার প্রতিশোধ হিসেবে তারা উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করেছে। দুই দেশের মধ্যে সংঘাত অব্যাহত থাকলেও যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিশ্বকাপ ফুটবল দলকে ভিসা দিয়েছে। আগামী ১৫ই জুন লস অ্যানজেলেসে তাদের প্রথম ম্যাচ হওয়ার কথা।
এটি হবে বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম ঘটনা, যেখানে কোনো আয়োজক দেশ এমন একটি দেশের দলকে স্বাগত জানাবে, যার সঙ্গে সে যুদ্ধাবস্থায় রয়েছে। এদিকে যুদ্ধবিরতি নিয়ে চলমান আলোচনা কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। যুদ্ধের অবসান ঘটাতে প্রস্তাবিত চুক্তি এগোচ্ছে না। মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প একটি সম্ভাব্য চুক্তির শর্তাবলীতে পরিবর্তনের অনুরোধ জানিয়েছেন। সোমবার ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, যুক্তরাষ্ট্র নিয়মিতভাবে তাদের অবস্থান পরিবর্তন করছে এবং নতুন কিংবা পরস্পরবিরোধী দাবি উত্থাপন করছে। গত ২৮শে ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানের বিরুদ্ধে ব্যাপক হামলা শুরু করে, যার ফলে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে। এর জবাবে ইসরাইল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর ওপর হামলা চালায় ইরান। কার্যত হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়।
বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস এই জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। এই তেল শুধু ইরান থেকেই নয়, বরং ইরাক, কুয়েত, কাতার, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো উপসাগরীয় দেশগুলো থেকেও আসে। হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম হঠাৎ বেড়ে যায়। এপ্রিলের শুরুতে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরপরই যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোর ওপর অবরোধ আরোপ করে। ডনাল্ড ট্রাম্প তখন বলেন, একটি চুক্তি সম্পাদিত, প্রত্যয়ন এবং স্বাক্ষরিত না হওয়া পর্যন্ত এই অবরোধ পূর্ণ শক্তিতে বহাল থাকবে।
