সিলেটের গোলাপগঞ্জে মাস্টার্স পাস গৃহবধূ ঝুমকি দেবের মৃত্যু আত্মহত্যা নয়, বরং যৌতুকের দাবিতে দীর্ঘদিনের মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের একপর্যায়ে সংঘটিত পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে অভিযোগ করেছেন তার পিতা সন্নৎ কুমার দেব ও এলাকাবাসী। শনিবার সিলেট প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ তুলে ধরে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়। লিখিত বক্তব্যে সন্নৎ কুমার দেব বলেন, গোলাপগঞ্জ উপজেলার বাঘা ইউনিয়নের গৌরাবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা ঝুমকি দেব ২০২৪ সালে ইতিহাস বিষয়ে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন। গত ৯ই মার্চ হেতিমগঞ্জ পূর্বপাড়া গ্রামের চঞ্চল দাসের সঙ্গে তার বিয়ে হয়।
বিয়ের পর থেকেই স্বামী চঞ্চল দাস, তার দুই ভাই সঞ্জিত দাস ও রঞ্জিত দাস, তাদের স্ত্রী নন্দিনী দাস ও নিপা দাস জেমি এবং আত্মীয় স্বপন দাস যৌতুকের দাবিতে ঝুমকিকে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন করতেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। সংবাদ সম্মেলনে তিনি দাবি করেন, কম দামের আসবাবপত্র ও স্বর্ণের চেইন না দেয়াকে কেন্দ্র করে ঝুমকিকে নিয়মিত অপমান করা হতো। পরে চঞ্চল দাস ব্যবসা করার জন্য ঝুমকির দুবাইপ্রবাসী ভাইয়ের কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা এনে দেয়ার জন্য চাপ দেন। এ দাবি পূরণে অপারগতা প্রকাশ করায় নির্যাতনের মাত্রা আরও বেড়ে যায়। তিনি জানান, গত ১২ই মে ঝুমকি বাবার বাড়িতে আসেন এবং ২২শে মে পুনরায় স্বামীর বাড়িতে ফিরে যান। ওই সময় তাকে প্রায়ই বিমর্ষ দেখা যেতো। বাবার বাড়িতে অবস্থানকালে তিনি স্বামীর মঙ্গলের জন্য টানা চারদিন উপবাস থেকে সাবিত্রী ব্রত পালন করেন। ২২শে মে তাকে স্বামীর বাড়িতে পৌঁছে দিতে গেলে প্রথমবারের মতো যৌতুকের দাবি এবং মেয়ের ওপর নির্যাতনের বিষয়টি জানতে পারেন বলে দাবি করেন সন্নৎ কুমার দেব।
তিনি জানান, গত ২৪শে মে দুপুরে ঝুমকি তার বোনের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বলেন। এরপর তার সঙ্গে পরিবারের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। সন্ধ্যায় স্বামীর পরিবারের পক্ষ থেকে ঝুমকির খোঁজ নিতে বলা হয় এবং পরে জানানো হয়, তিনি গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন গোলাপগঞ্জ উপজেলা বিএনপি’র সহসভাপতি সেলিম আহমদ, সালিশ ব্যক্তিত্ব মাহবুবুল আলম, বাঘা ইউপি বিএনপি সভাপতি নজরুর ইসলাম কলিম, ইউপি সদস্য ফররুক আল মাহমুদ, কাদির হোসেন বাবুল, আবুল হাসনাত, আবুল কালাম, হরিপদ দেব, বুলবুল আহমদ, সেবুল আহমদ, অবসরপ্রাপ্ত সার্জেন্ট মিজানুর রহমান প্রমুখ।
