মাত্র ৩৫ বছর বয়স। যখন জীবনকে উপভোগ করার কথা, সন্তানদের হাসিমুখে বুকে জড়িয়ে আগামীর স্বপ্ন বোনার কথা, ঠিক তখনই এক গৃহবধূর জীবনে নেমে এসেছে মৃত্যুর কালো ছায়া। জীবন ও মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে এখন প্রতিটা রাত নির্ঘুম কাটছে গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার তেলিয়ান গ্রামের বুলি বেগমের। নিজের অবুঝ দুই সন্তানের ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থাকা মুখের দিকে চেয়ে অঝোরে চোখের পানি ঝরানো ছাড়া আর কিছুই করার নেই তার। কারণ এক মরণব্যাধি বাসা বেঁধেছে তার শরীরে। তিনি লিভার ক্যান্সারে আক্রান্ত। বগুড়া, গাইবান্ধা, রংপুর এবং ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতাল ঘুরে বুলির চিকিৎসা এখন চলছে সিরাজগঞ্জের খাজা ইউনুস আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সেখানে তাকে কেমোথেরাপিসহ বিভিন্ন চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।
তবে এই ব্যয়বহুল চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া এখন তার পরিবারের পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়েছে। বুলির স্বামী সাইফুল ইসলাম জানান, স্ত্রীর চিকিৎসার খরচ জোগাতে গিয়ে তার জীবনের সব সঞ্চয় গত ঈদের আগেই শেষ হয়ে গেছে। চিকিৎসকরা তাকে বাঁচিয়ে রাখতে নিয়মিত কেমোথেরাপি দেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। কিন্তু বর্তমানে সাইফুল সম্পূর্ণ নিঃস্ব। একদিকে স্ত্রীর এই মরণব্যাধি, অন্যদিকে এক বুক একাকিত্ব ও শোকের পাহাড় চেপে বসেছে এই পরিবারের ওপর। সাইফুল বলেন, গত ঈদের মাত্র কয়েকদিন আগে আমার মা মারা যান।
এখন আমার ছোট ছোট বাচ্চা দু’টিকে দেখাশোনা করার মতো ঘরে কেউ নেই। একদিকে মায়ের মৃত্যুর শোক, অন্যদিকে স্ত্রীর জীবন প্রদীপ নিভে যাওয়ার শঙ্কা। বুলির বর্তমান চিকিৎসক ডা. আফজাল হোসাইন জানিয়েছেন, সঠিক সময়ে নিয়মিত কেমোথেরাপিসহ উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করা গেলে তাকে সুস্থ করে তোলা সম্ভব। কিন্তু তার জন্য যে বিপুল অর্থের প্রয়োজন, তা জোগানো সাইফুলের একার পক্ষে কোনোভাবেই সম্ভব নয়। তাই সাইফুল সমাজের বিত্তবান ও হৃদয়বান মানুষদের কাছে সহযোগিতার আবেদন জানিয়েছেন। বুলির এই মানবিক আর্তনাদ এবং দু’টি অবুঝ শিশুর ভবিষ্যৎ এখন ঝুলে আছে সমাজের মানবিক মানুষদের সামান্য সহানুভূতির ওপর।
