নোয়াখালীতে ইসলামী ব্যাংকের ১০ কোটি টাকা আত্মসাৎ

নোয়াখালীতে ইসলামী ব্যাংকের ১০ কোটি টাকা আত্মসাৎ

ফন্ট সাইজ:

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার ২ নম্বর গোপালপুর ইউনিয়নে অবস্থিত একটি ইসলামী ব্যাংক এজেন্ট শাখাকে কেন্দ্র করে গ্রাহকদের অর্থ আত্মসাৎ ও প্রতারণার অভিযোগে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন শাখার মালিক ইশফাক ইয়াছিন ও তার ম্যানেজার জাকের। স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগ অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন গ্রাহকের হিসাব থেকে অনিয়মিতভাবে অর্থ উত্তোলন ও আত্মসাতের ঘটনা ঘটেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, গ্রাহকদের ফিঙ্গারপ্রিন্ট ব্যবহার করে তাদের অজান্তে লাখ লাখ টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। স্থানীয়দের একাংশের ভাষ্যমতে, ইশফাক ইয়াছিন বেশির ভাগ সময় ঢাকায় অবস্থান করতেন এবং এজেন্ট শাখার দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনা করতেন তার ম্যানেজার জাকের।

অভিযোগ রয়েছে, জাকের গ্রাহকদের সঙ্গে প্রতারণার মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করেন এবং কিছুদিন আগে দেশ ছেড়ে ব্রাজিলে চলে যান। তবে এ তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এদিকে অভিযোগ উঠেছে, গত ১লা জুন দুপুরে ইশফাক ইয়াছিন চন্দ্রগঞ্জ শাখা থেকে প্রায় ১৯ থেকে ২০ লাখ টাকা উত্তোলনের পর থেকে নিখোঁজ রয়েছেন। ভুক্তভোগীদের দাবি, বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে তিনি প্রায় ৮ থেকে ১০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন। অভিযোগকারীদের কেউ কেউ আরও দাবি করেছেন, ইশফাক ইয়াছিন পূর্ব থেকেই অস্ট্রেলিয়ায় যাওয়ার প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছিলেন।

তাদের আশঙ্কা, তিনি দেশত্যাগ করে অস্ট্রেলিয়ায় চলে যেতে পারেন অথবা ইতিমধ্যে সেখানে পৌঁছে গেছেন। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয়দের অভিযোগ, শুধু সাম্প্রতিক সময়ে নয়, বিগত অনেকদিন ধরেই বিভিন্ন গ্রাহকের হিসাব থেকে অর্থ গায়েব হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এসব অনিয়মের সঙ্গে ইশফাক ও তার ম্যানেজার জাকের উভয়েই জড়িত থাকতে পারেন বলে তাদের ধারণা। অভিযোগ রয়েছে, রাজনৈতিক পরিচয়ের আড়ালেও তারা প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেছেন।

স্থানীয়দের কেউ কেউ দাবি করেছেন, ইশফাক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জামায়াতে ইসলামীর বিভিন্ন নেতা এবং রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে তোলা ছবি প্রকাশ করতেন। তবে স্থানীয় জামায়াতে ইসলামীর নেতারা দাবি করেছেন, ইশফাক ইয়াছিন তাদের কোনো সাংগঠনিক কর্মী নন। যদিও তিনি বিভিন্ন সময় জামায়াত ও বিএনপি’র নেতাকর্মীদের সঙ্গে চলাফেরা করতেন বলে জানা যায়। অন্যদিকে স্থানীয় সূত্রের দাবি অনুযায়ী, ম্যানেজার জাকের বিএনপি’র রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। এ বিষয়ে স্থানীয় বিএনপি নেতারা বলেন, অপরাধীর কোনো রাজনৈতিক পরিচয় নেই।

অপরাধীকে অপরাধী হিসেবেই দেখতে চাই এবং দ্রুত তাদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানাই। এ ছাড়া অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন, প্রতারণা সংক্রান্ত একটি মামলায় ঢাকার একটি আদালতে ইশফাক ইয়াছিনের বিরুদ্ধে বিচারিক কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তবে মামলাটির বর্তমান অবস্থা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এ ঘটনায় সাধারণ মানুষের দাবি, রাজনৈতিক বিতর্কে না জড়িয়ে অভিযুক্তদের দ্রুত খুঁজে বের করে আইনের আওতায় এনে ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের অর্থ ফেরত নিশ্চিত করা হোক।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন