নাটোরের বড়াইগ্রামে পৃথক দুই স্থানে সংঘটিত সংঘর্ষে কমপক্ষে ২০ জন আহত হয়েছে। শুক্রবার সন্ধ্যায় উপজেলার গোপালপুর শিবপুর গ্রামে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ত্রিমুখী সংঘর্ষে কমপক্ষে ১৫ জন আহত হয়েছে। শনিবার এই ঘটনায় থানায় তিনটি পৃথক অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
সংঘর্ষে আহতদের মধ্যে শিবপুর গ্রামের মৃত আইন প্রামাণিকের ছেলে ওয়াজ প্রামাণিক, আব্দুল করিম প্রামাণিকের ছেলে আদিল প্রামাণিক, আব্দুল মজিদ প্রামাণিকের ছেলে আব্দুল বারেক প্রামাণিক, আব্দুল করিম মোল্লার ছেলে কামরুল হাসান, মৃত ইয়াসিন প্রামাণিকের ছেলে ইসরাইল প্রামাণিক, শিবপুর গ্রামের সজীব হোসেন, গড়মাটি কলোনি গ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে আবু হানিফ, গোপালপুর কলোনি গ্রামের মৃত রমজান মণ্ডলের ছেলে আব্দুল আওয়াল, বাবুল মণ্ডলের ছেলে রাব্বি মণ্ডল, গোপালপুর কলোনি গ্রামের হাবিবুর রহমানের ছেলে মেহেদি হাসান এবং ওয়াহাব আলীর ছেলে ইলিয়াস হোসেনকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও বড়াইগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, গত ২৯শে মে ঈদের পরদিন গোপালপুর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে তুচ্ছ ঘটনার জের ধরে গোপালপুর মৃধাপাড়া এলাকার আবির হোসেনের সঙ্গে শিবপুর গ্রামের সজীব হোসেনসহ কয়েকজন যুবকের হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। গত শুক্রবার সন্ধ্যায় সজীব শিবপুর বাজারে গেলে আবির ও তার স্বজনরা তাকে মারপিট করে। এ সময় শিবপুর বাজারের ব্যবসায়ী আবু হানিফ মারপিট থামাতে এগিয়ে গেলে গোপালপুর কলোনির আবিরের স্বজনরা তাকেও মারপিট করে। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে পাশের গড়মাটি কলোনি থেকে হানিফের স্বজনরা লাঠিসোটা নিয়ে শিবপুর বাজারে আসে।
এ সময় গড়মাটি কলোনির লোকজনের সঙ্গে গোপালপুর কলোনির লোকজনের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরে আবিরের স্বজনসহ গোপালপুরের লোকজন বাজার ত্যাগ করে চলে গেলে গড়মাটি কলোনির লোকজন মারপিটের ঘটনায় শিবপুরের লোকজনকে দায়ী করে পুনরায় তাদের ওপর হামলা করে। পরে খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ব্যাপারে বড়াইগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুস ছালাম বলেন, এ ঘটনায় থানায় তিনটি পৃথক লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এদিকে শনিবার সকালে উপজেলার মাঝগাঁও তিরাইল গ্রামে বিবদমান ৪ ইঞ্চি জমির দখল নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত হয় কমপক্ষে ৬ জন।
আহতদের বড়াইগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
আহতরা হলেন- ওই গ্রামের মিজানুর রহমান, রেজাউল করিম, আব্দুল গফুর, শুকুর আলী, জহুরুল ইসলাম ও তোফাজ্জল। এ ব্যাপারে বড়াইগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুস ছালাম জানান, তিরাইলে জমি সংক্রান্ত ঘটনায় মারামারি হয়েছে শুনেছি। তবে থানায় এ ব্যাপারে শনিবার বিকাল ৫টা অবধি কোনো পক্ষ অভিযোগ দায়ের করেনি। অভিযোগ পেলে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নেয়া হবে।
