হানিট্র্যাপে ফেলে উবারচালককে হত্যা, গ্রেপ্তার ৪

ফন্ট সাইজ:

রাজধানীর দক্ষিণখানের তুরাগ নদে মো. লোকমান সরদার (৩৮) নামের এক উবারচালকের বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধারের ঘটনার রহস্য উদ্‌ঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভিস্টেগেশন (পিবিআই)। এ ঘটনায় প্রধান আসামিসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলো- চাকরিচ্যুত সেনা সদস্য মো. এস এম সালমান (২৯), মো. আদিব ইসলাম (১৯), জান্নাতুল ফেরদৌস মীম ওরফে আর্নবা মীম (২১) ও মো. সবুজ মিয়া (৩৫)। সংস্থাটি বলছে, প্রাইভেটকার ছিনতাই করতে হানিট্র্যাপে ফেলে ওই চালককে ডেকে আনে একটি চক্র। যার নেতৃত্বে রয়েছে চাকরিচ্যুত এক সেনা 
সদস্য। শনিবার আগারগাঁওয়ে পিবিআই ঢাকা মেট্রো উত্তর কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন সংস্থাটির অতিরিক্ত ডিআইজি মো. এনায়েত হোসেন মান্নান।

তিনি বলেন, গত ১লা জুন উত্তরার দক্ষিণখানের ফায়দাবাদ রাজাবাড়ী ঘাট এলাকার তুরাগ নদ থেকে অজ্ঞাত এক যুবকের বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার করা হয়। ফিঙ্গারপ্রিন্টের মাধ্যমে জানা যায়- তার নাম লোকমান সরদার। তিনি পেশায় উবারচালক। তাকে টঙ্গীর পাখির বাজার এলাকায় হত্যা করে লাশ তুরাগ নদে ফেলে দেয়া হয়। এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত একটি হানিট্র্যাপ চক্র। তারা কথিত স্বামী-স্ত্রীর পরিচয়ে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে দেহ ব্যবসা ও মাদকসেবনের প্রলোভন দেখিয়ে তরুণ, কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী, চালকসহ বিভিন্ন পেশার মানুষকে ফাঁদে ফেলতো। পরে তাদের কাছ থেকে অর্থ আদায় ও সর্বস্ব লুটে নেয়া হতো।

ঘটনার সূত্রপাত চারদিন আগে উল্লেখ করে মো. এনায়েত হোসেন মান্নান বলেন, গত ২৬শে মে রাতে এই চক্রটি পাখির বাজার বস্তি এলাকায় রাতভর মাদকসেবন করে। ভোরে তারা একটি উবার ডাকে এবং সালমান ও মীমসহ তিনজন লেকসিটির কনকর্ড টাওয়ার এলাকায় যান। সেখানে দু’জন নেমে যান এবং মীম গাড়িটি নিয়ে সাভার যায়। মূলত গাড়িটা ২ হাজার ৫০০ টাকায় তারা ভাড়া নেয় সাভারে গিয়ে কাস্টমারকে নিয়ে আবার ফিরে আসবে এমন চুক্তিতে। ফিরে আসার পরে তারা পরিকল্পনা করে, এই গাড়িটি ছিনতাই করবে।

পিবিআইয়ের এই কর্মকর্তা বলেন, চক্রটি ঈদের আগের দিন গাড়িটি ছিনতাই করার জন্য লোকমানকে ডেকে আনতে চেয়েছিল। কিন্তু লোকমান সেদিন ব্যস্ত থাকায় গাড়ি নিয়ে আসতে পারেনি। পরে ৩০শে মে মধ্য রাতে মীম লোকমানকে ফোন দেয় এবং হানিট্র্যাফে ফেলে টঙ্গীর পাখির বাজার এলাকায় ডেকে আনে। লোকমান সেখানে আসা মাত্রই চক্রের অন্য সদস্যরা তাকে ধরে মারধর শুরু করে। অভিযোগ তোলে, মীম সাভার যাওয়ার দিন তার কাছ থেকে ১ লাখ ৭৫ হাজার টাকা এবং দুই ভরি স্বর্ণ ছিনিয়ে নিয়ে গিয়েছে। একপর্যায়ে বাধ্য হয়ে লোকমান বিভিন্ন জায়গায় ফোন দিয়ে ১০ হাজার টাকা জোগাড় করে। তার সঙ্গে থাকা টাকাও নিয়ে যায় চক্রটি। এরপর আরও মারধর করে। একপর্যায়ে মারা গেলে মরদেহ বস্তাবন্দি করে তুরাগ নদে ফেলে দেয়।

তিনি আরও বলেন, গ্রেপ্তারকৃত এস এম সালমান একসময় সেনাবাহিনীর সদস্য ছিলেন। কিন্তু বিভিন্ন অপকর্মের কারণে তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়। চাকরিচ্যুত হয়ে সে অপরাধ জগতে মিশে যায়। আসামি জান্নাতুল ফেরদৌস মীম এবং আসামি এসএম সালমান নিজেদের স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে ঢাকা শহরের বিভিন্ন জায়গা বাসা ভাড়া করে থাকে। কিন্তু তারা স্বামী-স্ত্রী নয়। রহস্য উদ্‌ঘাটনে উত্তরা, তুরাগ, দক্ষিণখান, টঙ্গী, গাছা এবং কক্সবাজারের কলাতলী এলাকায় একাধিক অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে কক্সবাজারের কলাতলী এলাকা থেকে আদিব ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ছাড়া খিলক্ষেতের পূর্ব নামাপাড়া এলাকা থেকে এস এম সালমান ও জান্নাতুল ফেরদৌস মীমকে এবং টঙ্গীর পাখির বাজার মাজার বস্তি এলাকা থেকে সবুজ মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। গত ৪ঠা জুন গাজীপুরের গাছা থানার পশ্চিম ঝাঝর উত্তর খাইলকৈর এলাকার একটি ভিটাজমি থেকে নম্বরপ্লেটবিহীন অবস্থায় নিহতের ব্যবহৃত প্রাইভেটকারটি উদ্ধার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত আসামি এসএম সালমান আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানান তিনি।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন