ধর্ষিতার বাবা হয়ে থাকতে চাই না, গর্বিত পিতা হয়ে থাকতে চেয়েছি

ধর্ষিতার বাবা হয়ে থাকতে চাই না, গর্বিত পিতা হয়ে থাকতে চেয়েছি

ফন্ট সাইজ:

‘আমি তো একজন ধর্ষিতার বাবা হয়ে থাকতে চাই না। আমি তো গর্বিত পিতা হয়ে থাকতে চেয়েছি’। কথাগুলো বলেছেন, পল্লবীতে ধর্ষণ ও হত্যার শিকার শিশু রামিসা আক্তারের বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা। শনিবার রাজধানীর শহীদ আবু সাঈদ কনভেনশন সেন্টারে বিএনপি’র উদ্যোগে গঠিত ‘নিপীড়িত নারী ও শিশুদের আইনি ও স্বাস্থ্যসহায়তা সেল’-এর উদ্যোগে ‘বাংলাদেশে শিশু নির্যাতন ও করণীয়’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন।
গত ১৯শে মে পল্লবীর একটি ফ্ল্যাট থেকে ধর্ষণের শিকার রামিসার খণ্ডিত লাশ উদ্ধার করা হয়। ফ্ল্যাটটির বাসিন্দা আসামি সোহেল ঘটনার পর বাসার শৌচাগারের গ্রিল ভেঙে পালিয়ে যায়। বাসা থেকে তার স্ত্রী আটক হয়। একইদিন সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে সোহেলকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় রামিসার বাবা পল্লবী থানায় মামলা করেন। ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় রায় ঘোষণার দিন ধার্য করা হয়। আজ এই রায় ঘোষণা করা হবে।

বৈঠকে রামিসার বাবা বলেন, আমাদের প্রতিবছর-প্রতিনিয়ত, ৫২ বছর ধরে কখনো না কখনো, কোনো না কোনোভাবে আইন করা হয়। নানানভাবে, নানান ধরনের আইন করা হয়। কিন্তু সে আইনের বাস্তবায়ন খুব একটা দেখি না। বাস্তবায়ন কি সরকারই করবে? আমার কাছে তা মনে হয় না। সমাজের নাগরিক হিসেবে আমাদেরও কিছু দায়িত্ব আছে। দায়িত্বগুলো যদি আমরা পালন না করি- তাহলে এক ফ্ল্যাটের এক দরজা থেকে আরেক দরজার দূরত্ব তিন ফিট-এই তিন ফিটের ভেতরে আমরা একটা শিশুকে নিরাপত্তা দিতে পারি না। নিশ্চয়ই সরকার এই তিন ফিটের নিরাপত্তার দায়িত্ব নেবে না। সেখানে এক পরিবার থেকে আরেক পরিবারের পারিবারিক সম্পর্ক, পরিচিতি এবং সৌহাদ্যপূর্ণ সম্পর্ক আমরা যদি তৈরি না করতে পারি- তাহলে এরকম আরও হাজার হাজার রামিসা খণ্ড-বিখণ্ডিত হয়ে রাস্তায় পড়ে থাকবে। আর এই নরপিশাসরা তাকে খণ্ড-বিখণ্ড করবে।

অশ্রুসজল চোখে রামিসার বাবা আরও বলেন, আমি আজ একজন ধর্ষিতার বাবা হিসেবে পরিচিত। এটার দায়ভার কি আমি নেবো? না সমাজ নেবে? না রাষ্ট্র নেবে? জানতে চাই। আমি এটা জানতে চাই, এই দায়িত্ব কে নেবে? এই দায়িত্ব কি আমার অবহেলা? সমাজের অবহেলা? রাষ্ট্রের অবহেলা?

তিনি বলেন, আমি তো একজন ধর্ষিতার বাবা হয়ে থাকতে চাই না। আমি তো গর্বিত পিতা হয়ে থাকতে চেয়েছি। আপনারা আমাকে সেই নাম ফিরিয়ে দেন। আমাকে সেই সম্মান ফিরিয়ে দেন। যদি তা না পারেন, তাহলে আপনারা কী দিতে পারবেন? এমন একটা অন্তত সমাজব্যবস্থা দেন, যেই ব্যবস্থায় আর কোনোদিন বাবা-মায়ের বুক খালি হবে না। আর কোনো বাবা-মায়ের সারা জীবনের জন্য কান্নার পথ খোলা থাকবে না। সারা জীবন তারা জিন্দা লাশ হয়ে থাকবে না।

বিএনপি’র স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক মো. রফিকুল ইসলামের সঞ্চালনায় বৈঠকে আরও অংশ নেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নিপুণ রায় চৌধুরী, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের প্রধান অধ্যাপক কাজী গোলাম মোখলেছুর রহমান, আইনজীবী রাশনা ইমাম প্রমুখ।

ট্যাগসমূহ:

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন